এক্সপোজার শুধুমাত্র তালিকাভুক্ত শেয়ারের ভিত্তিতে হিসাব করা উচিত- এম এ হাফিজ

hafizশেয়ারবাজার রিপোর্ট:  বর্তমানে বাজারকে গতিশীল করতে লিক্যুইডিটি ক্রাইসিস (তারল্য সংকট) কাটিয়ে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে হবে। এতে ব্যাংকগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। এক্ষেত্রে  পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত নয় এমন কোম্পানিতে ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগ পুঁজিবাজার এক্সপোজার হিসাব থেকে বাদ দিতে হবে। কারণ আইনে অ-তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোকেও পুঁজিবাজার এক্সপোজার হিসেবে গণ্য করতে বলা হয়েছে। এটা অযৌক্তিক যা পরিবর্তন করতে হবে বলে মনে করেন বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংক অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমবিএ) সাবেক প্রেসিডেন্ট এম এ হাফিজ। সম্প্রতি শেয়ারবাজারনিউজ ডটকমের সঙ্গে একান্ত আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। তার সঙ্গে আলাপচারিতার চুম্বক অংশ নিম্নে পাঠকদের উদ্দেশ্যে তুলে ধরা হলো:

শেয়ারবাজারনিউজ: আপনি পুঁজিবাজারে অ-তালিকাভুক্ত কোম্পানিতে ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগ এক্সপোজার থেকে বাদ দিতে বলছেন,কিন্তু এটা করতে হলেতো আইন পরিবর্তন করতে হবে।

এম এ হাফিজ: সংকট উত্তোরণের জন্য যখন কোনো বিষয় প্রয়োজন হয়ে দাঁড়ায় তখন আইন পরিবর্তনে কোনো বাধা থাকা উচিত নয়। এ মুহূর্তে বাজারে তারল্য সংকট কাটানোর কোনো বিকল্প নেই। কারণ তারল্য সংকট না কাটলে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরে আসবে না। আর এই সংকট কাটাতে বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে এগিয়ে আসতে হবে।

শেয়ারবাজারনিউজ:  ইতিমধ্যে বেশিরভাগ ব্যাংক তাদের বিনিয়োগ সমন্বয় করেছে। তবুুও এক্সপোজার নিয়ে এতো আলোচনা কেন?

এম এ হাফিজ:  ব্যাংক শুধুমাত্র বিনিয়োগ সমন্বয় করেছে কিন্তু তারা বাজারে বিনিয়োগ করার সুযোগ পাচ্ছে না। ইতিমধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংকিং আইন এর ৪৫ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে  সাবসিডিয়ারি কোম্পানিসমূহের প্রদত্ত মূলধন ব্যাংকের এক্সপোজার থেকে বাদ  দিয়েছে যার ফলে অতিরিক্ত এক্সপোজার বেশিরভাগ ব্যাংকের সমন্বয় হয়েছে। সমন্বয় হলেও ব্যাংকগুলো কিন্তু নতুন করে বিনিয়োগ করতে পারছে না। তাই ব্যাংকসমূহের ক্ষতি কিছুটা লাঘব করা ও বাজারকে সক্রিয় করার জন্য তাদেরকে ন্যূনতম ৫০০ কোটি টাকা করে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করতে দেয়া উচিত।

শেয়ারবাজারনিউজ: এ সংক্রান্ত বিষয়ে আর কি করা উচিত বলে আপনি মনে করেন?

এম এ হাফিজ: পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ হিসাব (এক্সপোজার) শুধুমাত্র তালিকাভুক্ত শেয়ারের ভিত্তিতে হিসাব করা উচিত। এছাড়া দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ এক্সপোজার থেকে বাদ দেয়া এবং অতিরিক্ত বিনিয়োগ সমন্বয়ের সীমা ২০২০ সাল পর্যন্ত বৃদ্ধি করা দরকার। তাহলে এ অতিরিক্ত বিনিয়োগ সয়ংক্রিয়ভাবে সমন্বয় হয়ে যাবে, বাজারে বিক্রির চাপ আসবে না এবং বাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়বে।

শেয়ারবাজারনিউজ: বাংলাদেশ ব্যাংক কি চাইলেই আইন পরিবর্তন করে এক্সপোজারের সংজ্ঞায় উল্লেখিত বিষয়গুলো সংশোধন করতে পারে?

