পর্ব ১-অনিয়মে ইনটেক অনলাইনঃ পুঁজি যাচ্ছে ফিসারিজ ও রিসোর্ট নির্মানে

Inteckশেয়ারবাজার রিপোর্ট: পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত তথ্য ও প্রযুক্তি খাতের ইনটেক অনলাইন তাদের মূল ব্যবসা ছেড়ে বিনিয়োগকারীর ৪ কোটি ২৫ লাখ টাকা ফিসারিজ এবং অবকাশ কেন্দ্র (রিসোর্ট) নির্মানে ব্যয় করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অথচ মূল্য সংবেদনশীল তথ্য হওয়া সত্ত্বেও বিনিয়োগকারীদের অনুমোদন না নিয়ে কোন প্রকার ঘোষণা ছাড়াই এসব খাতে বিনিয়োগ করছে কোম্পানিটি।

কোম্পানিটিকে নিয়ে ধারাবাহিক অনুসন্ধানি প্রতিবেদনের প্রথম পর্ব:

বর্তমান সময়ে তথ্য প্রযুক্তি খাতে ব্যপক সম্ভবনা থাকা সত্ত্বেও রহস্যজনকভাবে এই কোম্পানি ক্রমাগত অবনতির দিকে যাচ্ছে। এমনকি ব্যবসা বাড়ানোর নামে ২০০৬ সালে পুঁজিবাজারে রাইট ইস্যুর মাধ্যমে মূলধন বাড়ালেও কোম্পানির আর্থিক অবস্থার কোন উন্নতি হয়নি। বরঞ্চ বাংলাদেশে তথ্য ও প্রযুক্তি খাতে নিত্য নতুন পণ্য এবং সেবা যুক্ত হলেও লোকসান কাটিয়ে উঠার নামে কোম্পানিটি মূল ধারা থেকে সরে এসে অন্য খাতে বিনিয়োগ করছে। আর এ অনিয়ম সত্ত্বেও নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) কোম্পানিটির বিরুদ্ধে রহস্যজনক কারণে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করছেনা।

কোম্পানি পরিচিতি: ২০০০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ইনটেক লিমিটেড নামে যাত্রা শুরু করে কোম্পানিটি। পরে একই নামে কোম্পানিটি ২০০২ সালে আইপিও’র মাধ্যমে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। এসময় কোম্পানিটি পুঁজিবাজার থেকে প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের মাধ্যমে ২ কোটি ৫০ লাখ টাকা মূলধন উত্তোলন করে। পরবর্তীতে ২০০৬ সালে রাইট ইস্যু করে কোম্পানিটি ৪ কোটি ৬০ লাখ টাকা মূলধন সংগ্রহ করে। ২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত এক ইজিএম এ বিনিয়োগকারীদের অনুমোদন স্বাপেক্ষে নাম পরিবর্তন করে ‘ইনটেক অনলাইন লিমিটেড’ নামকরণ করা হয়। পাশাপাশি অনুমোদিত মূলধন ২০ কোটি থেকে বাড়িয়ে ৩০ কোটি টাকা করা হয়। বর্তমানে কোম্পানিটির পরিশোধিত মূলধন ২১ কোটি ২০ লাখ টাকা এবং শেয়ার সংখ্যা ২ কোটি ১২ লাখ ৯১টি। এর মধ্যে ১৮ কোটি ৬০ লাখ টাকা এসেছে সাধারণ বিনিয়োগকারীর কাছ থেকে।

অনুমোদন ছাড়া অন্যখাতে বিনিয়োগ: বিএসইস’র আইন লঙ্ঘন করে সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের অনুমতি নেয়ার তোয়াক্কা না করেই কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ নিজেরাই সিদ্ধান্ত নিয়ে অন্য খাতে বিনিয়োগ করছে।

জানা যায়, ইনটেক অনলাইন তাদের মুনাফা, ব্যবসায়িক বৈচিত্র ও পরিধি বাড়াতে ২০১২ সালে অবকাশ খাতের কোম্পানি ইনটেক রিসোর্ট লিমিটেডে বিনিয়োগ করে। বিনিয়োগের অংশ হিসেবে তারা ইনটেক রিসোর্টের ৪৫ শতাংশ শেয়ার অর্থাৎ ৯ লাখ শেয়ার প্রতিটি ১০ টাকা করে ৯০ লাখ টাকায় কিনে নেয়। এ বিনিয়োগ ৯ কোটি টাকা পর্যন্ত উন্নীত করা হবে বলে কোম্পানির পক্ষ থেকে সেই সময় ডিএসই’র মাধ্যমে শেয়ারহোল্ডারদের জানানো হয়। পরবর্তীতে এ বিনিয়োগ ৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়। কিন্তু এ বিষয়ে কোম্পানিটি শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদনের জন্য অতিরিক্ত সাধারণ সভার আয়োজন করেনি।

এদিকে অনুসন্ধানে জানা যায়, ইনটেক রিসোর্ট লিমিটেডের সাথে গৃহীত প্রকল্পের বাস্তবায়ন নিয়ে টানাপোড়েন এবং ব্যবস্থাপনা সঙ্কটের কারণে বিনিয়োগের সব টাকা তুলে নেয় কোম্পানিটি। পরে এ টাকা নারাণগঞ্জের আড়াইহাজারে রিসোর্ট নির্মাণ এবং ময়মনসিংহে ফিশারিজ ফার্ম তৈরির কাজে বিনিয়োগ করে। কিন্তু এ বিষয়ে কোম্পানিটির পক্ষ থেকে কোন ঘোষণা কিংবা শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদন নেওয়া হয়নি।

যদিও বিএসইসি’র মূল্য সংবেদনশীল তথ্য অনুযায়ী নির্ধারিত পদ্ধতিতে শেয়ারহোল্ডারদের জানানোর পাশাপাশি তাদের অনুমোদনও নিতে হবে।

অপরদিকে কোম্পানিটির সর্বশেষ প্রকাশিত ২০১৪ সালের অর্ধ বার্ষিকি অনিরীক্ষিত প্রতিবেদনে ইনটেক রিসোর্ট লিমিটেডে বিনিয়োগ ৪ কোটি ২৫ লাখ টাকা দেখানো হচ্ছে।

এ বিষয়ে কোম্পানি সেক্রেটারি বলেন, ইনটেক রিসোর্টের সঙ্গে ব্যবসায়িক জটিলতার কারণে আমরা বিনিয়োগকৃত টাকা উঠিয়ে নিয়েছি। বর্তমানে আমাদের সাথে ইনটেক অনলাইনের কোন সম্পর্ক নেই। এ টাকা আমরা ফিশারিজ এবং রিসোর্ট নির্মাণে বিনিয়োগ করেছি।

মূল ব্যবসা ছেড়ে অন্যখাতে বিনিয়োগের বিষয়ে তিনি বলেন, আমাদের ব্যবসা বর্তমানে খারাপ যাচ্ছে। তাই সম্ভাব্য ক্ষতি পূষিয়ে নেওয়ার জন্য আমরা এসব খাতে বিনিয়োগ করেছি।

শেয়ারহোল্ডারদের না জানানোর বিষয়ে তিনি বলেন, যথা নিয়মে এ তথ্য আমরা ডিএসই-তে দাখিল করেছি।

কিন্তু ডিএসই-তে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়নি কেন এ বিষয়ে তিনি বলেন, সেটা তারাই বলতে পারবে।

 

শেয়ারবাজারনিউজ/তু/সা

আপনার মন্তব্য

Top