তালিকাভুক্ত ৫ কোম্পানিতে নিরীক্ষক নিয়োগ দিল আইডিআরএ

insuranceশেয়ারবাজার রিপোর্ট: বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তদন্তে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত জীবন বীমা খাতের আরো পাঁচ কোম্পানিতে নিরীক্ষক নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)।আইডিআরএ সূত্রে জানা গেছে।

কোম্পানিগুলো হলো— ফারইস্ট ইসলামী লাইফ, সানলাইফ, পপুলার লাইফ, প্রাইম ইসলামী লাইফ ও প্রগ্রেসিভ লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি।

এর আগে আইডিআরএর উদ্যোগে আরো কয়েকটি জীবন বীমা কোম্পানিতে বিশেষ নিরীক্ষা পরিচালিত হয়। কোম্পানিগুলো ছিল— পদ্মা লাইফ, ন্যাশনাল লাইফ, মেঘনা লাইফ, প্রগতি লাইফ ও সানফ্লাওয়ার লাইফ ইন্স্যুরেন্স।

কোম্পানিগুলোর নিরীক্ষা প্রতিবেদনে প্রায় হাজার কোটি টাকার আর্থিক অনিয়মের চিত্র উঠে এসেছে। সংশ্লিষ্ট কোম্পানির কাছে সম্প্রতি এর ব্যাখ্যা চেয়েছে আইডিআরএ।

জানা যায়, কোম্পানিগুলোর ২০১২, ২০১৩ ও ২০১৪ সালের ব্যবসায়িক চিত্র নিরীক্ষা করবে আইডিআরএ’র নিয়োগ দেয়া নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান। তারা কোম্পানির অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা ব্যয়, বিনিয়োগ, প্রিমিয়াম আয়, তামাদি পলিসি, লাইফ ফান্ড ও সম্পদের প্রকৃত তথ্য যাচাই-বাছাই করে দেখবেন বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে আইডিআরএ সদস্য সুলতান উল আবেদীন মোল্লা শেয়ারবাজারনিউজ ডটকমকে বলেন, এর আগে কিছু কোম্পানির নিরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। আরো কিছু কোম্পানিতে নিরীক্ষক নিয়োগ করা হবে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমরা পর্যায়ক্রমে জীবন বীমা খাতের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানেই নিরীক্ষক নিয়োগ করব।

জানা যায়, নিরীক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়ায় থাকা কোম্পানিগুলোর মধ্যে ব্যবসায় এগিয়ে রয়েছে ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স। ২০১৫ সালে এ কোম্পানি মোট ৮৫১ কোটি ১৩ লাখ টাকা প্রিমিয়াম আয় করেছে। আগের বছরও ৭৬৭ কোটি ১৩ লাখ টাকা প্রিমিয়াম আয় করে ব্যবসার শীর্ষে ছিল এ কোম্পানি।

এদিকে প্রগ্রেসিভ লাইফ ইন্স্যুরেন্সের নবায়ন প্রিমিয়াম আয় অর্ধেকে নেমে এসেছে। আবার প্রিমিয়াম থেকে যে আয় আসে, তার প্রায় পুরোটাই ব্যয় হচ্ছে ব্যবস্থাপনা পরিচালনায়। নিয়মবহির্ভূত কমিশন, ভুয়া বিল দাখিলসহ বিভিন্ন জালিয়াতির মাধ্যমে কোম্পানির অর্থ হাতিয়ে নেয়ারও অভিযোগ রয়েছে ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। এতে বীমা দাবি পরিশোধের সক্ষমতা কমছে প্রতিষ্ঠানটির। সব মিলিয়ে সংকটে রয়েছে কোম্পানিটি। পরিচালনা পর্ষদ সদস্যদের পাল্টাপাল্টি মামলা, অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে বিনিয়োগ করেও এর বিপরীতে কোনো লভ্যাংশ পাচ্ছেন না সাধারণ বিনিয়োগকারী ও বীমাগ্রহীতারা। ২০১৩ সাল থেকে এ কোম্পানিকে ঘিরে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, যা দিন দিন প্রকট আকার ধারণ করছে। এর আগে ২০০০ সাল থেকে টানা সাত বছর লভ্যাংশ দিতে ব্যর্থ হয় কোম্পানিটি।

এদিকে ২০০৭ ও ২০০৯ সালে সম্পদ মূল্যায়ন ছাড়াই লভ্যাংশ দেয়ার অভিযোগ ওঠে প্রাইম ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের বিরুদ্ধে, যা ১৯৩৮ সালের বীমা আইনের ১৩(১) ও (২) ধারার লঙ্ঘন। ২০০৬ সালের অপ্রদত্ত লভ্যাংশ ২০০৭ সালের জন্য নির্ধারিত দেড় কোটি টাকার লভ্যাংশের সঙ্গে সমন্বয় করা হয়নি। ২০০৮ সালেও একই রকম করা হয়। মূলত এসব বিষয় তদন্তেই কোম্পানিটিতে নিরীক্ষক নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। ২০১৫ সালে এ কোম্পানির লাইফ ফান্ডের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৭২ কোটি ৩০ লাখ টাকা। ২০১৫ পর্যন্ত সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪১৫ কোটি ৪৫ লাখ টাকা।

নিরীক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়ায় থাকা আরেক কোম্পানি পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্সের বিনিয়োগের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৫০৬ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। গত ৩১ ডিসেম্বর কোম্পানিটির মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৮৮৬ কোটি ৪৭ লাখ টাকা।

এছাড়া ২০১৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর প্রাইম ইসলামী লাইফের বিনিয়োগের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫৭১ কোটি ৮১ লাখ টাকা। এ সময় কোম্পানিটির সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ৮৫০ কোটি ৩৩ লাখ টাকা।

নিয়ন্ত্রক সংস্থা সূত্রে জানা গেছে, নিরীক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়ায় থাকা প্রতিটি কোম্পানির বিরুদ্ধেই নির্ধারিত সীমার বেশি ব্যবস্থাপনা ব্যয় করার অভিযোগ রয়েছে, রয়েছে অন্যান্য অভিযোগও। এসবের সুষ্ঠু তদন্তের জন্যই কোম্পানিগুলোয় নিরীক্ষক নিয়োগ করা হচ্ছে।

শেয়ারবাজারনিউজ/আ

আপনার মন্তব্য

Top