মুনাফায় প্রবৃদ্ধি ঘটেছে অধিকাংশ আর্থিক প্রতিষ্ঠানের

Financial_Institun_sharebazar_newsশেয়ারবাজার রিপোর্ট: দেশের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত অধিকাংশ নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মুনাফা বেড়েছে। চলতি ২০১৬ সালের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত এ তিন মাসে ১৩ টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মুনাফা আগের তুলনায় বেড়েছে। তাছাড়া ২ টি প্রতিষ্ঠানের মুনাফা আগের তুলনায় কমেছে এবং ৪টি প্রতিষ্ঠান লোকসানে রয়েছে।

এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি মুনাফায় ২০০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রিমিয়ার লিজিংয়ের। অপরদিকে মুনাফায় সবচেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি ৮৬ শতাংশ কমেছে আইসিবি’র।

প্রথম প্রান্তিকে সবচেয়ে বেশি লোকসান গুনেছে প্রাইম ফাইন্যান্স।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ২৩টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২০টি প্রতিষ্ঠান তাদের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত তিন মাসের প্রান্তিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রান্তিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত আর্থিক প্রতিষ্ঠান ডেল্টা ব্র্যাক হাউজিং (ডিবিএইচ) এর মুনাফা আগের বছরের তুলনায় ১৫ শতাংশ বেড়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত সময়ে ডিবিএইচের শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ২.৭৫ টাকা। যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ২.৪০ টাকা।

আর্থিক প্রতিষ্ঠান উত্তরা ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টের মুনাফা আগের তুলনায় ৯ শতাংশ বেড়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত সময়ে উত্তরা ফাইন্যান্সের শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) দাঁড়িয়েছে, ২.০১ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১.৮৫ টাকা।

আইডিএলসি ফাইন্যান্সের মুনাফা আগের তুলনায় ১৪২ শতাংশ বেড়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত সময়ে আইডিএলসি ফাইন্যান্সের শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) দাঁড়িয়েছে ১.৪৩ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ০.৫৯ টাকা।

ন্যাশনাল হাউজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টের মুনাফা আগের তুলনায় ৮৫ শতাংশ বেড়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত সময়ে ন্যাশনাল হাউজিং ফাইন্যান্সের শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) দাঁড়িয়েছে ০.৬১ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ০.৩৩ টাকা।

জিএসপি ফাইন্যান্সের মুনাফা আগের তুলনায় ১১৪ শতাংশ বেড়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত সময়ে জিএসপি ফাইন্যান্সের শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) দাঁড়িয়েছে ০.৪৫ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ০.২১ টাকা।

ইউনাইটেড ফাইন্যান্সের মুনাফা আগের তুলনায় ৭ শতাংশ বেড়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত সময়ে ইউনাইটেড ফাইন্যান্সের শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) দাঁড়িয়েছে ০.৪৪ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ০.৪১ টাকা।

আইপিডিসির মুনাফা আগের তুলনায় ৩৮ শতাংশ বেড়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত সময়ে আইপিডিসির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) দাঁড়িয়েছে ০.৪০ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ০.২৯ টাকা।

লঙ্কাবাংলা ফাইন্যান্সের মুনাফা আগের তুলনায় ১২৯ শতাংশ বেড়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত সময়ে লঙ্কাবাংলা ফাইন্যান্সের শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) দাঁড়িয়েছে ০.৩৩ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১.১৫ টাকা (লোকসান)।

মাইডাস ফাইন্যান্সের মুনাফা আগের তুলনায় ২৮ শতাংশ বেড়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত সময়ে মাইডাস ফাইন্যান্সের শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) দাঁড়িয়েছে ০.৩২ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ০.২৫ টাকা।

বিডি ফাইন্যান্সের মুনাফা আগের তুলনায় ১২১ শতাংশ বেড়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত সময়ে বিডি ফাইন্যান্সের শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) দাঁড়িয়েছে ০.২৪ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১.১৬ টাকা (লোকসান)।

ইউনিয়ন ক্যাপিটালের মুনাফা আগের তুলনায় ৩৩ শতাংশ বেড়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত সময়ে ইউনিয়ন ক্যাপিটালের শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) দাঁড়িয়েছে ০.২০ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ০.১৫ টাকা।

বে লিজিং অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টের মুনাফা অপরিবর্তিত রয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত সময়ে বে-লিজিংয়ের শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) দাঁড়িয়েছে ০.১৯ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ০.১৯ টাকা।

প্রিমিয়ার লিজিংয়ের মুনাফা আগের তুলনায় ২০০ শতাংশ বেড়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত সময়ে প্রিমিয়ার লিজিংয়ের শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) দাঁড়িয়েছে ০.১৫ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ০.০৫ টাকা।

ইসলামিক ফাইন্যান্সের মুনাফা আগের তুলনায় ২৭৫ শতাংশ বেড়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত সময়ে ইসলামিক ফাইন্যান্সের শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) দাঁড়িয়েছে ০.১৫ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ০.০৪ টাকা।

ফিনিক্স ফাইন্যান্সের মুনাফা আগের তুলনায় ২৬ শতাংশ কমেছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত সময়ে ফিনিক্স ফাইন্যান্সের শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) দাঁড়িয়েছে ০.৫৫ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ০.৭৪ টাকা।

রাষ্ট্রায়ত্ত আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইসিবির মুনাফা আগের তুলনায় ৮৬ শতাংশ কমেছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত সময়ে আইসিবির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) দাঁড়িয়েছে ০.০৮ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ০.৫৯ টাকা।

অন্যাদিকে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত সময়ে ফারইস্ট ফাইন্যান্সের লোকসান বেড়েছে। এ সময়ে ফারইস্ট ফাইন্যান্সের শেয়ারপ্রতি লোকসান (ইপিএস) দাঁড়িয়েছে ০.৭৯ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ০.১৬ টাকা।

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত সময়ে প্রাইম ফাইন্যান্সের লোকসান বেড়েছে। এ সময়ে প্রাইম ফাইন্যান্সের শেয়ারপ্রতি লোকসান (ইপিএস) দাঁড়িয়েছে ০.৭১ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ০.৪০ টাকা।

ফাস ফাইন্যান্সের লোকসান আগের তুলনায় বেড়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত সময়ে ফাস ফাইন্যান্সের শেয়ারপ্রতি লোকসান (ইপিএস) দাঁড়িয়েছে ০.৩১ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ০.০৮ টাকা।

ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের লোকসান আগের তুলনায় কমেছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত সময়ে ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের শেয়ারপ্রতি লোকসান (ইপিএস) দাঁড়িয়েছে ০.১৬ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ০.৭৭ টাকা।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, বিগত ২০১৫ সালে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবসা আশানুরূপ হয় নি। বিনিয়োগ স্থবিরতার কারণে প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবসা কমে গেছে। তবে চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের মুনাফা বাড়া ইতিবাচক। কিন্তু বর্তমানে ব্যাংকের সুদের হার কমে যাওয়ার কারণে এ বছর আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রে কঠিন প্রতিযোগিতার সম্মুখীন হতে হবে।

শেয়ারবাজারনিউজ/আ

আপনার মন্তব্য

Top