পর্ব:২ অনিয়মে ইনটেক অনলাইনঃ আইন লঙ্ঘন করছে পরিচালনা পর্ষদ

Inteckশেয়ারবাজার রিপোর্ট: তালিকাভুক্ত তথ্য ও প্রযুক্তি খাতের ইনটেক অনলাইনের বিরুদ্ধে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) পরিচালকের শেয়ার ধারণ সংক্রান্ত নীতিমালা ও কর্পোরেট গভর্ন্যান্স গাইডলাইনের (সিজিজি) তোয়াক্কা করছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।

বিদ্যমান আইনকে বৃদ্ধাঙ্গলি দেখিয়ে কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ সম্মিলিতভাবে মাত্র ০.০৪৭ শতাংশ শেয়ার ধারণ করে দায়িত্ব পালন করছে। তাছাড়া সিজিজি অনুযায়ী কোম্পানিটির প্রধান অর্থ কর্মকর্তা, প্রধান অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষক ও কোম্পানি সেক্রেটারি পদে আলাদা ব্যক্তিকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ রয়েছে।

ইনটেক অনলাইনের ধারবাহিক অনুসন্ধানি প্রতিবেদনের ২য় পর্ব:

পরিচালকদের দুর্নীতি : প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও স্বাধীন পরিচালকসহ বর্তমানে কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদে পাঁচজন সদস্য রয়েছে। এর মধ্যে তিনজন সাধারণ শেয়ারহোল্ডার পরিচালক। কিন্তু কোম্পানিটির উদ্যোক্তা বা স্পন্সরদের কোন সদস্যই পরিচালনা পর্ষদে নেই এমনকি তাদের সম্পর্কে কোন তথ্যও দেওয়া হয়নি।

উল্লেখ্য, কোম্পানিটির স্বাধীন পরিচালক এবং প্রধান নির্বাহীর কাছে কোন শেয়ার নেই। কোম্পানিটির ২০১৩ অর্থবছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনের ১৫ নং পৃষ্ঠায় এই তিনজন সাধারণ শেয়ারধারী পরিচালকের ধারণকৃত শেয়ার সংখ্যা দেখানো হয়েছে ১০ হাজার ৯৯টি। যা সম্মিলিতভাবে কোম্পানিটির মোট শেয়ারের মাত্র ০.০৪৭ শতাংশ। কিন্তু প্রতিবেদনের ২৭ পৃষ্ঠার (d) পয়েন্টে পরিচালনা পর্ষদের উদ্যোক্তা পরিচালকের সম্মিলিত শেয়ার সংখ্যা দেখানো হয়েছে ৪ লাখ ৯১ হাজার ২১৩টি। যা কোম্পানির মোট শেয়ারের ২.৩১ শতাংশ। কিন্তু তিন শেয়ারধারী পরিচালকের শেয়ার সংখ্যা ছাড়া বাকি ৪ লাখ ৮১ হাজার ১১৪টি শেয়ার কাদের হাতে রয়েছে এ ব্যাপারে কোন তথ্য দেওয়া নেই।

এদিকে, ২০১৩ অর্থবছরের নিরীক্ষিত প্রতিবেদন অনুযায়ী কোম্পানিটির চেয়ারম্যান মোসলেহ উদ্দীন আহমেদের কাছে শেয়ার রয়েছে ৪ হাজার ১৮৭টি। যা কোম্পানিটির মোট শেয়ারের ০.০১৯ শতাংশ। তিনি ২০১১ সালে কোম্পানিটির ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। সাধারণ শেয়ারধারী পরিচালক মো: আরিফুর রহমানের কাছে ৪ হাজার ৮১২টি শেয়ার রয়েছে। যা কোম্পানিটির মোট শেয়ারের ০.০২২ শতাংশ। অপর সাধারণ শেয়ারধারী পরিচালক মো: শহিদুল আলমের কাছে ১ হাজার ১০০টি শেয়ার রয়েছে। যা কোম্পানিটির মোট শেয়ারের ০.০০৫ শতাংশ। অথচ কোম্পানিটির এক লাখ এক থেকে ১০ লাখ শেয়ার রয়েছে এমন শেয়ারধারী রয়েছেন ৯ জন। অর্থাৎ কোম্পানিটির মোট শেয়ারে তাদের অংশগ্রহণ ১৩.১১ শতাংশ।

প্রসঙ্গত, রেজিস্ট্রার্ড অব জয়েন্ট স্টক থেকে জানা যায়, কোম্পানিটির মেমোরেন্ডামে তিনজন পরিচালকের নাম দেওয়া হয়েছে। তারা হলেন, মো: মোস্তাকুর রহমান, মো: আশিকুর রহমান এবং মো: আরিফুর রহমান। কিন্তু কোম্পানিটির বর্তমান পর্ষদে এ তিনজনের মধ্যে আরিফুর রহমান রয়েছেন।বাকি দুইজন বর্তমান পর্ষদে নেই।

