সমসাময়িক কালের বাংলাদেশের শেয়ার মার্কেট নিয়ে কিছু কথা

শেয়ার মার্কেট একটি ঝুঁকিপূর্ণ ব্যবসা । এক ধরনের বিনিয়োগ ও বলতে পারেন । এই মার্কেট আপনি বিনিয়োগ করেন বেশি লাভের আশায় , লাভ টি অবশ্যই হতে হবে ব্যাংক আমানতের জমার হারের চেয়ে বেশি । তা না হলে আপনি কেন ঝুকি নেবেন । এখন বিষয় হল আপনি কি শেয়ার buy করেন dividend এর জন্য , অবশ্যই নয় কারন আপনি যখন secondary মার্কেট থেকে শেয়ার buy করেন তখন ঐ শেয়ার এর মূল্য থাকে তার face value ৩ থেকে ৪ গুন । ক্ষেত্র বিশেষে ১০-১২ গুন but কোম্পানি তার dividend ঘোষণা করে তার face value উপর ভিত্তি করে । হিশাব করলে দেখা যাবে ব্যাংক আমানতের জমার হারের চেয়ে অনেক কম । মুলত শেয়ার ক্রয়-বিক্রয় এর ব্যবধান থেকে এই ব্যবসা থেকে লাভ তুলে নিতে হয় ।
বিগত ১ যুগ থেকে শেয়ার মার্কেট এর সাথে ওতপ্রোত ভাবে আমি জড়িত । আপনারা জানলে অবাক হবেন শেয়ার মার্কেট এর একটি ছন্দ আছে । এটি অনেকটা ঋতু চক্রের মত । অন্য ভাবে বলা যায় অতীত ঘুরে ঘুরে আসে । আপনারা যারা অনেক দিন থেকে এই মার্কেট এর সাথে আছেন তারা ভালো বুজবেন । যেমন
*** কোন একটি শেয়ার মার্চ মাসে movement করে । লক্ষ্য করলে দেখবেন প্রতি বছর সে মার্চ মাসে movement করবেই ।
*** জুন closing শেয়ার জুনে , ডিসেম্বর closing শেয়ার ডিসেম্বর মাসে movement করবেই ।
*** ২০১০ এর আগে মার্চ মাস মার্কেট গরম আর ডিসেম্বর মাস মার্কেট ঠাণ্ডা থাকত ।
*** কোন শেয়ার এর price sensitive information আসলে তা অবশ্যই movement করত ।
*** মার্কেট এর শেয়ার গুলো তার sector অনুসারে ছন্দের তালে তালে movement করত ।
কিন্তু দুঃখের বিষয় উপরের কোনটি বর্তমান মার্কেট বিদ্যমান নয় । ২০১০ সালে আগে আমি একটি বিষয় মনে প্রানে বিশ্বাস করতাম তা হল শেয়ার মার্কেট এ Money loss বলে কোন কথা নাই Time loss আছে । এর মানে হল আপনি শেয়ার কেনার পর ঐ শেয়ারটির মূল্য কমে যেতেই পারে কিন্তু আপনি যদি ঐ শেয়ারটি ধরে রাখেন তাহলে ঐ যে বললাম ঋতু চক্রের মত ঘুরে আবার আপনার কিনা দামে চলে আসবে । but বর্তমান মার্কেট এ আমরা এর কোনটাই দেখতে পাই না । আপনি শেয়ার ধরে রাখলে দেখা যায় এর দাম দিন দিন কমছেই আর কমছেই । আপনি যদি dividend খান তাহলে দেখা যায় পরের বছর dividend এর সময় এর দাম আর কমে গেছে । আগের কোন theory আর বর্তমান মার্কেট এ জন্য প্রযোজ্য হচ্ছে না । এর কারন হল বর্তমান মার্কেট সুস্থ নয় ।