এম এ হাফিজ: বাংলাদেশ ব্যাংক ইচ্ছা করলেই ব্যাংক-কোম্পানি আইন, ১৯৯১ অনুযায়ী বেশকিছু ধারার ক্ষমতা বলে প্রয়োজনীয় শিথিলতা প্রয়োগের মাধ্যমে পুঁজিবাজারে প্রাণ ফিরিয়ে আনতে পারে।

উল্লেখ্য, ব্যাংক- কোম্পানি আইন, ১৯৯১ এর ১২১ ধারায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংক, সরকারের সহিত পরামর্শক্রমে সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, ঘোষণা করিতে পারে যে, এই আইনের সকল বা কোনো বিশেষ বিধান, কোনো নির্দিষ্ট ব্যাংক-কোম্পানি বা সকল ব্যাংক-কোম্পানির ক্ষেত্রে সাধারণভাবে বা প্রজ্ঞাপণে নির্ধারিত কোনো মেয়াদকালে প্রযোজ্য হইবে না। একই আইনের ৪৫ ধারায় বলা হয়েছে, ১. বাংলাদেশ ব্যাংক যদি এই মর্মে সন্তুষ্ট হয় যে, ক. জনস্বার্থে বা খ. মুদ্রানীতি এবং ব্যাংক নীতির উন্নতি বিধানের জন্য, বা গ. কোনো ব্যাংক কোম্পানির আমানতকারীদের স্বার্থের পরিপন্থী বা ব্যাংক কোম্পানির স্বার্থের পক্ষ্যে ক্ষতিকর কার্যকলাপ প্রতিরোধ করার জন্য, বা ঘ. কোনো ব্যাংক কোম্পানির যথাযথ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার জন্য, সাধারণভাবে সকল ব্যাংক কোম্পানিকে অথবা বিশেষ কোনো ব্যাংক কোম্পানিকে নির্দেশ করা প্রয়োজন, তাহা হইলে বাংলাদেশ ব্যাংক যথাযথ নির্দেশ জারি করিতে পারিবে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংক উক্ত নির্দেশ পালন করিতে বাধ্য থাকিবে। (০২) বাংলাদেশ ব্যাংক স্বেচ্ছায় অথবা উহার নিকট পেশকৃত কোনো আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে উপধারা-১ এর অধীন প্রদত্ত নির্দেশ বাতিল বা পরিবর্তন করিতে পারিবে এবং এরুপ বাতিলকরণ বা পরিবর্তন শর্তসাপেক্ষে হইতে পারিবে। (০৩) উপধারা ০১ ও ০২ এর বিধানাবলী সরকারি মালিকাধীন বাণিজ্যিক ব্যাংক ও বিশেষায়িত ব্যাংকসহ সকল ব্যাংক কোম্পানির ক্ষেত্রে সমভাবে প্রযো্জ্য হইবে।

শেয়ারবাজারনিউজ: পাবলিক ইস্যু রুসল,২০১৫ প্রণীত আইনে প্রিমিয়াম চাইলে বুক বিল্ডিং পদ্ধতি ব্যবহার করতে বলা হয়েছে। বিষয়টি কিভাবে দেখছেন?

এম এ হাফিজ: আসলে আইন প্রণয়ন করার আগে আরো খুঁটিনাটি বিশ্লেষণ করা ‍দরকার ছিল। যেহেতু গেল কয়েক বছর অতিরিক্ত প্রিমিয়াম নিয়ে বেশ সমালোচনা হয়েছে। তাই প্রিমিয়াম নির্ধারণের ক্ষেত্রে এখন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) সম্পূর্ণ দায়িত্ব ইলিজিবল ইনভেষ্টরদের (প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী) হাতে ছেড়ে দিয়েছেন। কিন্তু এখানে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের বঞ্চিত করা হয়েছে। ধরা যাক, একটি কোম্পানির শেয়ার বিডিং করে ইলিজিবল ইনভেষ্টররা ৮০ টাকায় ইস্যুমূল্য নির্ধারণ করলো, কিন্তু এর ১০ শতাংশ কমে বর্তমান বাজারে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ৭০ টাকার ওপরে ইস্যুমূল্য দিয়ে শেয়ার কেনা সম্ভব নয়। এভাবে কয়েকটি ইস্যু আসার পর যখন জটিলতা তৈরি হবে তখন একসময় এ আইন আবার পরিবর্তন হবে।

শেয়ারবাজারনিউজ: দীর্ঘদিন বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংক অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমবিএ) প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বিএমবিএ’র বর্তমান কমিটি সম্পর্কে কিছু  বলুন।

এম এ হাফিজ: প্রথমেই বলি বর্তমান বিএমবিএ’র কমিটি নিয়ে আমি গর্বিত। বাজার উন্নয়নে তারা অনেক পরিশ্রম করছে, নীতি নির্ধারণী নানামহলে গিয়ে সাক্ষাত করছে। বাজারকে গতিশীল করার জন্য তারা প্রশংসনীয় কাজ করছে। তাদের কাছে আমার প্রত্যাশা,বাজারকে গতিশীল ও স্থায়ী স্থিতিশীল করার জন্য তাদের পক্ষ থেকে যা কিছু করা সম্ভব সবকিছুই তারা করবে।

শেয়ারবাজারনিউজ/ম.সা

আপনার মন্তব্য

*

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Top