ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ২৪ কোটি ৬৮ লাখ শেয়ার বরাদ্দ

IPO_SharebazarNewsশেয়ারবাজার রিপোর্ট: তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর প্রাথমিক গণপ্রস্তাবে (আইপিওতে) ২০ শতাংশ কোটা অনুমোদনের পর থেকে এ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীরা ২৪ কোটি ৬৮ লাখ ৩৯ হাজার ২৪০ শেয়ার বরাদ্দ পেয়েছেন। তবে এর মধ্যে অনেক ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারী আইপিওর লটারীতে নাম না থাকায় কোনো শেয়ারই পাননি।
তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, প্রণোদনা প্যাকেজের বিশেষ স্কিম বাস্তবায়ন অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্থ বিনিয়োগকারীদের ক্ষতিপূরণে আইপিওতে বিশেষ কোটা রাখার সময়সীমা আগামী ৩০ জুন ২০১৬ সালে শেষ হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের স্বার্থের কথা চিন্তা করে এর শেষবারের মতো আরো এক বছর অর্থাৎ ৩০ জুন ২০১৭ পর্যন্ত বাড়িয়েছে অর্থমন্ত্রনালয়।

আগের নির্দেশনা অনুযায়ি, ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীরা সর্বশেষ ২০ শতাংশ কোটা সুবিধা পেয়েছেন বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের আইপিও’তে। কোটা সুবিধা দেয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত পুঁজিবাজারে মোট ৪৮ কোম্পানি ১২৩ কোটি ৪১ লাখ ৯৬ হাজার ২০০ শেয়ার ছেড়েছে। যার ২০ শতাংশ হিসেবে ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীরা ২৪ কোটি ৬৮ লাখ ৩৯ হাজার ২৪০ শেয়ার পেয়েছেন।

জানা গেছে, কোটা সুবিধা চালু করার পর প্রথম জেনারেশন নেক্সট পুঁজিবাজারে মোট ৩ কোটি শেয়ার ছেড়েছে। যার ২০ শতাংশের হিসেবে ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীরা পেয়েছেন ৬০ লাখ শেয়ার। এছাড়া এনভয় টেক্সটাইলের মোট ৩ কোটি শেয়ারের মধ্যে ৬০ লাখ শেয়ার, সানলাইফ ইন্স্যুরেন্সের মোট ১ কোটি ২০ লাখ শেয়ারের মধ্যে ২৪ লাখ শেয়ার, সামিট পূর্বাঞ্চল পাওয়ারের ৩ কোটি শেয়ারের মধ্যে ৬০ লাখ শেয়ার, আরগন ডেনিমসে ৩ কোটি শেয়ারের মধ্যে ৬০ লাখ শেয়ার,  প্রিমিয়ার সিমেন্টে মোট ১ কোটি ২০ লাখ শেয়ারের মধ্যে ২৪ লাখ শেয়ার,  গোল্ডেন হার্ভেষ্ট এগ্রো লিমিটেডের মোট ৩ কোটি শেয়ারের মধ্যে ৬০ লাখ শেয়ার,  গ্লোবাল হেভি কেমিক্যালের মোট ১ কোটি ২০ লাখ শেয়ারের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্তরা পেয়েছেন ২৪ লাখ শেয়ার, অরিয়ন ফার্মার মোট ৪ কোটি শেয়ারের মধ্যে ৮০ লাখ শেয়ার,  বেঙ্গল উইন্ডসর থার্মো প্লাসটিকসের মোট ১ কোটি ৬০ লাখ শেয়ারের মধ্যে ৩২ লাখ শেয়ার,  ফ্যামিলিটেক্সের মোট ৩ কোটি ৪০ লাখ শেয়ারের মধ্যে ৬৮ লাখ শেয়ার,  সেন্ট্রাল ফার্মাসিউটিক্যালের ১ কোটি ৪০ লাখ শেয়ারের মধ্যে ২৮ লাখ শেয়ার, ফারইষ্ট ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেষ্টমেন্ট লিমিটেডের ৪ কোটি ৫০ লাখ শেয়ারের মধ্যে ৯০ লাখ শেয়ার, বাংলাদেশ বিল্ডিং সিস্টেমের ১ কোটি ৪০ লাখ শেয়ারের মধ্যে ২৮ লাখ শেয়ার, প্যারামাউন্ট টেক্সটাইলের ৩ কোটি শেয়ারের মধ্যে ৬০ লাখ শেয়ার।

