বিতরণের ৬৭ শতাংশই উত্তোলন করেছে আইসিবি

icb-আইসিবিশেয়ারবাজার রিপোর্ট: ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের মাঝে বিতরন করা ৬৭ শতাংশ ঋণই উত্তোলন করা হয়ে গেছে। ৯০০ কোটি টাকার এ ফান্ডের ৬৪২ কোটি ৯ লাখ টাকা বিতরন করে ৪৩৫ কোটি টাকাই উত্তোলন ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। রাষ্ট্রয়াত্ব বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) সর্বশেষ পর্যালোচনা থেকে এ তথ্য উঠে এসেছে।

নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনকে (বিএসইসি) দেওয়া আইসিবি’র এ বিশ্লেষণ বড় ধরনের তথ্যগত অসামঞ্জস্যতা থাকলেও একে টাইপোলজিকাল এরোর (তথ্য লেখার সময়কার ভুল) বলে দাবী করেছেন আইসিবি কর্তারা।

গত ২১ জুলাই পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২৩ মার্চেন্ট ব্যাংকের মাধ্যেমে ১৯ হাজার ৫৭জন ও স্টক ব্রোকারদের মাধ্যেমে ৮ হাজার ৭৬৯ জনসহ মোট ২৭ হাজার ৮২৫জন বিনিয়োগকারী আবেদন করেন। তাঁদের আবেদন করা ঋণের পরিমাণ সর্বমোট ৭৪৩ কোটি ১৭ লাখ টাকা। ২৩টি মার্চেন্ট ব্যাংক ও ২৫টি স্টক ব্রোকারদের মাধ্যেমে এ আবেদন আসে। অথচ ২২টি মার্চেন্ট ব্যাংকের মাধ্যেমে ১৯ হাজার ১০৭জন ও ২১টি স্টক ব্রোকারের মাধ্যেমে ৭ হাজার ২৭৭জনসহ মোট ২৬ হাজার ৩৮৪জন বিনিয়োগকারীর আবেদন মঞ্জুর করা হয়। মঞ্জুর করা ঋণের পরিমান মোট ৬৮৩ কোটি ১৬ লাখ টাকা। এর মধ্যে ২৫ হাজার ২৬২জন বিনিয়োগকারীকে ৬৪২ কোটি ৯ লাখ টাকার ঋণ এরই মধ্যে ছাড় করা হয়েছে। পরবর্তিতে আইসিবি’র পক্ষ থেকে আবেদন করা বিনিয়োগকারীর মূল সংখ্যা ১৯ হাজার ২২১ জন বলে দাবী করা হয়।

জানা যায়, অনুমোদন করা ফান্ডের বিপরীতেই তথ্য লিপিবদ্ধ করা হয়। এক্ষেত্রে অনুমোদন করা বিনিয়োগকারীর পরিমান বেশি দেখানো হলেও অনুমোদন করা টাকার পরিমাণে ৪৬৩ কোটি ১০ রাখ টাকার আবেদন করা হলেও অনুমোদন করা ঋণের টাকার পরিমাণ ৪৬০ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। অর্থাৎ অনিয়মের মাধ্যেমে বিনিয়োগকারীর সংখ্যা বেশি উঠে আসলেও টাকার অঙ্কে তা আবেদনের তুলনায় কম দেখানো হয়েছে।

আইসিবি’র স্পেশাল ফান্ড ম্যানেজমেন্ট ইউনিটের মাধ্যেমে ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের ঋণ সহায়তা প্রদান করা হয়। ১৯ হাজার ৫৭জনের আবেদনের বিপরীতে ১৯ হাজার ১০৭ জনের আবেদন মঞ্জুর করার বিষয়ে তথ্যগত ভুল বলে উল্লেখ করেন প্রতিষ্ঠানটির সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তা।

সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তা সহকারী মহাব্যবস্থাপক গোলাম রব্বানী বলেন, ‘এ ধরনের ভুল হওয়ার কথা ছিল না। আমি বিষয়টি সব ধরনের ফাইল বিশ্লেষণ করে দেখেছি। এ ধরনের কোনো অনিয়ম হয়নি। ম্যানুয়ালি সংক্ষেপ করা সময় ভুলে ১৯ হাজার ২২১ কে ১৯ হাজার ৫৭ জন লেখা হয়েছে। এটি বিএসইসি’কে চিঠি পাঠিয়ে জানিয়ে দেওয়া হবে’।

সদ্য প্রকাশিত উপাত্তে উঠে আসে, প্রথম ও দ্বিতীয় কিস্তিতে অনুমোদন ও ছাড় করা ঋণের মধ্যে ৪৩৫ কোটি ৪৭ লাখ টাকার ঋণ ইতিমধ্যে ফেরত এসেছে। সুদসহ ঋণের অর্থ ফেরত দেওয়া ৩৪ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৮টি মার্চেন্ট ব্যাংক ৩০৯ কোটি ৬০ লাখ এবং স্টক ব্রোকারদের ১২৫ কোটি ৮৭ লাখ টাকার ঋণ ফেরত দিয়েছে। উল্লেখ্য, এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (এডিবি) সহায়তায় দেশের পুঁজিবাজারের দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীলতা আনতে ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের ঋণ সুবিধা দেওয়ার জন্য ৯০০ কোটি টাকার এ ফান্ড গঠন করা হয়।

শেয়ারবাজারনিউজ/ওহ

আপনার মন্তব্য

Top