এক্সপোজারের সময়সীমা না বাড়ানোর কোনো যুক্তি নেই- মশিউর রহমান

13081936_1002911466429744_454255712_nশেয়ারবাজার রিপোর্ট: পুঁজিবাজারে বানিজ্যিক ব্যাংকগুলোর এক্সপোজার সমন্বয়ের সময়সীমা বাড়ানোর প্রসঙ্গকে যৌক্তিক বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমান। তিনি বলেন, ‘এক্সপোজার সমন্বয়ের সময়সীমা বাড়ানোর দাবী যৌক্তিক। এটা না বাড়ানোর কোনো যুক্তি নেই ’। এর পাশপাশি এক্সপোজার সমন্বয়ের সময় বাড়ানোর ব্যাপারে বাংলাদেশ ব্যাংকের ভূমিকারও সমালোচনা করেন এ অর্থনীতিবিদ।

তিনি মনে করেন, এর ফলে বাজারে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না। বাংলাদেশ ব্যাংককে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘যদি বাংলাদেশ ব্যাংক মনে করে মার্কেট বাবল হবে, তবে এর পক্ষে তাদের শক্ত যুক্তি দাঁড় করাতে হবে’। এমনকি পুঁজিবাজারের ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের বহুদিনের এ দাবী পূরন করার আশ্বাষ দিয়ে তিনি বলেন, ‘যত দ্রুত সম্ভব এটা বাস্তবায়ন করা হবে’।

রাজধানীর এক হোটেলে ‘ডেভেলপমেন্ট অব ক্যাপিটাল মার্কেট অ্যান্ড ইকোনোমি: দ্যা রোল অব মার্চেন্ট ব্যাংক’ শীর্ষক এক সেমিনারে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা। এসময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এম খায়রুল হোসেন, আইসিএমএবি এর প্রেসিডেন্ট ও আইডিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরিফ খান, ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির স্কুল অব বিজনেস অ্যান্ড ইকোনোমিকস এর ডিন ড. মোহাম্মদ মুসা, বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংক অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট মো: ছায়েদুর রহমানসহ উভয় স্টক এক্সচেঞ্জের সাবেক প্রেসিডেন্টসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ, বিএমবিএ’র কমিটির নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন মার্চেন্ট ব্যাংক ও সিকিউরিটিজ হাউজের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

সেমিনারে বিএসইসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এম খায়রুল হোসেন বলেন, দেশের অন্যান্য রেগুলেটরের নিয়ন্ত্রণে তালিকাভুক্ত যেসব কোম্পানি রয়েছে সেগুলোর ক্ষেত্রে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে হলে অবশ্যই বিএসইসির সঙ্গে আলোচনা করতে হবে। তা না হলে বিনিয়োগকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। যেমন: তিতাস গ্যাস, স্ট্যান্ডার্ড ইন্স্যুরেন্সের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য রেগুলেটর যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তাতে বিনিয়োগকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

খায়রুল হোসেন আরো বলেন,  পুঁজিবাজারে বর্তমানে যে সংকট চলছে সেটা খুঁজে বের করতে হবে।  এক্সপোজারের যে সমস্যা রয়েছে তার সমাধান দ্রুত করতে হবে। এছাড়া আস্থার সংকট দূর করতে বিনিয়োগকারীদের ফিন্যান্সিয়াল লিটারেসি হতে হবে। এ বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই আমরা ফিন্যান্সিয়াল লিটারেসির কার্যক্রম পুরোদমে চালু করবো। দেশে অবস্থিত ইউনিলিভারের মতো কোম্পানিগুলোকে বাজারে আনার ক্ষেত্রে মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করতে হবে। শুধু ফি পাওয়ার আশায় মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোকে কাজ করলে হবে না। পুঁজিবাজার তথা বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে যেসব কোম্পানির অতীত ইতিহাস ভালো এবং ভবিষ্যতের আর্থিক ভীত মজবুত সেসব কোম্পানি বাজারের আনার ক্ষেত্রে মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোকে কাজ করতে হবে।

সেমিনারে আইসিএমএবি এর প্রেসিডেন্ট ও আইডিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরিফ খান বলেন, ক্যাপিটাল মার্কেট সম্পর্কে নেতিবাচক মন্তব্য প্রত্যাহার করে পজেটিভ কথা বলতে হবে। দেশের উন্নয়নে পিপিপির আওতায় যে ফান্ডের ব্যবস্থা করা হয় সেখানে ক্যাপিটাল মার্কেটকে সম্পৃক্ত করতে হবে। পুঁজিবাজারে কোম্পানিগুলোর তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রে মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোকে শুধু ফি আদায়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। কোম্পানির অতীত থেকে ভবিষ্যত পর্যন্ত সকল প্রকার ডি-ডিলিজেন্স রিপোর্ট প্রদান করতে হবে বলে জানান আরিফ খান।

শেয়ারবাজারনিউজ/ম.সা/ওহ

আপনার মন্তব্য

*

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Top