এছাড়া মোজাফফর হোসেন স্পিনিং মিলস থেকে ২ কোটি ৭৫ লাখ শেয়ারের মধ্যে ৫৫ লাখ শেয়ার, এএফসি এগ্রো বায়োটেকের ১ কোটি ২০ লাখ শেয়ারের মধ্যে ২৪ লাখ শেয়ার ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য বরাদ্দ রয়েছে। তাছাড়া এমারেল্ড ওয়েল ইন্ডাষ্ট্রিজের ২ কোটি শেয়ারের মধ্যে ৪০ লাখ শেয়ার ও মতিন স্পিনিং মিলসের ৩ কোটি ৪০ লাখ শেয়ারের মধ্যে ৬৮ লাখ শেয়ার, হা-ওয়েল টেক্সটাইল ২ কোটি শেয়ারের মধ্যে ৪০ লাখ শেয়ার,  দ্য পেনিনসুলা চিটাগাং এর ৫ কোটি ৫০ লাখ শেয়ারের মধ্যে ১ কোটি ১০ লাখ শেয়ার, ফার কেমিক্যালের ১ কোটি ২০ লাখ শেয়ারের মধ্যে ২৪ লাখ শেয়ার, শাহজিবাজার পাওয়ার কোম্পানির ১ কোটি ২৬ লাখ ৮০ হাজার শেয়ারের মধ্যে ২৫ লাখ ৩৬ হাজার শেয়ার, খুলনা পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেডের ৪ কোটি শেয়ারের মধ্যে ৮০ লাখ শেয়ার,  তুং হাই নিটিং অ্যান্ড ডায়িং কোম্পানির ৩ কোটি ৫০ লাখ শেয়ারের মধ্যে ৭০ লাখ শেয়ার,  ফার ইস্ট নিটিং অ্যান্ড ডায়িং কোম্পানির ২ কোটি ৫০ লাখ শেয়ারের মধ্যে ৫০ লাখ শেয়ার, সুহৃদ ইন্ডাস্ট্রিজের ১ কোটি ৪০ লাখ শেয়ারের মধ্যে ২৮ লাখ শেয়ার, রতনপুর স্টিল রি-রোলিং মিলসের ২ কোটি ৫০ লাখ শেয়ারের মধ্যে ৫০ লাখ শেয়ার, সাইফ পাওয়ার টেকের ১ কোটি ২০ লাখ শেয়ারের মধ্যে ২৪ লাখ শেয়ার, ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ডের ৪ কোটি ৫০ লাখ শেয়ারের মধ্যে ৯০ লাখ শেয়ার,  খান ব্রাদার্স পি পি ওভেন ব্যাগ লিমিটেডের ২ কোটি শেয়ারের মধ্যে ৪০ লাখ শেয়ার, হামিদ ফেব্রিকসের ৩ কোটি শেয়ারের মধ্যে ৬০ লাখ শেয়ার ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে।

গত বছরে ন্যাশনাল ফিডের ১ কোটি ৮০ লাখ শেয়ারের মধ্যে ৩৬ লাখ,  সি অ্যান্ড এ টেক্সটাইলের ৪ কোটি ৫০ লাখ শেয়ারের মধ্যে ৯০ লাখ শেয়ার, ইফাদ অটোজের ২ কোটি ১২ লাখ ৫০ হাজার শেয়ারের মধ্যে ৪২ লাখ ৫০ হাজার শেয়ার, শাশা ডেনিমের ৫ কোটি শেয়ারের মধ্যে ১ কোটি শেয়ার,  জাহিন স্পিনিংয়ের ১ কোটি ২০ লাখ শেয়ারের মধ্যে ২৪ লাখ শেয়ার, বাংলাদেশ স্টিল রি-রোলিং মিলস লিমিটেডের ১ কোটি ৭৫ লাখ শেয়ারের মধ্যে ৩৫ লাখ শেয়ার, তোসরিফা ইন্ডাস্ট্রিজের ২ কোটি ৪৫ লাখ ৬৬ হাজার ২০০ শেয়ারের মধ্যে ৪৯ লাখ ১৩ হাজার ২৪০ শেয়ার, অলিম্পিক এক্সেসরিজের ২ কোটি শেয়ারের মধ্যে ৪০ লাখ শেয়ার, আমান ফিডের ২ কোটি শেয়ারের মধ্যে ৪০ লাখ শেয়ার ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের জন্য বরাদ্দ করা হয়।

