দয়া করে স্পর্শকাতর বাজারকে কলঙ্কিত করবেন না

Editorialশুধু বাংলাদেশেই নয় বিশ্বব্যাপী ‘পুঁজিবাজার’ একটি স্পর্শকাতর জায়গা। সামান্যতম নেতিবাচক খবরে এখানে বাজারের জন্য যেমন বয়ে অনতে পারে বড় ধরনের পতন তেমনি ভাল খবরের জন্যও ঘটতে পারে অনেক ঘটনা। আমরা পতন কিংবা বড় উত্থান কোনটির পক্ষেই নই। বরং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো বাজারকে তার আপন গতিতে চলতে দিবে এটাই চাই আমরা। বিশেষ করে বাজারের সাথে যারা সংশ্লিষ্ট তাদেরকে নিয়ে যদি কখনো নিউজের শিরোনাম হয় সেটি সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে, বিষয়টি অনেক পুরাণো হলেও আমাদের দেশের প্রতিষ্ঠান প্রধানরা কখনোই এটিকে আমলে নেন না। এরই পরিণতিতে আমাদের দেখতে হয়, নিয়ন্ত্রন সংস্থার প্রধান থেকে শুরু করে সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান প্রধানের বিরুদ্ধে সম্পদ তসরুপের অভিযোগ কিংবা দুর্নীতির মামলা। শুধু পুঁজিবাজারের জন্যই নয় আমরা মনে করি  এ ধরনের ঘটনা আমাদের গোটা জাতির জন্যই লজ্জার।

বিষয়টি নতুন করে উঠে এসেছে রাষ্ট্রয়াত্ব ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) সাবসিডিয়ারি মার্চেন্ট ব্যাংক আইসিবি ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট লিমিটেডের চেয়ারম্যান ফায়েকুজ্জামান এবং পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী মো. মশিউর রহমানকে দুর্নীতির অভিযোগে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুদক কার্যালয়ে তলবের প্রেক্ষাপটে।রাষ্ট্রায়াত্ত প্রতিষ্ঠানটির এই দুই কর্মকর্তার গ্রাহক প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। যে অভিযোগের অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদক নাকি এরই মধ্যে অভিযোগটির প্রয়োজনীয় নথিপত্র তাদের হস্তগত করেছে। শেয়ারবাজার নিউজ ডটকমসহ অন্যান্য গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে অভিযোগটির ব্যাপারে জানা গেছে, আইসিবি ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট লিমিটেডের গ্রাহক মেজর (অব.) মো. আবদুর রাজ্জাক ২০০৯ সালের ৭ অক্টোবর শেয়ারবাজারে তিনি ও তার স্ত্রীর নামে দুটি হিসাব (হিসাব নম্বর ৮৮৫০ ও ৮৮৫১) খোলেন। পরবর্তী সময়ে তিনি চার লাখ টাকা দিয়ে গ্রামীণফোনের শেয়ার ক্রয় করেন। আবদুর রাজ্জাক কোনো মার্জিন ঋণ গ্রহণ না করলেও ২০১৪ সালের ১৯ জুন আইসিবি ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট লিমিটেডের পক্ষ থেকে চিঠি দিয়ে তাকে মার্জিন ঋণের কথা জানানো হয়।
চিঠিতে বলা হয়, বিনিয়োগ হিসাব ৮৮৫০ এর বিপরীতে ছয় লাখ ৪২ হাজার ৮৫ টাকা মার্জিন ঋণ নেওয়া হয়েছে। ঋণ পরিশোধ ও সমন্বয়ের জন্যই মূলত ওই চিঠি দেওয়া হয়। একইভাবে আবদুর রাজ্জাকের স্ত্রী জাহানারা পারভীনের নামেও ৯ লাখ টাকা মার্জিন ঋণ দেখানো হয়েছে। এভাবে স্বামী-স্ত্রীর নামে মোট প্রায় সাড়ে ১৫ লাখ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

আইসিবির একটি সাবসিডিয়ারি কোম্পানি কিংবা অন্য কোনো ব্রোকারেজ হাউজ সেটির মালিকানা যারই থাকুনা কেন এদের হাতে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা অত্যন্ত আস্থা এবং বিশ্বস্ততার সাথে নিজেদের কষ্ঠার্জিত অর্থ সমর্পণ করেন। এই বিশ্বাসের জায়গাটি যখন ভেঙ্গে যায় তখন এ ঘটনার প্রভাব পড়ে গোটা বাজারের ওপর। একজন ব্যক্তির অবিশ্বস্ততা প্রতিটি ব্রোকারেজ হাউজের মালিককে অবিশ্বাসী হতে পরিণত করে। আমরা মনে করি এ ধরনের ঘটনাকে কিছুতেই বরদাস করা ঠিক নয়। পুঁজিবাজারের স্বার্থেই এ ঘটনাগুলোকে প্রতিহত করা দরকার। আমাদের দৃষ্টিতে হাউজগুলোর হাতে বিনিয়োগকারীদের গচ্ছিত অর্থ পবিত্র আমানত। এই আমানতের খেয়ানত যারা করে তারা অপরাধী। সে যেই হোক অপরাধী হিসাবেই তার বিচার হওয়া উচিত। আমরা এ ধরনরে প্রতিটি ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেখতে চাই। কারণ একটি বিচারের শাস্তি দেখে যেন আর কোন অর্থ লিপ্সু কর্মকর্তা  টাকা কামানোর জন্য ও পথে পা না বাড়ায়।

আপনার মন্তব্য

Top