বহুজাতিক কোম্পানিতে সাধারণের বিনিয়োগ কিনে নিচ্ছে প্রতিষ্ঠান

multinationalশেয়ারবাজার রিপোর্ট: দেশের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ১২টি বহুজাতিক কোম্পানিতে সাধারন বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগ কমছে। আর সাধারনের এ বিনিয়োগ কিনে নিচ্ছে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা। ফলশ্রুতিতে গত তিন বছরে ক্রমান্বয়ে বহুজাতিক কোম্পানিগুলোতে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহন বাড়ছে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে জানা যায়, তালিকাভুক্ত ১২টি কোম্পানির মধ্যে ১০টি কোম্পানিতেই প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বেড়েছে, এর বিপরীতে কমেছে মাত্র ২টি কোম্পানিতে। এদিকে কোম্পানিগুলোর মধ্যে ১০টি কোম্পানিতে সাধারন বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগ কমেছে, এর বিপরীতে বেড়েছে মাত্র ৩ কোম্পানিতে। অর্থাৎ সাধারন বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগের অংশ কিনে নিয়েছে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগাকারীরা। অন্যদিকে, বহুজাতিক কোম্পানির মধ্যে ৪ কোম্পানিতে বিদেশী বিনিয়োগ বেড়েছে, কমেছেও ৪ কোম্পানিতে।

হিসাবের উল্টো চিত্র শুধুমাত্র ম্যারিকো বাংলাদেশের শেয়ারের ক্ষেত্রে। কোম্পানিতে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের হাতে থাকা ৯.২৬ শতাংশ শেয়ারের পুরোটাই বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। আর এ শেয়ারের পুরোটাই গিয়েছে সাধারন বিনিয়োগকারীদের হাতে। গত এক বছরে সাধারন বিনিয়োগকারীদের মালিকানায় থাকা শেয়ারের পরিমান ০.৭৬ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশে উঠে এসেছে।

বহুজাতিক বার্জার পেইন্টসে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ ২০১৫ অর্থবছরের শেষ পর্যন্ত ছিল ২.৯১ শতাংশ যা বেড়ে বর্তমানে ৩.০০ শতাংশে এসে দাঁড়িয়েছে। এর পাশাপাশি সাধারন বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগ বেড়েছে সামান্য পরিমানে। গত এক বছরে তা ০.৫৫ শতাংশ থেকে বেড়ে ০.৫৯ শতাংশে এসে দাঁড়িয়েছে। গ্ল্যাস্কো-স্মিথক্লাইনে গত এক বছরে সাধারন বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগ ৪.০৭ শতাংশ থেকে কমে ০.৯৫ শতাংশে নেমেছে। একই সময়ে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ ১৩.৯৫ শতাংশ থেকে কমে ১৭.০৫ শতাংশে উঠে এসেছে। গ্রামিনফোনে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ এক বছরে ৫.০১ শতাংশ থেকে ৫.৪৫ শতাংশে উঠে এসেছে যার বিপরীতে সাধারন বিনিয়োগকারীদের অংশ ২.৮৯ শতাংশ থেকে ২.৭১ শতাংশে নেমে এসেছে। এ সময় গ্রামিনফোনে বিদেশী বিনিয়োগের পরিমান ২.১০ শতাংশ থেকে কমে ১.৮৪ শতাংশে এসে দাঁড়িয়েছে।

হাইডেলবার্গ সিমেন্ট কোম্পানিতে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ ২৪.৮০ শতাংশ থেকে বেড়ে ২৫.৭৭ শতাংশে এসে দাঁড়িয়েছে। আর এর বিপরীতে সাধারন বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগ ১১.৯৩ শতাংশ থেকে কমে ১০.৯৫ শতাংশে এসে নেমেছে। লাফার্জ-সুরমা সিমেন্টে দুই বছরে সাধারন বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগ ২২.৬৯ শতাংশ থেকে কমে ১৯.৪২ শতাংশে নেমে এসেছে। যার বিপরীতে বিদেশী বিনিয়োগ শূণ্য থেকে ১.৪৫ শতাংশে এবং প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ ১২.৬৭ শতাংশ থেকে বেড়ে ১৪.৪৫ শতাংশে এসেছে। লিন্ডে বিডিতে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগ ২৯.৬০ শতাংশ থেকে বেড়ে ২৯.৯০ শতাংশে এসে দাঁড়িয়েছে। রেকিট বেনকিজারে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ ৭.৩৪ শতাংশ থেকে ৭.৬৭ শতাংশে এসে দাঁড়িয়েছে। যার বিপরীতে সাধারন বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগের পরিমান ৫.৯৩ শতাংশ থেকে কমে ৫.৫৭ শতাংশে নেমেছে।

সিঙ্গার বাংলাদেশে সাধারন বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগ গত এক বছরে ২২.৩৯ শতাংশ থেকে কমে ২১.৩৪ শতাংশে নেমে এসেছে। যার বিপরীতে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগ ৪.৮৪ শতাংশ থেকে বেড়ে ৫.৮৯ শতাংশে উঠে এসেছে। বিএটি বিসি’তে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগ কমেছে। গত এক বছরে কোম্পানিতে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগ ১১.৭১ শতাংশ থেকে কমে ১১.৪৫ শতাংশে নেমে এসেছে যার বিপরীতে সাধারন বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগ ০.৭৯ শতাংশ থেকে বেড়ে ০.৯১ শতাংশে উঠে এসেছে। এসময় কোম্পানিতে বিদেশী বিনিয়োগের পরিমান ১৩.৯৫ শতাংশ থেকে বেড়ে ১৪.০৯ শতাংশে এসে দাঁড়িয়েছে। বাটা সু’তে সাধারন বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগ ১০.২৯ শতাংশ থেকে কমে ৯.৩১ শতাংশে এসেছে। যার বিপরীতে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়েগকারীদের বিনিয়োগের পরিমান ১১.৬৬ শতাংশ থেকে বেড়ে ১২.৬২ শতাংশে এসে দাঁড়িয়েছে। এবং আরএকে সিরামিকসে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগ ১১.৫২ শতাংশ থেকে বেড়ে ১২.২৪ শতাংশে উঠে এসেছে। যার বিপরীতে সাধারন বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগ ১২.৩৪ শতাংশ থেকে কমে ১১.১৭ শতাংশে এসে দাঁড়িয়েছে।

দেশের পুঁজিবাজারে বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর শেয়ারগুলোকে মৌলভিত্তি শেয়ার হিসেবে বিবেচনা করেন বাজার বিশ্লেষকরা। আর শেয়ারদর বেশি থাকার কারণে সাধারন বিনিয়োগকারীরা এসব শেয়ারে খুব বেশি ব্যবসাও করতে পারেন না। ফলে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা এসব কোম্পানির শেয়ার কিনে নিচ্ছেন। অন্যদিকে, বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর ব্যবসায়িক পরিস্থিতি অনুকূলে থাকা সত্ত্বেও কোম্পানিগুলোতে বিদেশী বিনিয়োগ না বাড়াকে আশঙ্কাজনক বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।

শেয়ারবাজারনিউজ/ওহ/আহা

আপনার মন্তব্য

Top