বিদেশিরা শেয়ার কিনছেন

DSEশেয়ারবাজার রিপোর্ট: ২০১২ থেকে ২০১৪ পর্যন্ত পুঁজিবাজারে বিদেশিদের প্রকৃত বিনিয়োগ ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। এরপর ২০১৫ সালে হঠাৎ প্রকৃত বিনিয়োগ আশঙ্কাজনকভাবে কমে যায়। ওই বছরে বিনিয়োগ প্রায় ১৪০০ শতাংশ কমেছিল। তবে ২০১৬ অর্থবছরে প্রকৃত বিদেশি বিনিয়োগ আগের বছরের তুলনায় ১৩৮ শতাংশ বেড়েছে। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

এদিকে, অন্য যে কোন বছরের তুলনায় চলতি অর্থবছরে বিদেশিদের লেনদেন আশঙ্কাজনক হারে কমেছে। যদিও ২০১৫-২০১৬ হিসাব বছরে দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা ছিল না। অর্থবছরের শেষাের্ধ জঙ্গি ও সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা বেড়েছে। এতে দেশে বিদেশি বিনিয়োগ ও রপ্তানি-তে নেতিবাচক প্রভাব আসতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এর প্রভাব পুঁজিবাজারেও পড়বে বলে মনে করেন তারা।

এদিকে, পুঁজিবাজারে বিদেশি বিনিয়োগ চাহিদার তুলনায় অনেক থাকায় ব্রেক্সিটের প্রভাব পড়েনি। অথচ বিশ্বের অন্য দেশগুলোর পুঁজিবাজারে এর প্রভাব পড়েছে।

এ প্রসঙ্গে শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি’র চেয়ারম্যান এক অনুষ্ঠানে আক্ষেপ করে বলেছিলেন, আমাদের পুঁজিবাজারে বিদেশি বিনিয়োগ নেই বললেই চলে। এ কারণে ব্রেক্সিটের (ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে ব্রিটেনের বেরিয়ে যাওয়া) প্রভাব দেশের শেয়ারবাজারে পড়েনি। যদিও এ কারণে ভারতের শেয়ারবাজার সূচক একদিনে এক হাজারের বেশি পয়েন্ট পড়েছিল। তিনি বলেন, এমন নেতিবাচক প্রভাবের কারণে কেউ বিদেশি বিনিয়োগ না থাকাটাকে ভালো মনে করেন, তা কিন্তু ঠিক হবে না। আমরা একই সঙ্গে বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করব। আবার এর ক্ষতিকর প্রভাব কমানোর জন্য ব্যবস্থা নেব।

তবে আশার আলো হচ্ছে ৩০ জুন সমাপ্ত হিসাব বছরে প্রকৃত বিদেশি বিনিয়োগ আগের বছরের থেকে বেড়েছে। এতে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, শেয়ারবাজার নিয়ে বিদেশিদের আস্থা ফিরে আসছে। তবে সেটি নির্ভর করছে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস দমনে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপের ওপর।

ডিএসই জানায়, ৩০ জুন, ২০১৬ সমাপ্ত অর্থবছরে দেশের পুঁজিবাজারে প্রকৃত বিদেশি বিনিয়োগ এসেছে ৪৪১ কোটি ১৬ লাখ টাকা। এর আগের বছর একই সময়ে প্রকৃত বিনিয়োগ ছিল ১৮৫ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। দেখা যাচ্ছে এক বছরের ব্যবধানে বিনিয়োগ ২৫৫ কোটি ৬৭ লাখ অর্থাৎ ১৩৮ শতাংশ বেড়েছে। তবে পুঁজিবাজারে সবচেয়ে বেশী বিদেশি প্রকৃত বিনিয়োগ এসেছিল ২০১৪ অর্থবছরে। ওই বছরে প্রকৃত বিনিয়োগ হয়েছিল ২ হাজার ৬১৯ কোটি টাকা।

সূত্র জানায়, ২০১৬ অর্থবছরে বিদেশিরা ২ হাজার ৪০১ কোটি ৭৫ লাখ টাকার শেয়ার কিনেছেন। বিপরীতে এক হাজার ৯৬০ কোটি ৫৯ লাখ টাকার শেয়ার বিক্রি করেছেন। ২০১৫ বছরে বিদেশীরা ৩ হাজার ৮২৫ কোটি ৪৬ লাখ টাকার শেয়ার কেনার বিপরীতে ৩ হাজার ৬৩৯ কোটি ৯৮ লাখ টাকার শেয়ার বিক্রি করেছিলেন। দেখা যাচ্ছে এক বছরের ব্যবধানে বিদেশিদের শেয়ার কেনা বেচার পরিমাণ কমেছে। তবে সবচেয়ে বেশি শেয়ার কেনা হয়েছে ২০১৪ সালে। ওই বছরে ৪ হাজার ৬১০ কোটি টাকার শেয়ার কিনেছিল বিদেশিরা। আর সবচেয়ে বেশি শেয়ার বিক্রি হয়েছে ২০১৫ সালে। ওই বছরে বিদেশিরা ৩ ৬৩৯ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি করেছিলেন।

এদিকে, ২০১২ থেকে ২০১৫ পর্যন্ত বিদেশি বিনিয়োগকারীদের লেনদেন ধারাবাহিকভাবে বাড়লেও ২০১৬ অর্থবছরে কমেছে। ২০১৬ অর্থবছরে বিদেশি বিনিয়োগকারী মোট ৪ হাজার ৩৬২ কোটি ৩৪ লাখ টাকার লেনদেন করেছেন। ২০১৫ সালে এই লেনদেনের পরিামণ ছিল ৭ হাজার ৪৬৫ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। দেখা যাচ্ছে লেনদেন ৭১ শতাংশ কমেছে।

এছাড়া, ২০১৬ অর্থবছরে ডিএসই’র মোট লেনদেনের ৮.৪৩ শতাংশ লেনদেন বিদেশিরা করেছেন। এর আগের বছর এর পরিমাণ ছিল ৭.২৪ শতাংশ।

এ প্রসঙ্গে এক স্বাক্ষাতকারে ডিএসই’র নবনিযুক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাজেদুর রহমান শেয়ারবাজারনিউজ ডটকমকে বলেন, আমাদের শেয়ারবাজারে বিদেশী বিনিয়োগকারীর অংশগ্রহণ তুলনামূলকভাবে কম। বাজারে বিদেশী বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগীতা প্রয়োজন।

শেয়ারবাজারনিউজ/আ

আপনার মন্তব্য

*

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Top