ফিরছেন সাইডলাইনের বিনিয়োগকারীরা

dse-cseশেয়ারবাজার রিপোর্ট: দীর্ঘদিন পর আবারো ফিরতে শুরু করেছেন সাইডলাইনে অবস্থানরত বিনিয়োগকারীরা। এছাড়া দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি অবনমনের কারণে এতোদিন বিনিয়োগ নিয়ে বসে থাকা পোর্টফলিও ম্যানেজারদের সক্রিয়তা বাড়তে শুরু করেছে। ফলে বাজারে তারল্য বাড়ার পাশাপাশি স্থিতিশীলতার দিকে অগ্রসর হচ্ছে।
জানা যায়,  পোর্টফলিও ম্যানেজাররা একটা নির্দিষ্ট সময় যেমন ১ মাস থেকে ১ বছরের জন্য ধরে তারা বিনিয়োগ করে থাকে। দেশের রাজনৈতিক ইস্যু পুঁজিবাজারের ওপর অনেক প্রভাব ফেলে এ বিশ্লেষণে তারা এতোদিন বিনিয়োগে এক প্রকার নিষ্ক্রিয় ছিল। তবে বর্তমানে পোর্টফলিও ম্যানেজাররা আবারো সক্রিয় হচ্ছে। এছাড়া দীর্ঘদিন ধরে বাজার পর্যবেক্ষণে থাকা বিনিয়োগকারীরাও ফিরে আসতে শুরু করেছে। যার ফলে বাজারে লেনদেনের পরিমাণ বাড়ার পাশাপাশি একটি স্থিতিশীল পর্যায় যাচ্ছে বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংক অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমবিএ) সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ এ হাফিজ শেয়ারবাজারনিউজ ডটকমকে জানান, বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে এমন কোনো ইস্যু বর্তমানে নেই। আশা করা যায় বাজার ভালো পর্যায়ে থাকবে। সাইডলাইনে বসে থাকা বিনিয়োগকারীরা ফিরে আসার পাশাপাশি মার্চেন্ট ব্যাংকগুলো সক্রিয় হচ্ছে। ফলে বাজার স্থিতিশীল হচ্ছে বলে মনে করেন তিনি।

তিনি আরো বলেন, নিয়ন্ত্রক সংস্থার আইন অনুযায়ী মার্চেন্ট ব্যাংকগুলো কাজ করে যাচ্ছে। বাজারে একবারে যেন সেল প্রেসার না বেড়ে যায় সেদিক বিবেচনা করে মার্জিন লোন প্রদানে মার্চেন্ট ব্যাংকগুলো কাজ করছে। ২০১১ সালে যে ভুল সিদ্ধান্তে বাজারে ধস নেমেছিল সে ভুল এখন হবে না। অবশ্য সে সময় যুগযোপোযোগী সিদ্ধান্তের অভাব ছিল বলে জানান হাফিজ। তিনি বলেন, ঋণ সরবরাহের ক্ষেত্রে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ করছে মার্চেন্ট ব্যাংকগুলো। কারণ বাজারের উঠা-নামার ক্ষেত্রে মার্জিন লোন বড় ভূমিকা পালন করে। মূলত বাজারে স্থিতিশীলতার লক্ষ্যে মার্চেন্ট ব্যাংকগুলো কাজ করে যাচ্ছে বলে জানান তিনি।
এদিকে পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ২০০৯ সালের জানুয়ারিতে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) দৈনিক লেনদেনের গড় ছিল প্রায় ৩০০ কোটি টাকা। ২০০৯ সালে গড় লেনদেনের পরিমাণ বেড়ে ৬০৪ কোটি টাকায় দাঁড়ায়। আর ২০১০ সালে লেনদেনের গড় প্রায় ২ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত হয়। কিন্তু ২০১১ সালের শুরু থেকে পুঁজিবাজারে লেনদেন ব্যাপক হারে হ্রাস পায়। যা কমতে কমতে একপর্যায়ে গত বছর ডিএসইতে গড় লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়ায় ৪৪০ কোটি টাকার মতো।

গত অর্থবছরে সর্বোচ্চ লেনদেন (১ জুন ২০১৫) হয় ১ হাজার ২ কোটি ৩৩ লাখ ৯১ হাজার টাকা এবং সর্বনিম্ন লেনদেন (১৯ মার্চ ২০১৫) হয়েছে ১৬৬ কোটি ৬১ লাখ ৪০ হাজার টাকা। এদিকে চলতি অর্থবছরে পুঁজিবাজারে সর্বোচ্চ লেনদেন (১৯ জানুয়ারি ২০১৬) হয়েছে ৭২০ কোটি ৭২ লাখ ৩২ হাজার টাকা এবং সর্বনিম্ন লেনদেন (১০ জুলাই ২০১৬) হয়েছে ২০৯ কোটি ৫৪ লাখ ৯২ হাজার টাকা।

ডিএসই থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ২৫০টি স্টক ডিলার প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৩০টি প্রতিষ্ঠানের ডিলার হিসেবে বিনিয়োগ রয়েছে। এই বিনিয়োগের পরিমাণ এক হাজার ৬০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে আবার ব্যাংক ও ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক খাতের সহযোগী হিসেবে নিবন্ধিত মাত্র ৩৬টি প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় এক হাজার ৪৫০ কোটি টাকা। এর বাইরে বাকি ডিলার প্রতিষ্ঠানগুলোর বিনিয়োগের পরিমাণ মাত্র ১৫০ কোটি টাকা। বাকি ডিলার প্রতিষ্ঠানগুলোর বাজারে কোনো কার্যক্রম নেই। নিবন্ধিত এসব ডিলার প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে মাত্র ৮০টি প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগের পরিমাণ ৫০ লাখ টাকা বা তারও বেশি। আর শূন্য থেকে ৫০ লাখ টাকার নিচে বিনিয়োগ রয়েছে এমন স্টক ডিলারের সংখ্যা শতাধিক। জানা যায়, এতোদিন নিবন্ধিত ২৪টি স্টক ডিলার প্রতিষ্ঠান পুরোপুরি নিস্ক্রিয় ছিল। এদের মধ্যে ব্যাংক এবং ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানও রয়েছে। তবে বর্তমানে তাদের সক্রিয়তা বাড়ছে। শিগগিরই বাজার একটি স্বাভাবিক পর্যায়ে চলে আসবে এমন আশা করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।

শেয়ারবাজারনিউজ/ম.সা

আপনার মন্তব্য

*

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Top