বুক বিল্ডিং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষা করবে: ইফতিখার-উজ-জামান

Iftikhar-uz-zamanবুক বিল্ডিং পদ্ধতি নিয়ে পুঁজিবাজারে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সমালোচনা চলছে। তারা মনে করছেন বুক বিল্ডিং পদ্ধতি বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষা করবে না। অপরদিকে পুঁজিবাজারে তারল্য সঙ্কট চলছে। এছাড়া নেগেটিভ ইক্যুইটির কারণে মার্জিন ঋণ পরিশোধ করতে পারছে না বিনিয়োগকারীরা। আর এসব সঙ্কট নিয়ে শেয়ারবাজারনিউজ ডটকমের সাথে কথা বলেছেন ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি) এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো: ইফতিখার-উজ-জামান। স্বাক্ষাতকারের চুম্বক অংশ শেয়ারবাজারনিউজ ডটকমের পাঠকের জন্য প্রকাশ করা হলো। স্বাক্ষাতকারটি নিয়েছেন শেয়ারবাজারনিউজ ডটকমের নিজস্ব প্রতিবেদক রুহান আহমেদ।

শেয়ারবাজার নিউজ: পাবলিক ইস্যু রুলস ২০১৫ অনুযায়ী তালিকাভুক্তির সময় কোন কোম্পানি প্রিমিয়াম চাইলে তাকে বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে আসতে হবে। এটা সাধারণ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ কতটা রক্ষা করবে?

ইফতিখার-উজ-জামান: আমার মনে হয় এ বিষয়টা পুরোপুরি সাধারণ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষা করবে। কেননা বুক বিল্ডিংয়ের সময় শেয়ারের ইস্যু প্রাইস মার্কেট প্লেয়ার্স কর্তৃক নির্ধারিত হবে। কোন বিনিয়োগকারীই চাইবে না বেশি বিনিয়োগ করে কম মুনাফা পাওয়া এবং এখানেও তাই। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা চাইবেই কম মূল্যে ইস্যুটি ক্রয় করার জন্য। এছাড়া প্রাইস ডিসকভারী বা মূল্য নির্ধারিত হবার পরও ১০ শতাংশ কম দরে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা শেয়ার পাচ্ছেন। এতে আমাদের বিনিয়োগকারীদের বঞ্চিত হওয়ার কোন সুযোগ রয়েছে বলে আমার মনে হয় না।

শেয়ারবাজার নিউজ: বর্তমান বাজার পরিস্থিতিকে কিভাবে মূল্যায়ন করছেন?

ইফতিখার-উজ-জামান: বাজারের পরিস্থিতি তো সবাই একই রকম দেখছে। তবে আমরা সব সময়ই বাজার নিয়ে আশাবাদী।

শেয়ারবাজার নিউজ: বর্তমান বাজারে যে তারল্য সংকট চলছে তা কাটিয়ে উঠতে স্টেক হোল্ডাদের করণীয় কি?

ইফতিখার-উজ-জামান: বর্তমানে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীর অংশগ্রহন খুবই কম লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আর এ ক্রান্তিকালে সংশ্লিষ্ট সবাইকে একসাথে মিলে বাজারকে উঠে দাঁড়াতে সাহায্য করতে হবে।

শেয়ারবাজার নিউজ: ব্যাংক কোম্পানি আইনে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত নয় এমন কোম্পানিতে বিনিয়োগ পুঁজিবাজার এক্সপোজার হিসেবে ধরতে বলা হয়েছে। এটা কতটা যৌক্তিক?

ইফতিখার-উজ-জামান: এটি বাংলাদেশ ব্যাংকের বিষয়। এ বিষয়ে আমরা নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনকে (বিএসইসি) অনুসরণ করি।

শেয়ারবাজার নিউজ: ক্ষতিগ্রস্থ বিনিয়োগকারীদের মার্জিন ঋণের সুদ মওকুফের বিষয়ে আপনাদের যে উদ্যোগ ছিল এখন তা কি অবস্থায় আছে?

ইফতিখার-উজ-জামান: ইতিমধ্যে মার্জিন ঋণের সুদ মওকুফ করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। আমরা ২০১০ সালের পর থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত যারা মার্জিন ঋণে জর্জরিত তাদের সুদ মওকুফ করেছি।

শেয়ারবাজার নিউজ: প্রণোদনা প্যাকেজের যে ৯ শত কোটি টাকা দেয়া হয়েছে তা খুবই কম বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্ট অনেকেই। এ বিষয়ে আপনি কি মনে করেন?

ইফতিখার-উজ-জামান: যে ৯ শত কোটি টাকা ছাড় দেয়া হয়েছে তা বিনিয়োগকারীরা এখনো নিয়ে শেষ করতে পারেনি। যদি তা শেষ হয়ে যেত তবে আমরা আবার বাড়ানোর জন্যে উদ্যোগ নিতাম। যেহেতু এখনো ৯ শত কোটি টাকাই নিতে পারেনি সেটা যথেষ্ট বলে আমার মনে হয়। তবে শেষ হয়ে গেলে আমরা বিষয়টি নিয়ে ভেবে দেখব।

শেয়ারবাজারনিউজ/রু

আপনার মন্তব্য

Top