আজ: শুক্রবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১ইং, ৯ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৫ই সফর, ১৪৪৩ হিজরি

সর্বশেষ আপডেট:

০৩ মে ২০১৬, মঙ্গলবার |



kidarkar

দায়িত্বশীলদের প্যারাসিটামলে চাঙ্গা পুঁজিবাজার

bazar 22শেয়ারবাজার রিপোর্ট: নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংক এবং বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) দেয়া প্যারাসিটামলে অবশেষে ঘাম দিয়ে জ্বর সারলো পুঁজিবাজারের। এতে দেশের উভয় স্টক এক্সচেঞ্জে টানা ৭দিনের পতন থেমেছে। এরই ধারাবাহিকতায় আজ উভয় স্টক এক্সচেঞ্জে সূচকের ব্যাপক উত্থান ঘটেছে।

এর আগে টানা ৭দিন সূচকের পতনের কারণে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ১৮৭.৯৮ পয়েন্ট কমেছে। অপরদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) প্রধান সূচক ৩৫৪.৪৭ পয়েন্ট কমেছে। এমন পরিস্থিতিতে পুঁজিবাজারে দেশের দুই নিয়ন্ত্রক সংস্থার ভূমিকা নিয়ে চারদিকে সমালোচনা শুরু হয়। আর এ সমালোচনা সামাল দিতে বাংলাদেশ ব্যাংক তড়িঘড়ি করে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে পুঁজিবাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগ সীমা সমন্বয় নিয়ে তাদের নীতিগত অবস্থান অস্পষ্টভাবে নিশ্চিত করে। এতে পুঁজিবাজারে বিরুপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। তাই কেন্দ্রীয় ব্যাংক পুনরায় সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে তাদের নীতিগত অবস্থান স্পষ্ট করে।

সংবাদ সম্মেলনে শুভঙ্কর সাহা জানান, পুঁজিবাজারে ব্যাংকসমূহের সোলো ও কনসোলিডেটেড উভয় ভিত্তিতে অতিরিক্ত বিনিয়োগ সমন্বয়ের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের ঘোষিত নীতি সহায়তার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। নীতি সহায়তা দেওয়ার ফলে ব্যাংকগুলোর নিজস্ব সাবসিডিয়ারির মূলধন বৃদ্ধি পাবে অপরদিকে তাদের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ সীমা নেমে আইনী সীমার মধ্যে নেমে আসবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক সকলকে পুনরায় আশ্বস্ত করছে যে এই প্রক্রিয়ায় কোনো ব্যাংককেই তার অতিরিক্ত বিনিয়োগ সমন্বয়ের জন্য কোনো শেয়ার বিক্রি করতে হবে না।

ইতিমধ্যে তালিকাভুক্ত দুটি ব্যাংক তাদের ধারণকৃত শেয়ার এবং সাবসিডিয়ারি কোম্পানিতে প্রদত্ত ঋণ সাবসিডিয়ারি ক্যাপিটালে রূপান্তরের বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকে আবেদন জানিয়েছে। অন্য যে আটটি ব্যাংকের অতিরিক্ত বিনিয়োগ রয়েছে সেসব ব্যাংককে ইতিমধ্যেই নির্দেশনা দিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিকট আবেদন করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

এর পরপরই বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাখ্যা পর্যালোচনা করার জন্য পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি ট্রেকহোল্ডারদের নিয়ে একটি জরুরি বৈঠকের আয়োজন করে। বৈঠক শেষে বিএসইসি’র মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক মো: সাইফুর রহমান বলেন, এক্সপোজার লিমিটের সময় না বাড়িয়ে সহযোগী প্রতিষ্ঠানের মূলধন বাড়ানোর মাধ্যমে সমন্বয়ের যে নীতি বাংলাদেশ ব্যাংক গ্রহণ করেছে তা বাজারের জন্য অত্যন্ত ফলপ্রসু হবে। এতে বাজারে সেল প্রেশার থাকবে না।

তিনি আরও বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক পুঁজিবাজারের প্রতি আগের চেয়ে অনেক নমনীয় অবস্থানে এসেছে। এতে বাজারের প্রতি সংশ্লিষ্টদের অহেতুক ভীতি দূর হবে।

এদিকে নিয়ন্ত্রক সংস্থার উদ্যোগে পুঁজিবাজারে সূচকের উত্থান ঘটায় স্বস্তি প্রকাশ করে বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো: ছায়েদুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিগত সহায়তা প্রথমে পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরা বুঝতে পারেনি। ব্যাংকের অতিরিক্ত বিনিয়োগ সমন্বয়ের জন্য সময় বাড়ানোর পরিবর্তে কেন্দ্রীয় ব্যাংক যে নীতি গ্রহণ করেছে তা যথাযথ। যদি নীতি গ্রহণ না করে সমন্বয়ের জন্য দুই বছর সময় বাড়ানো হতো, তাহলে দুই বছর পরে আবার শেয়ার বিক্রির চাপ বাড়ত। এই নীতি গ্রহণের ফলে এখন ব্যাংকগুলোকে শেয়ার বিক্রয় করতে হবে না। এতে শেয়ারবাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবসে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সূচকের উধ্বমুখী প্রবণতায় শেষ হয় লেনদেন। এর ফলে টানা ৭ম দিন পতনের পর উত্থানে ফিরেছে বাজার। এদিন শুরু থেকেই বাজারে ব্যাপক উত্থান লক্ষ করা যায়। মঙ্গলবার সূচকের পাশাপাশি বেড়েছে অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ার দর। তবে টাকার অংকে আগের দিনের তুলনায় লেনদেন কিছুটা কমেছে।

মঙ্গলবার দিনশেষে ডিএসইর ব্রড ইনডেক্স আগের দিনের চেয়ে ১০০ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ৪২৭২ পয়েন্টে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ২৪ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ১০৪৪ পয়েন্টে এবং ডিএসই–৩০ সূচক ৪৫ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ১৬৪৪ পয়েন্টে। দিনভর লেনদেন হওয়া ৩১৬ কোম্পানির মধ্যে দর বেড়েছে ২৬৩টির, কমেছে ২৯ টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ২৪ টির। আর দিনশেষে লেনদেন হয়েছে ৪০৫ কোটি ৮৫ লাখ টাকা।

এর আগে সোমবার ডিএসইর ব্রড ইনডেক্স ২৪ পয়েন্ট কমে অবস্থান করে ৪১৭১ পয়েন্টে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৫ পয়েন্ট কমে অবস্থান করে ১০২০ পয়েন্টে এবং ডিএসই–৩০ সূচক ১৩ পয়েন্ট কমে অবস্থান করে ১৫৯৯ পয়েন্টে। ওই দিন লেনদেন হয়েছিল ৪৬১ কোটি ১৭ লাখ ৮৬ হাজার টাকা। সে হিসেবে আজ ডিএসইতে লেনদেন কমেছেছে ৫৫ কোটি ৩২ লাখ ৮৬ হাজার টাকা।

এদিকে দিনশেষে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সাধারণ সূচক ১৮৬ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করে ৭৯৮১ পয়েন্টে। দিনভর লেনদেন হওয়া ২৪০টি কোম্পানির ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১৯২টির, কমেছে ৩৩টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ১৫টির। আজ সিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ২৩ কোটি ১৯ লাখ ৪৯ হাজার টাকা।

শেয়ারবাজারনিউজ/মু

 

আপনার মতামত দিন

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.