শিথিল হচ্ছে ন্যূনতম শেয়ার ধারণ: শিগগিরই গেজেট

BSECশেয়ারবাজার রিপোর্ট: তালিকাভুক্ত কোম্পানির উদ্যোক্তা পরিচালকদের ন্যূনতম শেয়ার ধারণের শর্ত শিথিল হচ্ছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে মূলত বড় মূলধনি কোম্পানির জন্য বিধিটি শিথিল করে শিগগিরই গেজেট প্রকাশ করতে যাচ্ছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। বিএসইসি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

বর্তমান বিধি অনুযায়ী, উদ্যোক্তা পরিচালকদের এককভাবে কোম্পানির ন্যূনতম ২ শতাংশ এবং সম্মিলিতভাবে উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের ৩০ শতাংশ শেয়ার ধারণ করতে হয়।

বিএসইসি জানায়, অর্থ মন্ত্রণালয়ের সুপারিশে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর আকারের ভিত্তিতে উদ্যোক্তা-পরিচালকদের ন্যূনতম শেয়ার ধারণের শর্ত আরোপের কথা বলা হয়েছে। সুপারিশ অনুসারে, ২০০ কোটি টাকা পর্যন্ত পরিশোধিত মূলধনের কোম্পানিগুলোর উদ্যোক্তা পরিচালকদের ন্যূনতম শেয়ার ধারণে আগের নির্দেশনা বহাল থাকবে। অর্থাৎ এসব কোম্পানির প্রত্যেক পরিচালককে সর্বনিম্ন ২ শতাংশ এবং উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের সম্মিলিতভাবে ৩০ শতাংশ শেয়ার ধারণ করতে হবে।

আর ২০০ কোটি থেকে ৪৯৯ কোটি টাকা পর্যন্ত পরিশোধিত মূলধনের কোম্পানির পরিচালকদের জন্য এককভাবে ন্যূনতম ১ দশমিক ৫ শতাংশ ও সম্মিলিতভাবে উদ্যোক্তা-পরিচালকদের ২০ শতাংশ শেয়ার ধারণের বাধ্যবাধকতা প্রস্তাব করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের সুপারিশ অনুযায়ী, ৫০০ কোটি থেকে ৯৯৯ কোটি টাকা পর্যন্ত পরিশোধিত মূলধনের কোম্পানির পরিচালকদের এককভাবে ন্যূনতম ১ শতাংশ ও উদ্যোক্তা-পরিচালকদের সম্মিলিতভাবে অন্তত ১৫ শতাংশ শেয়ার ধারণ করতে হবে। আর হাজার কোটি অথবা এর বেশি পরিশোধিত মূলধনের কোম্পানির পরিচালকদের ন্যূনতম দশমিক ৫ শতাংশ ও উদ্যোক্তা-পরিচালকদের সম্মিলিতভাবে ন্যূনতম ১০ শতাংশ শেয়ার ধারণ করতে হবে।

বিএসইসি এখন অর্থ মন্ত্রণালয়ের এ প্রস্তাব যাচাই-বাছাই করছে। এরই মধ্যে খসড়া চূড়ান্ত হয়েছে। সেখানেও স্বতন্ত্র (ইনডিপেনডেন্ট) ও পদাধিকারবলে নিযুক্ত (এক্স অফিসিও) পরিচালকদের ক্ষেত্রে এ বাধ্যবাধকতা থাকছে না। তবে মনোনীত পরিচালকদের ক্ষেত্রে তিনি যে প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিত্ব করছেন, এর হাতের কোম্পানির ন্যূনতম শেয়ার থাকতে হবে। কোনো মালিক প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে যদি দুজন পরিচালক মনোনয়ন দেয়া হয়, সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের হাতে কোম্পানির আবশ্যক শেয়ারের দ্বিগুণ শেয়ার ধারণ করতে হবে।

এ প্রসঙ্গে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএসইসি’র এক উর্ধ্বতন কর্মকর্তা শেয়ারবাজারনিউজ ডটকমকে বলেন, অর্থ মন্ত্রণালয়ের সুপারিশের প্রেক্ষিতে আমরা পরিচালকদের ন্যুনতম শেয়ার ধারণ সংক্রান্ত আইন সংশোধন করা হচ্ছে। আইন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন স্বাপেক্ষে শিগগিরই সংশোধনিটি গ্যাজেট আকারে প্রকাশ করা হবে।

প্রসঙ্গত, ২০০৯ ও ২০১০ সালে চাঙ্গা শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির অনেক উদ্যোক্তা-পরিচালক হাজার হাজার কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি করে দেন। ধস-পরবর্তী সময়ে দরপতন দীর্ঘায়িত হয়। এ সময়ও স্টক এক্সচেঞ্জের ওয়েবসাইটে প্রায় প্রতিদিনই উদ্যোক্তা-পরিচালকদের শেয়ার বিক্রির ঘোষণা আসতে থাকে। এ অবস্থায় বিক্রয়চাপ প্রশমনে কমিশন তালিকাভুক্ত কোম্পানির উদ্যোক্তা-পরিচালকদের শেয়ার বিক্রি রোধে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে বিএসইসি। সে সময় অর্থ মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির বৈঠকেও পরিচালকদের শেয়ার বিক্রিতে নিয়ন্ত্রণ আরোপের সুপারিশ করা হয়। পরবর্তীতে ২০১১ সালের ২২ নভেম্বর উদ্যোক্তা-পরিচালকদের ন্যূনতম শেয়ার ধারণের শর্ত বেঁধে দিয়ে বিশেষ ক্ষমতা আইনে নির্দেশনা জারি করে বিএসইসি। পরিচালকদের ন্যূনতম শেয়ার ধারণের জন্য ছয় মাস সময় বেঁধে দেয়া হয়।

২০১১ সালে নির্দেশনাটি জারির পর থেকেই বিভিন্ন কোম্পানি, বিশেষ করে ব্যাংকের পরিচালকরা ন্যূনতম শেয়ার ধারণের শর্ত থেকে ব্যাংকগুলোকে অব্যাহতি দেয়ার দাবি জানান। পরিশোধিত মূলধন তুলনামূলক বেশি হওয়ায় ব্যাংকগুলোকে অব্যাহতি দেয়ার দাবি ছিল তাদের। এমনকি সে সময় কয়েকটি ব্যাংকের পরিচালকরা বিএসইসির বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে মামলাও করেন। এর মধ্যে কয়েকটি মামলায় হেরে গিয়ে পর্ষদের সদস্যপদ ছাড়তে হয়েছে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক পরিচালকদের।

শেয়ারবাজারনিউজ/আ

আপনার মন্তব্য

One Comment;

  1. অমিত said:

    নতুন বৈষম্য। যার উপকার শুধুমাত্র পরিচালক পর্ষদ পাবে । এতে সাধারন বিনিয়গকারী কোনো উপকার তো হবেই না, উল্টো যাদের হাতে অতিরিক্ত শেয়ার থাকবে তারা বিক্রয় করবে । তাহলে কি মার্কটে নেগেটিভ ট্রেন্ড আসবে না?

*

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Top