করারোপ নিয়ে মুখোমুখি বিএসইসি ও এনবিআর

BSECশেয়ারবাজার রিপোর্ট: অবসায়নে যাওয়া মেয়াদি মিউচ্যুয়াল ফান্ড থেকে ইউনিট হোল্ডারদের প্রাপ্ত অর্থকে মূলধনী মুনাফা হিসেবে গণ্য না করে ডিভিডেন্ড হিসেবে করারোপ করছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এভাবে করারোপ করাকে অনৈতিক ও বেআইনি বলছে বিএসইসি। তাই বিষয়টিকে কেন্দ্র করে এ দুই নিয়ন্ত্রক সংস্থা একে অপরের মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছে বলে জানা যায়।

জানা যায়, সম্প্রতি অবসায়নে যাওয়া দুই মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ‘এইমস ফার্স্ট গ্যারান্টিড মিউচ্যুয়াল ফান্ড এবং ফার্স্ট স্কীম অব গ্রামীণ মিউচ্যুয়াল ফান্ড ওয়ান’ থেকে ইউনিট হোল্ডারদের প্রাপ্ত টাকা ডিভিডেন্ড হিসেবে ধরে তার উপর কর আরোপ করাকে কেন্দ্র করে দুই নিয়ন্ত্রক সংস্থার মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত ঘটে।

এনবিআর এর বৃহৎ করদাতা ইউনিট (এলটিইউ) বলছে, অবসায়নে যাওয়া মেয়াদি মিউচ্যুয়াল ফান্ড থেকে ইউনিট হোল্ডারদের প্রাপ্ত টাকা ডিভিডেন্ড হিসেবে গণ্য করা হবে।

কিন্তু বিএসইসি এনবিআর এর এমন হিসাবের সাথে একমত হতে পারেনি।

সম্প্রতি, এইমস ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ট্রাস্টি বাংলাদেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্সকে এলটিইউ এক চিঠির মাধ্যমে নির্দেশ দিয়ে বলে, লিক্যুইডিটেশনের ফলে ফান্ডটির ইউনিট হোল্ডারদের ক্রয়মূল্য বাদ দিয়ে যে মুনাফা হয়েছে তা ডিভিডেন্ড হিসেবে গণ্য করে আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ এর ধারা ৫৪ ও ৫৬ অনুযায়ী এর থেকে ট্যাক্স কেটে রাখতে হবে।

এলটিইউ আরও বলছে, আয়কর অধ্যাদেশের ধারা ৩১ অনুযায়ী সম্পদ হস্তান্তরের মাধ্যমে মূলধনী মুনাফা হয়। কিন্তু লিক্যুইডিটিশেনের ফলে ইউনিট হোল্ডারদের সমন্বিত মুনাফা মূলধনী মুনাফা নয়। কারন লিক্যুইডিশনের ফলে ফান্ডের সম্পদ হস্তান্তর হয় না। তাই এই মুনাফাকে মূলধনী মুনাফা হিসেবে গণ্য করার সুযোগ নেই।

এ প্রেক্ষিতে এনবিআর-কে দেয়া এক চিঠিতে বিএসইসি বলে, মিউচ্যুয়াল ফান্ড কোনো কোম্পানি নয়। কমিশন উল্লেখ করে, সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন রুলস ২০১১ অনুযায়ী, মিউচ্যুয়াল ফান্ড ট্রাস্টি হিসেবে বিবেচিত হয় কারণ এর ফান্ড সাধারন বিনিয়োগকারীদের অর্থ সংগ্রহের মাধ্যেমে সম্পন্ন করা হয়। চিঠিতে বলা হয়, ১৯৮৪ সালের আয়কর অধ্যাদেশের ২ (২০) অনুযায়ী ‘কোম্পানি ও ট্রাস্ট সম্পূর্ণ ভিন্ন স্বত্ত’। এইমস ফার্স্ট গ্যারান্টি মিউচ্যুয়াল ফান্ডের অবসায়নের বিষয়টি উল্লেখ করে কমিশন এনবিআর’কে জানায়, ফান্ডের ইউনিট হস্তান্তরের ক্ষেত্রে ফান্ডের মুনাফা বন্টন করা হচ্ছে না বরং ফান্ডের বিক্রয়যোগ্য সম্পদ বিক্রি করে ওই অর্থ ফান্ডের ইউনিট মালিকদের মধ্যে বন্টন করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, ফান্ডটির ট্রাস্টি পুরো সম্পদ বিক্রির অর্থ বন্টন না করে আয়করের সমপরিমান অর্থ আলাদা করে রেখেছে। বিএসইসি’র পক্ষ থেকে জানানো হয়, আয়কর বিভাগের সম্মতি ছাড়া করের সমপরিমান অর্থ হস্তান্তর করা যাবে না।

সিকিউরিটিজ আইনানুযায়ী, ডিভিডেন্ড আয়ের ওপর কোম্পানিগুলোকে ২০ শতাংশ হারে কর প্রদান করতে হবে। এর মধ্যে ব্যাক্তিশ্রেনির ওপর কর আরোপের পরিমান ১০ শতাংশ ও টিআইএনধারী বিনিয়োগকারীদের ওপর তা ১৫ শতাংশ। এক্ষেত্রে আড়াই লাখ টাকা পর্যন্ত আয়ে কর প্রযোজ্য হবে না। ক্যাপিটাল গেইনের ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীকে ১০ শতাংশহারে কর প্রদান করতে হবে। কিন্তু লার্জ ট্যাক্সপেয়ারর্স ইউনিট বিএসআরএস ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ট্রাস্টিকে কর প্রদানের পর প্রাপ্ত অর্থ ইউনিট হোল্ডারদের বিতরনের নির্দেশনা দেয়।

এছাড়া শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি-কে লাইসেন্স ইস্যু বাবদ নেয়া টাকা থেকে ১৫ শতাংশ হারে মূসক পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছে এনবিআর। ২০১১ সাল থেকে হিসাব করে এ টাকা পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছিল এনবিআর। এর বিপরীতে ২০১১ থেকে ২০১৬ পর্যন্ত আরোপিত মূসক প্রত্যাহারের জন্য অনুরোধ করেছিল বিএসইসি। কিন্তু এনবিআর বিএসইসি’র অনুরোধে কান দেয়নি।

শেয়ারবাজারনিউজ/আহা/ওহ

আপনার মন্তব্য

Top