পাঁচ বছর অন্তত স্থায়ী উন্নয়নের স্বার্থে সুযোগ দেওয়া উচিত- সিএসই এমডি

cse mdশেয়ারবাজার রিপোর্ট: দেশের অন্যতম স্টক এক্সচেঞ্জ চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে সদ্য যোগদান করেছেন মোঃ সাইফুর রহমান মজুমদার। পুঁঁজিবাজারেই কর্মজীনের দীর্ঘসময় কর্মরত থাকায় বাজারকে দেখেছেন খুব কাছ থেকে। শেয়ারবাজারনিউজ ডট কমকে একান্ত আলাপচারিতায় বললেন নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও সিএসই’র উন্নয়নের কর্মপন্থা সম্পর্কে। দীর্ঘ এ আলাপচারিতার চুম্বক অংশ পাঠকদের উদ্দেশ্য তুলে ধরা হল।

শেয়ারবাজারনিউজ: চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের দায়িত্বে এসেছেন আগের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদত্যাগের পর। এ চাপ কিভাবে নিচ্ছেন?

মোঃ সাইফুর রহমান: সিএসই’র দায়িত্ব পাব এমন সম্ভবনার কথা শুনেছিলাম। সিএসই’র নিয়োগ বোর্ডের বিবেচনায় আছি এ ব্যাপারটি সহকর্মীদের কাছে জেনেছিলাম। অনেকগুলো প্রক্রিয়া শেষে যেহেতু নিয়োগ দেওয়া হয়, তাই কোনো কিছুর ব্যাপারে নিশ্চিত ছিলাম না। তবে এ ব্যাপারে মানসিক প্রস্তুতি আগে থেকেই ছিল। চাপ হিসেবে না নিয়ে এ দায়িত্বকে আমি চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিচ্ছি।

শেয়ারবাজারনিউজ: সর্বশেষ অর্থবছরে সিএসই প্রথমবারের মত ডিভিডেন্ড ঘোষণা রিজার্ভ থেকে। এ বিষয়টি কিভাবে দেখছেন?

মোঃ সাইফুর রহমান: মেম্বার ও কৌশলগত বিনিয়োগকারীদের উৎসাহিত করার জন্য এবার রিজার্ভ থেকে ডিভিডেন্ড দেওয়া হলেও আমাদের লক্ষ্য পরের বছর থেকে অপারেটিং প্রফিটের মাধ্যেমেই ডিভিডেন্ড দেওয়া। এ ব্যাপারে সরকারের নীতি-নির্ধারনী মহলের সহযোগীতা বেশি প্রয়োজন।

শেয়ারবাজারনিউজ: কর্পোরেট করের যে অংশ কমানোর জন্য স্টক এক্সচেঞ্জ দাবী করছে তা কমানো হলে কি ডিভিডেন্ডে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসবে?

মোঃ সাইফুর রহমান: করের অংশ কমানো হলে ব্যাপক কোনো পরিবর্তন হয়তো মুনাফায় পড়বে না। তবে এটি কৌশলগত বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করার জন্য ভূমিকা পালন করবে। বিনিয়োগকারীদের মুনাফা দেখানোর তুলনায় স্টক এক্সচেঞ্জের প্রতি নীতি-নির্ধারনী মহলের আন্তরিকতার ওপর বেশি গুরুত্ব দেবে। ফলে এ বাজারের ওপর তাঁরা আস্থা ফিরে পাবেন।

শেয়ারবাজারনিউজ: ডি-মিউচ্যুয়ালাইজেশন আইন অনুযায়ী, ডি-মিউচ্যুয়ালাইজশনের পাঁচ বছরের মধ্যে এক্সচেঞ্জকে কৌশলগত বিনিয়োগকারী নিয়োগ করতে হবে? এ বিষয়ে অগ্রগতি কতটুকু হয়েছে?

মোঃ সাইফুর রহমান: ডি-মিউচ্যুয়ালাইজড হওয়ার প্রথম পাঁচ বছর অন্তত স্থায়ী উন্নয়নের স্বার্থে এক্সচেঞ্জগুলোকে সুযোগ দেওয়া উচিৎ। ডি-মিউচ্যুয়ালাইজড হওয়ার আগের সুবিধাগুলোকে বহাল রাখাও এক্ষেত্রে প্রনোদণার মত কাজ করবে। এ কারনেই আমরা বেশকিছু প্রস্তাবনা সরকারের কাছে দিয়েছি। এগুলো দীর্ঘমেয়াদে এক্সচেঞ্জকে শক্তিশালী করবে বলে আমাদের বিশ্বাষ।

শেয়ারবাজারনিউজ: দেশের উভয় স্টক এক্সচেঞ্জ বিন্যাস্ত (ডি-মিউচ্যুয়ালাইজড) করা হলেও স্ট্র্যাটেজিক ইনভেস্টর নিয়োগের ব্যাপাওে কোনো সাফল্য আসেনি। সিএসই’র পর্ষদের বিবেচনায় বেশকিছু প্রতিষ্ঠান ছিল বলেও শোনা গেছে। এ ব্যাপারে আপনার মতামত কি?

