সামনে বাজার আরো বেশি সচল হবে- ইয়াওয়ার সাঈদ

দেশের অন্যতম অ্যাসেট ম্যানেজার এইমস অব বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইয়াওয়ার সাঈদ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ থেকে স্নাতক শেষে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্সটিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (আইবিএ) থেকে ব্যবসায় প্রশাষনে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (এডিবি) স্টাফ কনসালটেন্ট এবং অপারেশন ইভিলুয়েশন মিশনের পারফর্মেন্স অডিটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়াও ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স কর্পোরেশন, ওইসিডিসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরামর্শক হিসেবে দায়িত্বরত রয়েছেন। মিউচ্যুয়াল ফান্ডের বেশকিছু ইস্যু নিয়ে সম্প্রতি কথা বলেছেন শেয়ারবাজারনিউজের সাথে। সাক্ষাতকারের চুম্বক অংশ পত্রিকার পাঠকদের উদ্দেশে তুলে ধরা হল।

  3060f14

শেয়ারবাজারনিউজ: পুঁজিবাজারের  বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে কি বলবেন?
ইয়াওয়ার সাঈদ: দেশের পুঁজিবাজারকে স্থিতিশীল রয়েছে বলা যায়। খুব বেশি উত্থান না হলেও সূচকের উত্থান-পতন মোটামুটি স্থিতিশীল। খুব বেশি পতন ঘটে না আবার খুব বেশি উত্থানও হয় না। এটাকে স্থিতিশীলতাই বলা যায়। কিন্তু তারল্যও সরবরাহ সেভাবে না থাকার কারণে বিনিয়োগকারীরা খুব বেশি মুনাফা করতে পারছে না। তবে এটা ধীরে ধীরে কেটে আসছে। সামনে বাজার আরো বেশি সচল হবে।

শেয়ারবাজারনিউজ: তারল্য সংকট থাকার কারন কি? ব্যাংক কোম্পানির এক্সপোজার সংক্রান্ত আইনই কি এখানে কোনো বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে?
ইয়াওয়ার সাঈদ:  ব্যাংক কোম্পানির এক্সপোজার সংক্রান্ত আইনের কারণে বিনিয়োগকারীরা শঙ্কায় আছেন এটা ঠিক । কিন্তু এটা নিয়ে সমাধানও এখনই করে ফেলা জরুরী। আবার যদি সময় বাড়ানো হয়, তবে সামনের দিনগুলোতে বাজারে শঙ্কা থেকে যাবে। তাই আমার মনে হয় এখনই এটার সমাধান করে ফেলতে হবে।
ব্যাংকগুলো আইন অমান্য করে বিনিয়োগ করেছিল। এখন তারা সময় চাচ্ছে শেয়ারদর বাড়ার। তারা লোকসানে বিক্রি করতে চাচ্ছে না। এখন তারা যদি বেশি দরের জন্য অপেক্ষা করে তাহলে তো ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আইন যেহেতু তারা অমান্য করেছে সেহেতু তাদের জন্য আইন শিথিল করার কোনো প্রয়োজন নেই।

শেয়ারবাজারনিউজ: বিনিয়োগকারীদের অনেকের মধ্যেই মিউচ্যুয়াল ফান্ডের বোনাস শেয়ার নিয়ে বিতর্ক আছে। এ ব্যাপারে কি বলবেন?
ইয়াওয়ার সাঈদ:  আমরাই প্রথম মিউচ্যুয়াল ফান্ডের বিপরীতে বোনাস শেয়ার দেওয়ার ব্যবস্থা করি। বিশ্বের কোনো দেশে এ সংক্রান্ত কোনো বিধি-নিষেধ নেই। তবে বর্তমানে যে রি-ইনভেস্টমেন্ট ইউনিট দেওয়া হচ্ছে এতে বিনিয়োগকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। যে সকল ফান্ড তৈরীর পর থেকে নিয়মিত ডিভিডেন্ড দিতে পারেনি তাদের ইউনিটের দরও বাজারে তলানীতে। সে সকল ফান্ড যদি বোনাস শেয়ার দেয় তাহলে তো বিনিয়োগকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। এমনকি বিশ্বের কোনো দেশে মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মেয়াদ নির্ধারন করে দেওয়া হয়না। শুধুমাত্র এ দেশেই আইনের মাধ্যেম মেয়াদ নির্ধারন করে দেওয়া হয়।
আমাদের ফান্ড সব সময় ভালো অঙ্কের ডিভিডেন্ড দিয়ে আসছে। বাজার পরিস্থিতি যখন খারাপ ছিল সে সময়ও আমরা ২০ থেকে ২৫ শতাংশ ডিভিডেন্ড দিয়ে আসছি। তাই আমাদের ফান্ডে বিনিয়োগকারীদের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কোনো আশঙ্কা ছিল না।

