পুঁজিবাজারে এই নোংরামির শেষ কোথায়

 

Editorialদেশে এখন কোন রাজনৈতিক অস্থিরতা নেই। নেই কোন বিরোধী দলের কর্ম তৎপরতা। দেশে কোথাও কোন জ্বালাও পোড়াও নেই। সরকারের ভাষ্য মনে দেশে এখন আইনের শাসন বিরাজমান। দেশ এখন বিদ্যুৎ গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। দেশের মুদ্রাস্ফীতি এখন পুরোপুরি সরকারের নিয়ন্ত্রণে। বাংলাদেশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি এখন ধারনা করা হচ্ছে ৭ এর কাছাকাছি হবে।

দেশে এখন কোন সমস্যা নেই। ডিজিটাল সরকারের উন্নয়নের ডিজিট গুলো বিদ্যুৎ গতিতে বেড়েই চলেছে। তাহলে পুঁজিবাজারের সমস্যাগুলো কোথায়? প্রতিদিন কেন পুঁজিবাজারের ইনডেক্সের ডিজিট গুলো কমে যাচ্ছে।

গত ৩-০১-২০১৬ তারিখে ৪৬২৯ ইনডেক্স দিয়ে পুঁজিবাজার এই বছরের কার্য দিবস শুরু করে। অথচ মাত্র ৪ মাসেই আজ ২৭-০৪-২০১৬ তারিখে ইনডেক্স গিয়ে দাঁড়িয়েছে ৪২৩৮ পয়েন্টে। প্রায় ১০% ইনডেক্স পড়ে গেছে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের ইনডেক্স যেখানে গত ৪ মাসে প্রায় ১০% পড়ে গেছে সেখানে কিছু কিছু কোম্পানির শেয়ার, যে গুলো বাজারে জুয়াড়ি কোম্পানির শেয়ার বলেই অনেকে চেনেন, সেই সকল কোম্পানির শেয়ার গুলো ১০০% থেকে ৪০০% পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। মুষ্টিমেয় এই সকল কোম্পানির শেয়ার সংখ্যাও অত্যন্ত নগণ্য অর্থাৎ স্বল্প মূলধনি কোম্পানি এবং এদের P/E ratio অনেক গুলোই ৩০০ থেকে ১৫০ এর কাছাকাছি। কিছু কোম্পানির শেয়ার রয়েছে  যেগুলো দেখলেই বোঝা যায় যে এই শেয়ার গুলোর ৪ মাসের ব্যবধানে কি পরিমান মূল্য বৃদ্ধি পেয়ে কি দামে অবস্থান করছে।

যেমন ইস্টার্ন লুব্রিক্যান্টস (EASTRNLUB) কোম্পানিটির শেয়ার দর ৪ মাসে ৩০৪ টাকা থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ১২৯৫ টাকায় উন্নীত হয়েছে। জেমিনি সী ফুড (GEMINISEA) এর শেয়ার দর গত ৪ মাসে ৩১৫ টাকা থেকে ১০৭৩ টাকায় উন্নীত হয়েছে। লিবরা ইনফিউশনের (LIBRAINFU) শেয়ার দর ৪ মাসে ২৯০ টাকা থেকে ৬৩০.৩০ টাকায় উন্নীত হয়েছে। মুন্নু জুটি স্ট্যাফলারসের ( MONNOSTAF) শেয়ার দর ৪ মাসে ২৮০ টাকা থেকে ৪৩১ টাকায় উন্নীত হয়েছে। এছাড়া ইস্টার্ন ক্যাবলসের (ECABLES) শেয়ার দর মাত্র ২০ দিনে ১০৩ টাকা থেকে  টাকা ১৫৬.৭০ টাকায় উন্নীত হয়েছে।

বাজারের লেনদেনের অবস্থা এমনিতেই করুন। তার উপর কিছুদিন যেতে না যেতেই একটার পর একটা IPO’র মাধ্যমে বাজারে নুতন কোম্পানির শেয়ার তালিকাভুক্ত হচ্ছে যার মাধ্যমে বাজার থেকে বের হয়ে যাচ্ছে টাকা। এইসব কিছু সামাল দিতে দিতেই বিনিয়োগকারীদের অবস্থা করুন। এখন স্বল্প মূলধনি জাঙ্ক শেয়ারগুলো যেন “মরার উপর খাড়ার ঘা”।

এই স্বল্প মূলধনি জাঙ্ক কোম্পানির শেয়ার নিয়ে যে ধরনের নোংরামি হচ্ছে তাতে বিনিয়োগকারীরা আরও হতাশার মধ্যে পড়ে যাচ্ছে। তাদের মনে এখন একটাই প্রশ্নঃ মৌল ভিত্তিক কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগ করে কি এই বাজারে সত্যিই মুনাফা অর্জন করা যায় ? পরিশেষে একটি কথাই বলতে হয়, সত্যিই এই বাজার বড়ই অভাগা। অভিভাবকহীন একটি বাজার। দেখার কেউ নেই।

আপনার মন্তব্য

Top