বিদেশী আদলে লেনদেন ব্যবস্থা এ দেশে মানায় না

Dse-logo-2-704975দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) নতুন রূপে চালু হলো নেক্সট জেনারেশন অটোমেটেড ট্রেডিং সিস্টেম। এ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিদেশী আদলে আর্বিভাব হয়েছে। কিন্তু বিদেশী আদলে লেনদেন ব্যবস্থা আমাদের দেশের শেয়ারবাজারে কতটুকু সফল হবে তা সংশ্লিষ্টদের ভেবে দেখা উচিত বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা। একইসঙ্গে বিদেশী আদলে লেনদেন আমাদের এ বাজারে মানায় না।

তাদের মতে, বিদেশী শেযারবাজারের কালচার আর আমাদের শেয়ারবাজারে কালচার এক নয়। কারণ অধিকাংশ বিনিয়োগকারী সাধারনত ব্রোকারেজ হাউজের স্কিনের সামনে বসে কোম্পানির শেয়ারের লেনদেনকৃত সংখ্যা, সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন দর দেখে সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু বর্তমান ব্যবস্থায় সেটা দৃষ্টিগোচর হতে সময় লাগে। একইসঙ্গে একটা শেয়ার বিক্রি করে আরেকটা শেয়ার ক্রয় আদেশ দিতে সময় নিচ্ছে। ফলে বিনিয়োগকারীরা তাদের চাহিদা অনুযায়ী লেনদেন কার্যক্রম চালাতে হিমশিম খাচ্ছে।

বাজার সংশ্লিষ্টরা জানান, শেয়ারবাজারে এ ধরনের একটা উদ্যোগ নেয়ার আগে রেগুলেটেড প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকে ব্রোকারেজ হাউজের আইট্রেডারের ন্যায় সব ধরনের বিনিয়োগকারীদের অবহিত করতে এবং এর সার্বিক কার্যক্রম কিভাবে করতে হবে তার ওপর ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন ছিল। কিন্তু সেটা না করে শুধু ব্রোকারেজ হাউজগুলোর সংশ্লিষ্টদের ট্রেনিং দেয়া হয়েছে। অপরদিকে সাধারণ বিনিয়োগকারী বিদেশী আদলে এ ধরনের লেনদেন ব্যবস্থায় শেয়ারবাজার ইতিহাসে লেনদেন চালুর সঙ্গে সঙ্গে কিংকর্তব্যবিমুঢ় হয়ে পড়তে দেখা গেছে হাউজগুলোতে। কারণ আগে হাউজগুলোতে স্ক্রোলে যেকোন কোম্পানির শেয়ার লেনদেন দর দেখে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নিতে পারত। কিন্তু এখন তারা সেটা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। একইসঙ্গে বিনিয়োগকারীরা আগে শেয়ার কেনার ক্ষেত্রে পার্চেস পাওয়ার পেত সেটা বর্তমান ব্যবস্থায় নেই। অন্যদিকে লট প্রথা সেকেন্ডারি মার্কেটে ভেঙ্গে গেলেও আইপিও মার্কেটে বহাল রাখায় বাজারে বিনিযোগকারীদের মধ্যে এক ধরনের বৈষম্য সৃষ্টি হতে পারে।

এ বিষয়ে অর্থনীতিবিদ ও বাজার বিশ্লেষক আবু আহমেদ বলেন, শেয়ারবাজারে ডিএসই নতুন ট্রেডিং প্ল্যাটফর্মের সফটওয়্যার চালু করেছে এটা ভাল কথা। তবে বিষয়টি সম্পূর্ণ বিদেশী শেয়ারবাজারের আদলে সংযোজন করা হয়েছে। কিন্তু এটা আমাদের দেশের শেয়ারবাজার ও বিনিয়োগকারীদের জন্য মানানসই নয়। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, আগে বিনিয়োগকারীরা স্ক্রিনে স্ক্রুল দেখে সহজেই সিদ্ধান্ত নিতে পারত। এরপরে শেয়ার বাই সেলের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির মোট লেনদেন ও টাকার পরিমাণ একসঙ্গে দেখতে পেত। কিন্তু বর্তমান ব্যবস্থায় সেটা নাই। এতে নতুন সফটওয়্যার বাজারের জন্য হিতে বিপরীত হতে পারে বলে মনে করছেন।

তিনি আরো বলেন, বিদেশী শেয়ার মার্কেটে যেসকল ইনস্ট্রুমেন্ট থাকে এবং সম্প্রসারিত বাজারে তাদের ট্রেড ভলিউম অনেক বড়। কিন্তু আমাদের দেশের শেয়ার মার্কেটে ট্রেড ভলিউম ও ইনস্ট্রুমেন্টের মধ্যে অনেক ব্যবধান রয়েছে। তাই সংশ্লিষ্ট রেগুরেটেড প্রতিষ্ঠানকে বিষয়টি আরো গভীরভাবে দেখে এ ধরনের লেনদেন ব্যবস্থা কার্যকর করা উচিত বলে এ অর্থনীতিবিদ মনে করেন।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ পুজিঁবাজার বিনিয়োগকারী জাতীয় ঐক্যের সভাপতি রুহুল আমিন আকন্দ বলেন, ডিএসইর নতুন সফটওয়্যারে এক ধরনের অস্পষ্টতা রয়েছে। আগে ট্রেডিং শুরু হওয়ার সাথে সাথে স্ক্রিনের স্ক্রুলে সকল কোম্পানির দর তাৎক্ষনিক দেখা যেত। নিটিংয়ের সুবিধা এবং পার্চেস পাওয়ার সুবিধা ছিল। বর্তমান ট্রেডিং সিস্টেমে সেটা নেই। একইসঙ্গে শেয়ারের লেনদেন হাওলা চার্জের বিষয়টি অমিমাংসাশিত যা এ ধরনের দামি একটা সফটওয়ারে না থাকাটা অস্পষ্টতা।

এ নেতা আরো বলেন, বর্তমান সফটওয়্যারে পূর্বের ন্যায় কোন সুবিধা না থাকায় বাজার অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে। এ অবস্থায় আগামী তিন কার্য দিবসের মধ্যে নতুন সফটওয়্যারের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ উন্নয়ন ও বাজার স্থিতিশীল না হলে পূর্বের এমএসএ প্লাস সফটওয়্যার বহাল রাখার সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্টদের নেয়ার দাবি জানিয়েছেন বিনিয়োগকারীদের এ নেতা।

আপনার মন্তব্য

Top