টেকসই উন্নয়নের জন্য অবকাশ সুবিধা চায় সিএসই

cseশেয়ারবাজার রিপোর্ট: ডি-মিউচ্যুয়ালাইড এক্সচেঞ্জের টেকসই উন্নয়নের জন্যই নীতি সহায়তা ও কর অব্যাহতি সুবিধা দাবী করেছে দেশের অন্যতম স্টক এক্সচেঞ্জ চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই)।

আজ রোববার সিএসই’র কনফারেন্স হলে আয়োজিত বাজেট পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় সুযোগ তৈরীর জন্য সরকারের কাছে এ সংক্রান্ত বেশকিছু দাবী দা্ওয়া পেশ করে সংস্থাটির পরিচালনা পর্ষদের প্রতিনিধিরা।

সিএসই’র সদ্য দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাইফুর রহমান মজুমদার বলেন, ‘সিএসই’তে যেসব সংস্কার কাজ সম্পন্ন হয়েছে সেটা দীর্ঘমেয়াদী সময়ের জন্য টিকিয়ে রাখাটাই লক্ষ্য। এ কারনেই বিভিন্ন ধরনের নীতি-সহায়তার জন্য সরকারের জন্য আবেদন করছি’। বাজারে আস্থার সংকট আছে এ কথা স্বীকার করে এ কর্মকর্তা বলেন, ‘বিভিন্ন কারনেই বাজারে সাধারন ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থার সংকট রয়েছে। নতুন করে স্ট্র্যাটেজিক পার্টনার ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে সিএসই’র শেয়ারকে আকর্ষনীয় করার জন্য এসব প্রনোদনা আস্থা বাড়াবে বলে বিশ্বাস করি’।

কর অবকাশ সুবিধা দিলেই সিএসই’র পক্ষে স্ট্র্যাটেজিক পার্টনার ও প্রতিষ্ঠানের কাছে সিএসই আকর্ষনীয় হয়ে উঠবে কি না- এমন প্রশ্নের জবাব কৌশলে এড়িয়ে যান তিনি। এক্সচেঞ্জ ডি-মিউচ্যুয়ালাইজড হওয়ার তিন বছরের মধ্যে স্ট্র্যাটেজিক পার্টনার নিয়োগ দিতে হবে- এমন বাধ্য-বাধকতা থাকলেও অগ্রগতি কতটুকু সে ব্যাপারেও পরিষ্কার করে কিছু জানাননি সিএসই কর্তা। তিনি বলেন, ‘ডি-মিউচ্যুয়ালাইজড হওয়ার প্রথম পাঁচ বছর অন্তত স্থায়ী উন্নয়নের স্বার্থে এক্সচেঞ্জগুলোকে সুযোগ দেওয়া উচিৎ। ডি-মিউচ্যুয়ালাইজড হওয়ার আগের সুবিধাগুলোকে বহাল রাখাও এক্ষেত্রে প্রনোদণার মত কাজ করবে।

বাজেটে আলাদা করে কোনো সুবিধা এক্সচেঞ্জগুলোকে দেওয়া না হলেও সিএসই’তে এর কোনো প্রভাব পড়বে না উল্লেখ করে সিএসই’র চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ বলেন, ‘বাজেট নিয়ে সন্তুষ্টি বা অসন্তুষ্ট হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। আমরা আগে যেমন ছিলাম এখনো তেমনি আছি’। এখন এক্সচেঞ্জগুলোকে প্রনোদণা সুবিধা দেওয়া হলে, পরবর্তি সময়ে এক্সচেঞ্জগুলোই সরকারের জন্য ফলবতী বৃক্ষে পরিণত হতে পারবে বলে মনে করছেন সাবেক এ কর কর্মকর্তা। তিনি বলেন, ‘খেজুরের রস খেতে চাইলে গাছের যত্ন নিতে হবে। এখন প্রণোদনা দিলে পরবর্তী সময়ে ডিভিডেন্ড ও পরিচালন করসহ বিভিন্ন ধরনের আয়ে সরকারি খাতে আরো বেশি অবদান রাখতে পারবে এক্সচেঞ্জগুলোকে’। পুঁজিবাজারকে দেশের আয় বাড়ানোর উৎস বিবেচনা করে সরকারের নীতি-সহায়তা দেওয়া উচিৎ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

বাজেট পরবর্তি এ সংবাদ সম্মেলনে সরকারের কাছ থেকে কোনো সুবিধা আসেনি স্বীকার করলেও, নতুন করে কোনো কর আরোপ করেনি উল্লেখ করে স্বস্তি প্রকাশ করেন সিএসই চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, ‘আগের বছর বাজেটে যেখানে-সেখানে কর আরোপ করে দেওয়া হয়েছিল। এবার তো অন্তত নতুন করে অর্থ আইনে কোনো কর আরোপ করা হয়নি’। ফাইন্যান্সিয়াল রিপোটিং অ্যাক্টের কার্যকারীতা বাজারে আরো স্বচ্ছতা আনবে বলেও উল্লেখ করেন আব্দুল মজিদ। তাই আশা-নিরাশার দোলাচলে থাকলেও, প্রস্তাবিত বাজেট চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নয় বলে শেষ পর্যন্ত আশা জিয়িয়ে রাখছেন সিএসই নীতি-নির্ধারকরা।

সংবাদ সম্মেলনে সিএসই’র প্রতিনিধি হিসাবে চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পাশপাশি কোম্পানির পরিচালক লংকা-বাংলা সিকিউরিটিজের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খায়রুল আনাম চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ারবাজারনিউজ/ওহ

আপনার মন্তব্য

Top