মোঃ সাইফুর রহমান: ডি-মিউচ্যুয়ালাইজেশনের মাধ্যেমে স্টক এক্সচেঞ্জের পরিচালনা ও মালিকানা আলাদা করা হলেও স্ট্র্যাটেজিক ইনভেস্টর নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হয়নি। আমার মনে হয় এর প্রধান কারন বাজারে এক্সচেঞ্জগুলোর মুনাফা বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে পারেনি। আমরা যদি সিএসই’কে অপারেটিং প্রফিটে আনতে পারি তবে তা বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করবে। হয়ত এ ব্যাপারে অতি শিগগিরই কোনো পদক্ষেপও নেওয়া যাবে।

শেয়ারবাজারনিউজ: সিএসই সরকারের কাছে কিছু নীতি-সহায়তা চেয়েছে। এগুলো বিনিয়োগকারীদের জন্য কি সুবিধা দেবে?

মোঃ সাইফুর রহমান: সিএসই’তে যেসব সংস্কার কাজ সম্পন্ন হয়েছে সেটা দীর্ঘমেয়াদী সময়ের জন্য টিকিয়ে রাখাটাই আমাদের লক্ষ্য। এ কারনেই বিভিন্ন ধরনের নীতি-সহায়তার জন্য সরকারের জন্য আবেদন করছি। বিভিন্ন কারনেই বাজারে সাধারন ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থার সংকট রয়েছে। নতুন করে স্ট্র্যাটেজিক পার্টনার ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে সিএসই’র শেয়ারকে আকর্ষনীয় করার জন্য এসব প্রনোদনা আস্থা বাড়াবে বলে বিশ্বাস করি।

শেয়ারবাজারনিউজ: সিএসই’কে নিয়ে কোনো লক্ষ্য কি ঠিক করেছেন?

মোঃ সাইফুর রহমান: সত্যি বলতে দায়িত্ব পেতে পারি এ ব্যাপারটি যেহেতু মাথায় ছিল, তাই দায়িত্ব পাওয়ার পর সামনের দিনগুলোতে সিএসই’কে কোথায় দেখতে চাই সেটা নিয়ে ভেবেছি। সবার আগে লিমিটেড কোম্পানি হিসেবে সিএসই’কে অপারেটিং প্রফিটে নিয়ে আসাটাই হবে আমার লক্ষ্য। এছাড়া সিএসই’র অবকাঠামোগত উন্নয়নের ব্যাপারেও কাজ করার অনেক যায়গা রয়েছে।

শেয়ারবাজারনিউজ: বাজারে নতুন কোনো পণ্য নিয়ে আসার ব্যাপারে আপনার অভিমত কি?

মোঃ সাইফুর রহমান: এক্সচেঞ্জ ডি-মিউচ্যুয়ালাইজড হওয়ার পর বাজারে পণ্যের বৈচিত্র আনতে পারলে বিনিয়োগ বাড়বে। অবকাঠামোগত উন্নয়নের পর নতুন ধরনের পণ্য নিয়ে আসার ব্যাপারে আমার দৃষ্টিভঙ্গি সবসময়ই ইতিবাচক।

শেয়ারবাজারনিউজ: আপনি একাধারে চাটার্ড অ্যাকাউন্টেন্ট ও কস্ট ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্টেন্ট, তাই স্বাভাবিকভাবেই প্রত্যাশার পারদ উর্ধমুখি থাকবে। এ ব্যাপারটিকে কিভাবে নিচ্ছেন?

মোঃ সাইফুর রহমান: দু ধরনেরই ব্যবস্থাপনা নিয়ে আমার অভিজ্ঞতা রয়েছে। তাই প্রত্যাশা বেশি থাকবে এ বিষয়টিকে স্বাভাবিকভাবেই নিচ্ছি। সর্বতভাবে এ প্রত্যাশা পূরনের চেষ্টা করব। ব্যবস্থাপনা বিষয়ে ব্যাক্তিগত এ দক্ষতা সিএসই’কে উপকৃত করবে বলে আমি বিশ্বাষ করি।

শেয়ারবাজারনিউজ: আপনার মূল্যবান সময়ের জন্য ধন্যবাদ।

মোঃ সাইফুর রহমান: আপনাকেও ধন্যবাদ।

আপনার মন্তব্য

Top