কোম্পানি সিএফও’র ধমক এবং আমাদের প্রত্যাশা

Editorialতালিকাভুক্তির মাত্র ৮ দিনের মাথায় রিজেন্ট টেক্সটাইল মিলস লি: নামের একটি কোম্পানির শেয়ার দর ইস্যু মূল্যের থেকে ৫.৭০ টাকা কমেছে। অথচ কোম্পানিটি ১০ টাকা ফেস ভ্যালুর সাথে ১৫ টাকা প্রিমিয়ামসহ মোট ২৫ টাকা করে প্রতিটি শেয়ারের জন্য বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে সংগ্রহ করেছে। দুর্ভাগ্যের বিষয় যেদিন স্টক এক্সচেঞ্জগুলোয় এ কোম্পানির শেয়ার লেনদেন শুরু হয় সেদিন থেকেই এর দর পড়া শুরু করে এবং টানা ৪ কার্যদিবস দর পড়তে থাকে। এরপর একদিন দর বেড়ে তারপর আবার টানা ৩ দিন দর পড়ে যায়। অর্থাৎ ৮ দিনের মাথায় কোম্পানিটির ২৫ টাকার উদ্বোধনী দর এসে দাড়ায় ১৯.৩০ টাকা। অনেকেই বলছেন পুঁজিবাজারে আইপিওর ইতিহাসে এমনটি ঘটনা আর ঘটেনি। তাই অনেক বিনিয়োগকারী শেয়ার বাজার নিউজকে টেলিফোন করে অনুরোধ করেছিলেন, কোম্পানির সাথে যোগাযোগ করে যেনো এর কারণসহ একটি নিউজ করা হয়। সেই সৎ উদ্দেশ্য নিয়েই পত্রিকাটির একজন রিপোর্টার কোম্পানিটির সাথে যোগাযোগের চেষ্টা চালায়। অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে যোগাযোগ করা সম্ভব হয় কোম্পানি চিফ ফিন্যান্সিয়াল অফিসারের (সিএফও) সাথে। তিনি আমাদের সাংবাদিকের পরিচয় জেনেই হুংকার দিয়ে বলেন, উদ্বোধনী দিনেই দর কমেছে তাতে আপনাদের কি? ওই সাংবাদিক খুব বিনয়ের সাথে তাকে জানান, বিনিয়োগকারীরা আপনাদের এখানে বিনিয়োগ করেছেন লাভের জন্য, আপনারা গত তিন বছর লাভ দেখিয়ে বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন, আর প্রথম দিন থেকেই তার দর পড়তে থাকবে কেনো? সিএফও মহোদয়ের পরিষ্কার জবাব, কিভাবে কার কাছ থেকে টাকা নিয়েছি সেটি আমাদের ব্যাপার। আপনারা এর মধ্যে নাক গলাতে আসবেন না। ওনার এই বক্তব্য শুনে অনেকেই বলেছেন, পরের ধনে পোদ্দারী একেই বলে।

আমরা সিএফও মহোদয়ের বিপক্ষে কিছুই লিখব না। শুধু বিনীতভাবে জানতে চাইব, বাজার থেকে যে টাকা তুলেছেন সে টাকা কি আপনার বাবার? যা হাতে পাওয়ার পর নিজের সম্পত্তি বলে ভাববেন? কোথায় কাকে পয়সা দিয়ে কিংবা কাকে কিভাবে বসিভূত করে আইপিওর মাধ্যমে টাকা তুলেছেন এ প্রশ্ন আমরা করবো না। কারণ আমরা জানি, ভূতের অবস্থানতো সরিষার ভেতরেই। কাজেই ওই ঔদ্ধত্বপূর্ণ বক্তব্যের জন্য সিএফওকেতো দায়ী করা যায়না। বরং যারা সরকারী পদ লাভ করে জনগণের স্বার্থ রক্ষার দায়িত্ব পেয়েও ওই সিএফও’র কাছে নিকাহ বসেছেন তারাই এর জন্য দায়ী। দেশের লক্ষ লক্ষ বিনিয়োগকারী তাদের কাছে হাতের মোয়া। বিনিয়োগকারীদের পুরো মাথাটা কেটে নিলেও বিনিয়োগকারীদের বলার কোনো প্লাটফরম নেই। অভিযোগ জানানোর কোনো জায়গা নেই। তাই তাদের পকেট যত কাটা যায় সবাই মিলে কাটবে কেউ কিছু বলতে পারবেনা। আর সেকারনেই সিএফও সাহেব সাংবাদিকদের ওপর গোস্বা হয়েছেন। সংশ্লিষ্ট সব পক্ষগুলোকে ম্যানেজ করতে তিনি কত টাকাই না ব্যয় করেছেন। দিনের পর দিন তাদের পেছনে দৌড়িয়েছেন। তারপর অনুমোদন আদায় করেছেন। কাজেই সাংবাদিকদের কাছে তিনি কৈফিয়ত দিবেন কেনো?

আমাদের বিশ্বাস রিজেন্ট টেক্সের এই সিএফও আগামী দিনের আইপিওতে আসা কোম্পানিগুলোরই প্রেতাত্না। গত পাঁচ বছর ধরে যে কোম্পানিগুলোকে অনুমোদন দেয়া হয়েছে সেগুলোর অধিকাংশই ভালো কোন ফল দিতে পারেনি। অথচ ব্যাংক থেকে তাদের টাকা তুলতে গেলে কম করে হলেও ১৮ শতাংশ সুদ দিয়ে টাকা নিতে হতো। আর এই বিনিয়োগকারীদের টাকার কোনো লভ্যাংশ প্রথম বছর থেকেই দেয়না এমন অনেক কোম্পানিও আছে। তাদেরকে কোনো কৈফিয়তও কারো কাছে দিতে হচ্ছেনা। এর কারণ হিসাবে কয়েকজন বিনিয়োগকারী আমাদের জানিয়েছেন, তারা কোম্পানিটিকে তালিকাভুক্তির জন্য যে টাকা ব্যয় করেছেন সেই টাকাই বিনিয়োগকারীদের ডিভিডেন্ড দিতো। যেহেতু টাকা দিয়ে অনুমোদন করিয়েছেন তাই বিনিয়োগকারীদের কিছু দিতে পারছেন না। ডিভিডেন্ড না দিলে কোনো জেল নাই জরিমানা নাই, সতর্ককারী নোটিশ নাই, এমনকি এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করার মতোও কেউ নেই। কাজেই কেনো ডিভিডেন্ড দিবে? সে কারনেই দর যতই কমুকনা কেনো সিএফও’র তাতে কিছুই যায় আসেনা। বরং তাদের কাছ থেকে সাংবাদিকদের ধমকই শুনতে হয়। খুব দ্রুতই এ অবস্থার অবসান ঘটুক এই প্রত্যাশা আমাদের।

আপনার মন্তব্য

Top