সবকিছু সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ওপর চাপিয়ে দিবেন না

Editorialচলতি বছরে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (পাবলিক ইস্যু রুলস),২০১৫ প্রণয়ন করা হয়েছে। এই আইনের অন্যান্য বিষয়গুলো নিয়ে তেমন কোনো অভিযোগ না থাকলেও ‘প্রিমিয়াম নিতে হলে বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে তালিকাভুক্ত হতে হবে’ এই ইস্যুটিকে ঘিরেই বিনিয়োগকারীদের আপত্তি বেঁধেছে। কারণ বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে শেয়ারের দর নির্ধারণে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মত প্রকাশের কোনো সুযোগ রাখা হয়নি। যে সুবিধা দেয়া হয়েছে সেটি হলো প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা যে দর নির্ধারণ করবে তার ১০ শতাংশ কমে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা শেয়ার পাবে।

দেখা গেছে, কোম্পানিগুলোর শেয়ার দর নির্ধারণে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কথা না ভেবে নিজেরা প্রতিযোগিতায় মেতে উঠে শেয়ার দর আকাশচুম্বি করে তুলছে। এতো উচ্চ দরে শেয়ার কিনতে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা সামর্থ্য দেখালেও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের যেন নাভিস্বাস উঠে যাচ্ছে। এ যেন উচ্চ ও মধ্যবিত্ত পরিবারের শপিং নিয়ে খেলা চলা।

সামর্থ্য  না থাকা সত্ত্বেও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ওপর অতিমূল্যায়িত শেয়ার চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে। যদি এ পদ্ধতিতে শেয়ার দর নির্ধারণে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা যেত তাহলে কিছুই বলার ছিল না। হয়তো যুক্তি হিসেবে দাঁড় করানো হবে যে শেয়ার দর নির্ধারণে এতো বিপুল পরিমাণ সাধারণ বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ করানো সম্ভব নয়। সেক্ষেত্রে বলবো বর্তমান তথ্য প্রযুক্তির কল্যাণে এই বিষয়টি কোনো সমস্যাই নয়। ইলিজিবল ইনভেস্টররা যদি সরাসরি বিডিংয়ে অংশগ্রহণ করতে পারে তাহলে লাখ লাখ বিনিয়োগকারীদের অনলাইনের মাধ্যমে বিডিংয়ে অংশগ্রহন করানোতে বেশি বেগ পেতে হবে না। এতে আমাদের নিয়ন্ত্রক সংস্থার সদ্বিচ্ছা প্রয়োজন।

পুঁজিবাজারে সেকেন্ডারি মার্কেটে যত ব্যক্তি বিনিয়োগকারী রয়েছেন তাদের ৯৯ শতাংশই এক সময়ের প্রাইমারি মার্কেটের বা আইপিও ব্যবসায়ী। অর্থাৎ প্রাইমারি মার্কেটের মধ্য দিয়েই পুঁজিবাজারে নতুন বিনিয়োগকারীর সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। অনেক বিও অ্যাকাউন্ট রয়েছে যেগুলো ব্যবহৃত হয় শুধুমাত্র আইপিও’র কোম্পানিতে বিনিয়োগ করার জন্য। লক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে, চলতি বছর নির্ধারিত সময়ে নবায়ন ফি না দেয়ায় ৬৫ হাজার বেনিফিশারি ওনার (বিও) অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এ তালিকায় আইপিও ব্যবসায়ীদের সংখ্যাই বেশি। অর্থাৎ প্রাইমারি মার্কেটের প্রতি দিন দিন আস্থা কমে যাচ্ছে। আইপিওতে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ২০ শতাংশ কোটা সংরক্ষণের ব্যবস্থা থাকলেও কার্যত ২০ শতাংশ বরাদ্দ রাখা হচ্ছে না। কারণ বর্তমান বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য ৪০ শতাংশ কোটা সংরক্ষণ করা হয়েছে। এই ৪০ শতাংশের মধ্যে ১০ শতাংশ ্প্রবাসী এবং অন্যান্য বিনিয়োগকারীদের জন্য ৩০ শতাংশ রাখা হয়েছে। এখন অন্যান্য বিনিয়োগকারীর ৩০ শতাংশের মধ্যে নিশ্চয়ই ক্ষতিগ্রস্তদের ২০ শতাংশ দেয়া সম্ভব হয়ে উঠছে না।

কাজেই এই পদ্ধতির কিছু বিষয় সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ক্ষতির কারণ হয়ে উঠছে। এখন বাজারের ক্রান্তিকাল দূর করতে আমাদের নতুন মুখের প্রয়োজন। এমন কিছু করা ‍ঠিক নয় যাতে নতুন মুখ আসাতো দূরের কথা পুরাতন মুখগুলোই হারিয়ে যায়। তাই বলবো, সবকিছু বিনিয়োগকারীদের ওপর চাপিয়ে দেবেন না। সাধারণ বিনিয়োগকারীদের তাত্ত্বিকতায় মূল্যায়ন নয় বাস্তবিকতায় মূল্যায়ন করুন।

আপনার মন্তব্য

*

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Top