এছাড়া কেডিএস এক্সসরিজের ১ কোটি ২০ লাখ শেয়ারের মধ্যে ২৪ লাখ শেয়ার, সিমটেক্স ইন্ডাষ্ট্রিজের ৩ কোটি শেয়ারের মধ্যে ৬০ লাখ শেয়ার, রিজেন্ট টেক্সটাইলের  ৫ কোটি শেয়ারের মধ্যে ১ কোটি শেয়ার, ইনফরমেশন টেকনোলজি কনসালট্যান্টস লিমিটেডের ১ কোটি ২০ লাখ শেয়ারের মধ্যে ২৪ লাখ শেয়ার ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

এদিকে চলতি বছরে ড্রাগন সোয়েটার অ্যান্ড স্পিনিং লিমিটেডের ৪ কোটি শেয়ারের মধ্যে ৮০ লাখ শেয়ার, ডোরিন পাওয়ার জেনারেশনস অ্যান্ড সিস্টেমস লিমিটেডের ২ কোটি শেয়ারের মধ্যে ৪০ লাখ শেয়ার, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের ১ কোটি ৭৭ লাখ শেয়ারের মধ্যে ৩৫ লাখ ৪০ হাজার শেয়ার ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

এদিকে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকায় থাকা অনেক বিনিয়োগকারী এখন পর্যন্ত কোনো শেয়ারই পাননি। তার কারণ হিসেবে জানা যায়, কোনো কোম্পানির ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য বরাদ্দ রয়েছে ৬০ লাখ শেয়ার। এর মধ্যে ২০০টি শেয়ার প্রতি লট হিসেবে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ৩০ হাজার লট শেয়ারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। কিন্তু উক্ত কোম্পানির ক্ষতিগ্রস্তদের কোটায় আবেদন পড়েছে ৪০ হাজার লট শেয়ারের। এক্ষেত্রে লটারীর মাধ্যমে ৩০ হাজার লট শেয়ার বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। তাই বাধ্য হয়েই ১০ হাজার অ্যাকাউন্টধারীকে ক্ষতিগ্রস্তদের কোটা থেকে বঞ্চিত হতে হয়েছে। আবার অনেক বিনিয়োগকারী এই লটারি প্রক্রিয়া ঝামেলা মনে করে এখন পর্যন্ত  আইপিওতে আবেদনই করেনি।
জানা গেছে, পুঁজিবাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বিএসইসি ২০১১ সালের ২৩ নভেম্বর প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করে। প্রণোদনা প্যাকেজে ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে বিশেষ স্কিম দেয়ার জন্য ঐ বছরের ২৭ নভেম্বর ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফায়েকুজ্জামানের নেতৃত্বে ৬ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়। গঠিত কমিটি ২০১২ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি বিনিয়োগকারীদের ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করে বিভিন্ন সুপারিশসহ অর্থ মন্ত্রণালয়ে একটি প্রতিবেদন জমা দেয়। প্রতিবেদনে ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের ২০ শতাংশ কোটা বরাদ্দের কথা বলা হয়। এরপর একই বছরের ৫ মার্চ অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে ২০ শতাংশ কোটায় আবেদন করার জন্য ১৮ মাস সময় বেঁধে দেয় (১ জুলাই ২০১২ থেকে ডিসেম্বর ২০১৩)। ৩০ এপ্রিল বিশেষ স্কিম কমিটি ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের চূড়ান্ত তালিকা প্রণয়ন করে বিএসইসির কাছে জমা দেয়। এর মধ্যে সিকিউরিটিজ হাউজ ও মার্চেন্ট ব্যাংকের ৭ লাখ ৯৬ হাজার ১০৭ জন বিনিয়োগকারী রয়েছেন। ডিএসইর ২০৪টি এবং সিএসইর ১০৩টি সদস্য অর্থাৎ সিকিউরিটিজ হাউজের চিহ্নিত বিনিয়োগকারীরা এ সুবিধা পাচ্ছেন। ২০১৩ সালের ২৬ জুন মার্জিন ঋণের ৫০ শতাংশ সুদ মওকুফ এবং আইপিওতে বিনিয়োগকারীদের ২০ শতাংশ কোটাসহ বিশেষ কমিটির সুপারিশ অনুমোদন করে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের লোকসান সমন্বয়ের কথা চিন্তা করে কোটা বরাদ্দের সময়সীমা শেষ হয়ে গেলেও ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে প্রতিবছরই বাড়ানো হচ্ছে।

শেয়ারবাজারনিউজ/ম.সা

আপনার মন্তব্য

Top