শেয়ারবাজারনিউজ: বাজারে ওপেন-এন্ড ফান্ডগুলোও ভালো করতে পারছে না। এ ধরনের ফান্ড নিয়েও বিনিয়োগকারী কোনো আগ্রহ না থাকার কারন কি?
ইয়াওয়ার সাঈদ:  ওপেন-এন্ড ফান্ডগুলো ভালো না করার প্রথম কারন হচ্ছে এটা বিনিয়োগকারীদের কাছে সহজলভ্য নয়। এমনিতেই বিভিন্ন অ্যাসেট ম্যানেজারের সমালোচনার কারনে বিনিয়োগকারীরা ফান্ডের ওপর আস্থা পাচ্ছে না। এর মধ্যে বিনিয়োগকারীরা আমার অফিসে এসে আমার ফান্ডের ইউনিট কিনবে কেন। ওইসব ফান্ডগুলোর তো ক্রয় মূল্য হিসেবে নেট অ্যাসেট ভ্যালু (এনএভি) বাজার মূল্যে হিসেবের তুলনায় কোনো পার্থক্য থাকছে না। বিনিয়োগকারীরা তো এখান থেকে মুনাফা করতে পারছে না।

শেয়ারবাজারনিউজ: আপনাদের এইমস অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের দুটি ফান্ড নিয়ে সম্প্রতি বেশকিছু বিতর্ক তৈরী হয়েছে। একদিকে আপনাদের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হচ্ছে অন্যদিকে তারা এটা মিথ্যা হিসেবে দাবী করছে। এ ব্যাপারে কিছু বলেন?
ইয়াওয়ার সাঈদ:  ব্র্যাক ব্যাংক ও আইডিএলসি ফাইন্যান্সের কিছু অসাধু কর্মকর্তারা জড়িত। এইমস বেসরকারী পর্যায়ে দেশের প্রথম মিউচ্যুয়াল এনেছে। এখানে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগই বেশি। তাদের জন্যই ফান্ডটি আজ এ পর্যায়ে আসতে পেরেছে। কিন্তু ব্যাংকটি আমাদের ফান্ডের কাস্টোডিয়ান হওয়া সত্ত্বেও তাদের কর্মকর্তরা এবং ব্র্যাক ব্যাংকের সাবসিডিয়ারী ব্র্যাক-ইপিএল নিজেদের পোর্টফোলিওতেও আমাদের ইউনিট কিনেছে। এখন এটা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। আদালতের রায়ের জন্যই আমরা অপেক্ষা করছি।

শেয়ারবাজারনিউজ: ফান্ড অবসায়ন হলে তো ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা তো সম্পদ ফিরে পাচ্ছেনই, তাহলে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হবে কিভাবে?
ইয়াওয়ার সাঈদ:  দেখুন এটি খুব পুরোনো একটা ফান্ড। ফান্ডটি ভালো মুনাফা করছে এবং নিয়মিত ডিভিডেন্ডও দিচ্ছে। সে হিসেবে ফান্ডটি থাকলে তারা নিয়মিত মুনাফা করতে পারবেন। ফান্ডটি এখন অবসায়ন হয়ে গেলে বাজারে কিছুটাসেল-প্রেশারও আসবে। এটা বাজারের জন্যও ভালো হবে না।
আর আমরা তো আদালতে যাইনি। ফান্ডের বিনিয়োগকারীরাই নিজেদের স্বার্থের কথা চিন্তা করেই আদালতে মেয়াদ বাড়ানোর ইস্যুটি নিয়ে গেছেন। তারপরও বিনিয়োগকারীদের জন্য কিছু করা যায় কি না সে চেষ্টা আমরা করব।

শেয়ারবাজারনিউজ/ওহ/ম.সা

আপনার মন্তব্য

Top