কারন সমূহঃ
=========
২০১০ সালের পর বাক্তি বিশেষ সমূহের টাকা নেই বলেই চলে । আর এই সুযোগ এর শতকরা ১০০% সুবিধা নিচ্ছে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারিরা । যেহেতু ২০১০ সালের পর বাক্তি বিশেষ সমূহের টাকা নেই তাই তারাও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ কারিদের পেছন পেছন চলার চেষ্টা করছে । আপনারা লক্ষ্য করলে দেখবেন এই সকল প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারিরা তাদের investment শুধু মাত্র গুটি কয়েক শেয়ার এর মধ্যেই সীমাবদ্ধ রেখেছে । যেমন LAFSURCEML,GP, MJLBD, ACI, JAMUNAOIL, MPETROLEUM, SQURPHARMA, ছাড়াও Multinational কোম্পানি গুলো তো আছেই । লক্ষ্য করলে দেখবেন ঘুরে ফিরে এই শেয়ার গুলোই শুধু movement করে । এই শেয়ার গুলো প্রতিদিনের trade volume এর প্রায় ৭৫% দখল করে রাখে । বাকি ২০০ উপর কোম্পানি ভাগে ২০% ও পায় না । sector অনুসারে movement এর তো কোন প্রশ্নই আসেনা । প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারিরা LAFSURCEML বিক্রি করলে GP কিনে, আবার GP বিক্রি করলে LAFSURCEML কিনে । মুদ্দা কথা তারা গুটি কয়েক শেয়ার এর মধ্যেই থাকে । আপনারা ভালো করে লক্ষ্য করলে দেখবেন অনেক sector আছে যেগুলো বছর এর পর বছর পার হয়ে গেছে ঐ সকল sector এর কোন movement নেই, কি dividend কি EPS . কোন কিছুতেই প্রভাব ফেলে না । এটা কোন স্বাভাবিক মার্কেট এর লক্ষণ নয় ।
২০১০ শেয়ার আমরা দেখেছি মার্কেট এর লেনদেন ছিল ২০০০-২৫০০ কোটি টাকা । তার পর ৪ বছর পার হয়ে গেছে । যোগ হয়ে ৪ বছরের dividend । মার্কেট capital ও ২০১০ এর চেয়ে বৃদ্ধি পেয়েছে দিগুন । কিন্তু বর্তমানে লেনদেন হয় মাত্র ২০০-৩০০ কোটি টাকা ।
আমাদের মার্কেট এর আচরণ তখনি স্বাভাবিক হবে যখন এই মার্কেট এর লেনদেন নুন্ন তম ১০০০+ কোটি টাকার লেনদেন হবে । but দুঃখের বিষয় হল আপনারা দেখেছেন যখনি লেনদেন ১০০০ কোটি হয় কোন এক অজানা কারনে বিদ্যুৎ বেগে ২-৩ দিনের মধ্যে এই ২০০-৩০০ কোঁটিতে নেমে আছে । মধ্য সারির বিনিয়োগকারীদের ও দশ বার ভাবতে হয় এত শেয়ার কিনছি যে , শেষ মেষ বিক্রি করতে পারবো তো ?
পরিশেষে আমি আশা করবো প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারিরা স্বাভাবিক আচরণ করবে । কারন এই মুহূর্তে এক মাত্র তারাই পারে মার্কেট এর স্বাভাবিক ছন্দ ফিরিয়ে আনতে । মার্কেট এর ছন্দ ফিরিয়ে আনলে যেমন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা বাঁচবে তেমনি আপনারাও বাঁচবেন । অন্যথায় সাধারণ বিনিয়োগকারীরা সর্বস্বান্ত হবে সাথে সাথে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারিরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে ।
দেশের শেয়ার বাজার স্বাভাবিক ছন্দে ফিরিয়ে এনে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের বাঁচান , বাঁচান দেশের পুজিবাজার।
ধন্যবাদ সবাইকে । 
তানভীর আহমেদ
এবি ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড
উত্তরা,ঢাকা।

আপনার মন্তব্য

Top