গ্রোথের ওপরে আইপিও অনুমোদন দেয়া উচিৎ

rakibur rahman dse p mmদেশের শেয়ারবাজারে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) অনুমোদন ব্যাপক অবদান রয়েছে। তাই কমপক্ষে ৫ বছরের ভাল গ্রোথ রয়েছে এমন কোম্পানির আইপিও অনুমোদন দেয়ার ওপরে জোর দিতে হবে নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সাবেক সভাপতি মো. রকিবুর রহমান শেয়ারনিউজ২৪কে এসব কথা করেন।

সাবেক সভাপতি কেবল লোন পরিশোধে অর্থ উত্তোলনের জন্য কোম্পানিগুলো আইপিওতে আসার সমালোচনা করেন। শুধু মাত্র লোন পরিশোধ করতে আইপিও অনুমোদন শেয়ারবাজার ইতিবাচক হবে এমনটি ভাবা বোকামি। লোন পরিশোধ করতে আইপিওতে আসা কোম্পানি দেশের শেয়ারবাজারে স্থিতিশীলতা আনবে না। বরং অনিয়মে ভরে যাবে উভয় শেয়ারবাজার। তাই কোম্পানির আইপিও অনুমোদনের ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি’কে সজাগ হতে হবে। আইপিও অনুমোদনের ক্ষেত্রে গ্রোথ ভাল রয়েছে এমন কোম্পানি নিবার্চন করতে হবে। প্রয়োজনে প্রিমিয়ামসহ অনুমোদন দিন। কোম্পানির সম্প্রসারনের, পরিসর বড়, উৎপাদনের লক্ষে মেশিন ক্রয়, জমি ক্রয়, কারখানা ও স্থাপনা তৈরিতে অর্থ উত্তোলনের জন্য আইপিও অনুমোদন দেয়া যেতে পারে।

অবশ্য এসব অনুমোদনের ক্ষেত্রে দেখতে হবে কোম্পানিটির সর্বনি�œ ৫ বছরের কার্ষক্রমসহ উন্নয়ন কেমন ভূমিকা রয়েছে। তারপর বাজারে কোম্পানির সুনামের বিষয়টিও অনুমোদন মাথায় রাখতে হবে। কোম্পনির পরিচালকদের অনিয়ম বা সমালোচিত ব্যক্তি দ্বারা পরিচালন পর্ষদ গঠন করা কোম্পানি যাতে অনুমোদন না পায় সেটাও বিবেচ্য। তাই এসব বিষয়গুলো মাথায় রেখে আইপিও অনুমোদন দিলে শেয়ারবাজারে গতিশীলতা পাবে বলে মনে করেন ডিএসইর এ সাবেক সভাপতি।

শেয়ারবাজারের সুশাসন প্রতিষ্ঠায় রকিবুর রহমান বলেন, শেয়ারবাজার উন্নয়নের গতিশীলতা বাড়াতে দরকার তালিকাভুক্ত খাতগুলোতে সুশাসন। আর সুশাসন প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়ায় তালিকাভুক্ত সকল প্রতিষ্ঠান থেকে অনিয়ম-দূর্নীতি দূর করা খুবই জরুরি। নতুন কোম্পানি বাজারে আসতে চাইলে তাদের প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন আছে কি-না, পারিবারিক কোম্পানি কি-না, নিবন্ধিত নিরীক্ষক আছে কি-না এমন সব বিষয় নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে নিশ্চিত করতে হবে। আবার শেয়ারবাজার থেকে টাকা নেয়ার পর যেসব কোম্পানি শুকিয়ে যায় সেগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। যাতে ভবিষ্যতে কোনো কোম্পানি এ ধরণের অন্যায় করার সুযোগ না পায়। শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর দুর্নীতি রোধে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসিকে কঠোর হতে হবে। না হলে বিনিয়োগকারীরা শেয়ারবাজারে অর্থ বিনিয়োগ করার ভরসা পাবেন না।

শেয়ারবাজারের পুঁজির নিরাপত্তার বিষয় সম্পর্কে রকিবুর রহমান বলেন, বড় বড় কোম্পানিগুলোর বিভিন্ন তথ্য সাধারণ বিনিয়োগকারীদের আগেই অন্য কোম্পানি এবং বড় পুঁজির বিনিয়োগকারীদের কাছে পৌঁছে যায়। সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে তথ্য আসতে অনেক সময় লাগে। ততোক্ষণে অনেক পরিবর্তন হয়ে যায়। তাই যে কোনো মূল্যে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর দুর্নীতি রোধ করতে হবে। যেসব কোম্পানি বিনিয়োগকারীদের অর্থ নিয়ে দুর্নীতি করে সেগুলোকে কঠোর শাস্তির আওতায় আনতে হবে। শেয়ারবাজার সংশিষ্ট আইনকানুন যেসব কোম্পানি মানে না সেগুলোকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। না হলে বিনিয়োগকারীদের পুঁজির নিরাপত্তার বিধান হবে না। এজন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে কঠোর হতে হবে।

কৃত্রিম শেয়ারবাজার কখনো টেকসই হয় না দাবি করে রকিবুর রহমান বলেন, শেয়ারবাজারকে টেকসই করার জন্য করপোরেট কালচার গড়ে তুলতে হবে। আর এ জন্য তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর মধ্যে গড়ে তুলতে হবে করপোরেট গর্ভনেন্স গাইডলাইন পরিপালনের সংস্কৃতি। একই সঙ্গে স্টেকহোল্ডারদের নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করতে হবে। তবেই শেয়ারবাজার স্থিতিশীল থাকবে বলে মনে করেন তিনি।

শেয়ারবাজারের উত্থান পতনে প্রসঙ্গে রকিবুর রহমান বলেন, নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও স্টক একচেঞ্জ শেয়ারবাজার সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করে। এছাড়াও শেয়ারবাজারে সরাসরি ভূমিকা রাখে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবং অর্থ মন্ত্রণালয়। তাই শেয়ারবাজারের স্বার্থে তিনি এনবিআর, কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবং অর্থ মন্ত্রণালয়কে সব সময় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। এছাড়া শেয়ারবাজারের উন্নয়নের জন্য পলিসিগত পরিবর্তন জরুরি বলে জানান তিনি।

আপনার মন্তব্য

Top