এদিকে, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং চিটাগং স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই)এর ওয়েবসাইটে কোম্পানিটির প্রোফাইলে দেওয়া তথ্যে গরমিল রয়েছে।

ডিএসই’র ওয়েবসাইটে ইনটেক অনলাইনের কোম্পানি প্রোফাইলে উদ্যোক্তা ও পরিচালকের ধারণকৃত শেয়ার শতাংশ দেখানো হয়েছে ২.৫৫ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের ১৭.৫৭ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে ৭৯.৮৮ শতাংশ শেয়ার রয়েছে। কিন্তু সিএসই’র ওয়েবসাইটে কোম্পানিটির প্রোফাইলে উদ্যোক্তা ও পরিচালকের ধারণকৃত শেয়ার শতাংশ দেখানো হয়েছে ৩.৭৯ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের ৮.৪৮ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে ৮৭.৭৩ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।

প্রসঙ্গত বিএসইসি’র পরিচালকদের শেয়ারধারণ সংক্রান্ত নির্দেশনায় বলা হয়েছে, পরিচালনা পর্ষদ সম্মিলিতভাবে কোম্পানিটির ৩০ শতাংশ শেয়ার ধারণ করতে হবে। অপরদিকে পরিচালনা পর্ষদের প্রত্যেক পরিচালক এককভাবে কমপক্ষে ২ শতাংশ শেয়ার ধারণ করতে হবে। এ নিয়ম পালনে ব্যর্থ হলে কোম্পানি রাইট ইস্যুর মাধ্যমে বা আরপিও এর মাধ্যমে মূলধন বাড়াতে পারবে না। অপরদিকে পরিচালকদের ক্ষেত্রে যারা দুই শতাংশ শেয়ার ধারণে ব্যর্থ হয়েছে তারা কোনভাবেই তাদের হাতে থাকা শেয়ার বিক্রি কিংবা অন্য কাউকে ট্রান্সফার করতে পারবে না। ২০১১ সালের ২২ নভেম্বরে জারি করা নির্দেশনায় শেয়ারধারণের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ৬ মাস পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ এখনো বিএসইসি’র নির্দেশনা পালন করেনি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইনটেক অনলাইনের কোম্পানি সেক্রেটারি মো: মহিবুল ইসলাম শেয়ারবাজারনিউজ ডট কমকে বলেন, আমাদের পর্ষদ এবং পরিচালকেরা শেয়ারধারণে ন্যুনতম লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করেনি। তাই আমরা আইন অনুযায়ী রাইট কিংবা আরপিও এর মাধ্যমে মূলধন বাড়াতে পারছি না। তাছাড়া আমাদের পরিচালকেরাও নিয়ম ভেঙ্গে শেয়ার বিক্রি করছে না। তাই কম শেয়ার ধারণে আমাদের পর্ষদের কোন সমস্যা হচ্ছে না।

ডিএসই এবং সিএসই’তে দেওয়া তথ্যের গরমিল সম্পর্কে তিনি বলেন, আমরা নিয়ম মতোই ডিএসই এবং সিএসই-তে একই তথ্য দাখিল করি। সুতরাং তথ্যের গরমিলের বিষয়ে তারাই ভাল বলতে পারবে।

সিজিজি লঙ্ঘন: বিএসইসি’র কর্পোরেট গভর্ন্যান্স গাইডলাইন অনুযায়ী কোম্পানির ব্যবস্থাপনায় প্রধান অর্থ কর্মকর্তা, কোম্পানি সেক্রেটারি এবং প্রধান অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা কর্মকর্তা এ তিন পদে আলাদা ব্যক্তি নিয়োগ দিতে হবে।

কিন্তু কোম্পানিটিতে প্রধান অর্থ কর্মকর্তা এবং কোম্পানি সেক্রেটারি এ দুই পদে একই ব্যক্তিকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তবে প্রধান অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা কর্মকর্তা হিসেবে কাউকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি। যা বিএসইসি’র সিজিজি এর লঙ্ঘন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কোম্পানি সেক্রেটারি মো: মুহিবুল ইসলাম বলেন, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে আপাতত আমি দায়িত্ব পালন করছি। তবে সিজিজি অনুযায়ী শিগগিরই আমরা প্রধান অর্থ কর্মকর্তা ও প্রধান অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা কর্মকর্তা হিসেবে আলাদা ব্যক্তিকে নিয়োগ দেব।

পর্ব ১-অনিয়মে ইনটেক অনলাইনঃ পুঁজি যাচ্ছে ফিসারিজ ও রিসোর্ট নির্মাণে

 

 

শেয়ারবাজার/তু/মু

আপনার মন্তব্য

*

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Top