আদালতের স্থগিতাদেশ লঙ্ঘন করে মার্জিন হিসাবে ডিভিডেন্ড: দায় নেবে না বিএসইসি

BSECশেয়ারবাজার রিপোর্ট: উচ্চআদালত মার্জিন ঋণধারী বিনিয়োগকারীদের প্রাপ্য ডিভিডেন্ড সরাসরি ব্যাংক হিসাবে না পাঠিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্রোকারেজ হাউজে পাঠানো সংক্রান্ত বিএসইসির নির্দেশনা স্থগিত করে। কিন্তু বিবাদী নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) দায়িত্বহীনতায় উচ্চআদালতের স্থগিতাদেশ বাস্তবায়ন হচ্ছে না। বরং বিএসইসি আদালতের এখতিয়ার বলে প্রসঙ্গটি পাশ কাটিয়ে যাচ্ছে। অপরদিকে, কোন ব্যাখ্যা বা নির্দেশনা না পাওয়ার দোহাই দিয়ে কোম্পানিগুলো সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মার্জিন হিসাবে ক্যাশ ডিভিডেন্ড পাঠাচ্ছে।

এর আগে, মার্জিন ঋণে জর্জরিত ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের পক্ষে ফয়সাল আহমেদ পাটোয়ারী উচ্চআদালতে রিট আবেদন করেন। এর প্রেক্ষিতে গত ১১ মে বিচারপতি নাঈমা হোসেন এবং বিচারপতি রাজেক-আল-জলিলের আদালত মার্জিন ঋণধারী বিনিয়োগকারীদের প্রাপ্য ডিভিডেন্ড সরাসরি তাদের কাছে না পাঠিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্রোকারেজ হাউজে পাঠানো সংক্রান্ত বিএসইসির নির্দেশনা স্থগিত করে। এ রিটে অর্থমন্ত্রণালয়, বিএসইসি, ইবিএল সিকিউরিটিজ লিমিটেড, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং সিকিউরিটিজ, সোস্যাল ইসলামি ব্যাংক লিমিটেড ও নর্দার্ন জেনারেল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডকে বিবাদী করা হয়।

কিন্তু স্থগিতাদেশ থাকা সত্ত্বেও কিছু কোম্পানি ক্যাশ ডিভিডেন্ড সংশ্লিষ্ট সাধারণ বিনিয়োগকারীর ব্যাংক হিসাবে না পাঠিয়ে মার্জিন হিসাবে পাঠিয়েছে বলে অভিযোগ করছেন ভুক্তভোগী বিনিয়োগকারীরা।

এ প্রসঙ্গে বিনিয়োগকারী মো: শফিকুল ইসলাম শেয়ারবাজারনিউজ ডটকমকে বলেন, উচ্চআদালতের স্থগিতাদেশ অমান্য করে সিঙ্গার বিডি ক্যাশ ডিভিডেন্ড আমার ব্যাংক হিসাবে না পাঠিয়ে মার্জিন হিসাবে পাঠিয়েছে। এ প্রসঙ্গে কোম্পানিটির পক্ষ থেকে জানানো হয় তারা বিএসইসি থেকে ক্যাশ ডিভিডেন্ড মার্জিন ঋণ না পাঠানোর কোন নির্দেশনা পায়নি।

এছাড়া ফিনিক্স ফাইন্যান্স, ইউনাইটেড পাওয়ারসহ অন্য কোম্পানিগুলো এ প্রসঙ্গে বিএসইসি কিংবা ডিএসই’র কোন নির্দেশনা বা ব্যাখ্যা না থাকার দোহাই দিয়ে ক্যাশ ডিভিডেন্ড বিনিয়োগকারীর হিসাবে পাঠানো হচ্ছে না বলে জানিয়েছে।

এদিকে আদালতের স্থগিতাদেশ বাস্তবায়নের দায় বিএসইসি নেবে না জানিয়ে সংস্থাটির মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক মো: সাইফুর রহমান শেয়ারবাজার নিউজ ডটকমকে বলেন, উচ্চআদালত স্থগিতাদেশ বাস্তবায়নে আলাদা ভাবে কোন নির্দেশনা দেননি। তাই বিএসইসি এ প্রসঙ্গে আলাদাভাবে কোন নির্দেশনা বা ব্যাখ্যা দেয়ার এখতিয়ার রাখে না।

যেসব কোম্পানি এ স্থগিতাদেশ অমান্য করেছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে কে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যেহেতু উচ্চআদালত এ স্থগিতাদেশ দিয়েছেন সেহেতু এর অমান্যকারীদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেবেন উচ্চআদালত। এখানে বিএসইসি’র কোন দায় নেই।

এ স্থগিতাদেশের বিরুদ্ধে বিএসইসি কোন আপিল করবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে এখনও কোন আলোচনা হয়নি। এ প্রসঙ্গে কমিশন সিদ্ধান্ত নেবেন।

উল্লেখ্য, পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) গত বছরের ৯ জুন মার্জিন ঋণধারী বিনিয়োগকারীদের প্রাপ্য ডিভিডেন্ড সরাসরি তাদের কাছে না পাঠিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্রোকারেজ হাউজে পাঠানো নির্দেশনাটি জারি করেছিল। নির্দেশনাটি স্থগিত হয়ে যাওয়ায় সংশ্লিষ্ট কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের ক্যাশ ডিভিডেন্ড সরাসরি শেয়ারহোল্ডার ও ইউনিটধারীর কাছে পাঠাতে হবে। এটি ইএফটিএনের (Electronic Fund Transfer) মাধ্যমে তাদের বিও হিসাবে উল্লেখ করা ব্যাংক হিসাবে জমা করা যাবে অথবা ডিভিডেন্ড ওয়ারেন্ট নামের বিশেষ চেকের মাধ্যমেও পরিশোধ করা যাবে।

শেয়ারবাজারনিউজ/আ

আপনার মন্তব্য

*

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Top