ওটিসির ২৭ কোম্পানির সার্কিট ব্রেকার নেই

OTC_SharebazarNewsশেয়ারবাজার রিপোর্ট: ওভার দ্য কাউন্টার (ওটিসি) মার্কেটে বিনিয়োগকারীদের সুবিধার্থে কোম্পানির লেনদেনে সার্কিট ব্রেকার দেয়া হলেও এ মার্কেটে ২৭ কোম্পানি রয়েছে সার্কিট ব্রেকারের বাইরে। জানা গেছে, এসকল কোম্পানির সার্কিট ব্রেকারের শতকরা লিমিট,টিক সাইজ এবং বেজ প্রাইজ দেয়া থাকলেও আপার কিংবা লোয়ারের কোনো প্রাইস লিমিট নেই। অর্থাৎ কোম্পানির শেয়ার লেনদেনের ক্ষেত্রে কত পরিমাণ সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন দর নির্ধারণ করা হবে এমন কোনো লিমিট নেই।
এ ব্যাপারে ডিএসই কর্তৃপক্ষ বলছে, যেদিন কোনো কোম্পানির কর্পোরেট ঘোষণা করা হয় সেদিন সে কোম্পানির দরের কোনো সার্কিট ব্রেকার থাকে না। লেনদেন হওয়ার পরের কার্যদিবস থেকে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির শেয়ার লেনদেনে সার্কিট ব্রেকারের লিমিট দেয়া হয়। যেসকল কোম্পানি সার্কিট ব্রেকারের বাইরে রয়েছে এগুলোর কর্পোরেট ঘোষণা করার পর এখনো লেনদেন হয়নি। তাই এগুলোর লেনদেনের ক্ষেত্রে সার্কিট ব্রেকার দেয়া হয়নি। যেদিন এগুলোর লেনদেন হবে তার পরের কার্যদিবস থেকে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির শেয়ার লেনদেনের ক্ষেত্রে সার্কিট ব্রেকার বেঁধে দেয়া হবে।
জানা গেছে, ওটিসিতে অন্যান্য কোম্পানির সার্কিট ব্রেকার দেয়া হলেও ২৭ কোম্পানির শেয়ার লেনদেনে কোনো সার্কিট ব্রেকার দেয়া নেই।

এগুলো হলো: আল-আমিন কেমিক্যাল ইন্ডাষ্ট্রিজ,  আলফা টোবাকো, আজাদী প্রিন্টার্স, বাংলা প্রসেস, বিডি হোটেলস, বাংলাদেশ লীফ টোবাকো,  বেঙ্গল বিস্কুট, বিডি প্লান্ট, ড্যান্ডি ডাইং, ডায়নামিক টেক্সটাইল, ঈগল স্টার, গচিহাটা অ্যাকুয়া কালচার, গালফ ফুডস,  হিল প্লান্টেশন, হিমাদ্রি লিমিটেড,  লেক্সকো,ম্যাক এন্টারপ্রাইজ, ম্যাক পেপার ইন্ডাষ্ট্রিজ লিমিটেড, বিডি মনোস্পুল পেপার, মেঘনা শ্রীম্প কালচার, মডার্ন ইন্ডাষ্ট্রিজ, নিলয় সিমেন্ট লিমিটেড,  প্যাট্রো সিনথেটিকস, ফনিক্স লেদার, রাঙ্গামাটি ফুড, শ্রীপুর টেক্সটাইল মিলস, থেরাপিউটিক্স বাংলাদেশ এবং ইউসুফ ফ্লাওয়ার।

জানা যায়, কর্পোরেট সুবিধা ঘোষণার পর থেকে এখনো পর্যন্ত এসকল কোম্পানির লেনদেন না হওয়ার নেপথ্যে রয়েছে নানা জটিলতা। উৎপাদন বন্ধ, ক্রমাগত লোকসান, দীর্ঘদিন বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ না দেয়া, নিয়মিত বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) না করা, শেয়ার ডিমেট (ইলেকট্রনিক) না করাসহ কোম্পানি আইন লঙ্ঘন ইত্যাদি অপরাধের শাস্তিস্বরুপ পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলো ওটিসি মার্কেটে পাঠিয়ে দেয়া হয়। যাতে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ আবার মূল মার্কেটে ফেরার জন্য প্রয়োজনীয় শর্ত পালন করে। কিন্তু বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ উল্টো।

ওটিসি মার্কেট কোম্পানি কর্তৃপক্ষকে দায়বদ্ধতায় ফেরাতে কোনো ভূমিকা রাখতে পারেনি। বরং অনেক কোম্পানির মালিকপক্ষের জন্য ওটিসি মার্কেট শাস্তির পরিবর্তে শান্তির স্থানে পরিণত হয়েছে। জবাবদিহি করতে হয় না বলে দিনের পর দিন অনেক কোম্পানি স্বেচ্ছায় ওটিসি মার্কেটে অবস্থান করে। কোম্পানির উন্নয়ন কিংবা শেয়ারহোল্ডারদের দিকে সুনজর না দিয়ে অনেক কোম্পানির পরিচালক এখন বিদেশ বিভুঁইয়ে। তবে রেকর্ড যাই হোক না কেন ওটিসির কোম্পানিগুলোর শেয়ার লেনদেনের সুযোগ থাকা দরকার বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।

তারা বলছেন, কোম্পানিগুলোর নিয়মিত লেনদেন হয়না বিধায় এগুলোর পুঁজিবাজারের প্রতি উদাসীনতা লক্ষ্য করা যায়। যদি নিয়মিত লেনদেন হতো তাহলে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা তৈরি হতো। আর এর জন্য প্রয়োজন ওটিসিকে গতিশীল করা। তাই এ মার্কেটকে গতিশীল করতে প্রয়োজন যুগোপযোগী নীতিমালা প্রণয়ন এবং তার বাস্তবায়ন।

শেয়ারবাজারনিউজ/ম.সা

আপনার মন্তব্য

Top