পরিস্থিতির পরিবর্তন হলে দু’দিনের মধ্যে বাজার ভালো হবে- মো: মিজানুর রহমান

Mijanurশেয়ারবাজার রিপোর্ট: মো: মিজানুর রহমান উপসাগরিয় যুদ্ধের সময় কুয়েত ছেড়ে বাংলাদেশে চলে আসেন। দেশে ফিরে বঙ্গবাজারে কাপড়ের ব্যবসা করতেন। তার এলাকার একজনের মাধ্যেমে প্রথম অল্প কিছু বিনিয়োগ করে শেয়ারবাজারে ব্যবসা শুরু করেন। আস্তে আস্তে শেয়ারবাজারের ব্যবসা বুঝে নিজেই ২০০১ সালে ‘এম অ্যান্ড জেড’ সিকিউরিটিজ হাউজের মাধ্যমে বিও অ্যাকাউন্ট খুলে শেয়ার ব্যবসা শুরু করেন। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের প্রচার সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন।
মো: মিজানুর রহমান বলেন, অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হচ্ছে শেয়ারবাজার। শেয়ারবাজার বাঁচলে আমাদের অর্থনিতি বাঁচবে এবং দেশের উন্নতির সাথে ৩৩ লাখ বিনিয়োগকারীও বাঁচবে। অনেক বিনিয়োগকারী রয়েছেন যাদের এক মাত্র কর্মস্থল এই বাজারকে ঘিরে।
সরকারের কাছে জানতে চাই আমরা কি তাদের প্রতিপক্ষ? নাকি অন্য কিছু? আপনি ক্ষমতায় থেকে সকল কাজ ঠিক মত করছেন তাহলে, কেন আমাদের পুঁজিবাজারের দিকে দেখছেন না? কেন বাজারে এত দুর্নীতি, আর কেনইবা এতটা অবেহেলিত? তাই প্রধানমন্ত্রীর কাছে ৩৩ লাখ বিনিয়োগকারীসহ আমাদের আবেদন শেয়ারবাজারের দিকে একটু সুদৃষ্টি দিবেন। আপনারা যদি বাজারকে নিয়ে না ভাবেন, তাহলে আমরা যা লোকসান করার করেছি আপনি শেয়ারবাজারটাকে বন্ধ করে দিন।
আপনারা ৯০০ কোটি টাকা প্রণোদনা দেওয়ার কথা বললেন, সেটা ভেঙে ভেঙে না দিয়ে এক সাথে দিলে একটা ফান্ড গঠন হত। আমাদের জন্য অনেক ভাল হত এবং একটা ব্যপকতা আসতো। ৩০০ কোটি টাকা করে দেওয়ায় এর সুফল সে ভাবে পাওয়া যাচ্ছে না।
শেয়ারবাজার নিউজ: বাজারের প্রথম কি চিত্র দেখেছেন?
মো: মিজানুর রহমান: প্রথমে যখন বাজারে এসেছি তখন কাগজের শেয়ার ছিল। তেমন লোকসান ছিলো না। তখন শেয়ারবাজারে বেশ ভালই ব্যবসা ছিল।
শেয়ারবাজার নিউজ: বর্তমান সময়ে শেয়ার ব্যবসা কেমন চলছে?
মো: মিজানুর রহমান: আগের তুলনায় এখন শেয়ার কেনা বেচা অনেক সহজ হয়েছে। যুগের সাথে তাল মিলিয়ে বাজারের কাঠমোগত অনেক পরিবর্তন হয়েছে ঠিকই, কিন্তু তাতেও অবস্থার পরিবর্তন হয়নি বরং আরও অবনতির দিকে যাচ্ছে। যখন শেয়ার ব্যবসা শুরু করি তখন কাগজের শেয়ার ছিলো তার পরও এতটা ঝামেলা বা লোকসান হয়নি। এখন সব কিছু বদলে গেছে। কম্পিউটারের মাধ্যমে শেয়ার লেনদেন হচ্ছে। যুগের সাথে তাল মিলিয়ে সব কিছুর উন্নতি হয়েছে কিন্তু বাজারের উন্নয়ন হচ্ছে না।
শেয়ারবাজার নিউজ: বাজারে এতটা ধস নামার কারণ কি?
মো: মিজানুর রহমান: হঠাৎ করে বাজারে কিছু গেইমব্লার এসে বজারটাকে ধ্বংস করে বের হয়ে যায়। যার ফলে আমাদের মত সাধারণ বিনিয়োগকারীদের এতটা ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে।
শেয়ারবাজার নিউজ: তালিকাভুক্ত কোম্পানি সম্পর্কে কিছু বলেন?
মো: মিজানুর রহমান: কোম্পানিগুলো তাদের ব্যবসায়িক কাজ ঠিক মত করছে। তবে কিছু কোম্পানি রয়েছে যাদের প্রোস্পেক্টাসে বেশ সমস্যা রয়েছে। আবার বাজারে কিছু দালাল চক্র রয়েছে যারা টাকার বিনিময়ে কোম্পানিগুলোর এজিএম, ইজিএম পাশ করে দেয়। আমি সকল বিনিয়োগকারীদের উদেশ্য করে বলবো যারা বাজারে বিনিয়োগ করেন তারা এই অনুষ্ঠানগুলোতে যাবেন। আমাদের বিনিয়োগ করা টাকায় দালালদের অংশগ্রহণ করতে দিবেন না।
শেয়ারবাজার নিউজ: প্রাথমিক গণ প্রস্থাব (আইপিও) সম্পর্কে কিছু বলুন?
মো: মিজানুর রহমান: বাজরে আইপিও আসুক তবে এতো ঘনঘন অনুমোদন না দিয়ে দুই তিন মাসে একটা করে দিলে ভাল হয়। অতিরিক্ত প্রিমিয়াম নিয়ে বাজারে অনুমোদন না দিলে বাজারের তারল্য বজায় থাকবে। আরেকটা দিক হচ্ছে যারা অডিট করেন তারা একটু ভাল করে দেখবেন কোম্পানিগুলো স্বক্ষমতা কতটুকু। বাজারে প্রিমিয়াম নিয়ে আসার যোগ্যতা আছে কি না। যদি যোগ্যতা না থাকে তাহলে দয়া করে টাকার বিনিময় কোম্পানিগুলোকে বাজারে এনে বিনিয়োগকারীদের বিপদে ফেলবেন না।
শেয়ারবাজার নিউজ: ওটিসি মার্কেট সম্পর্কে কিছু বলেন?
মো: মিজানুর রহমান: ওটিসি মার্কেটের কোম্পানিগুলো অড়ালে থেকে তাদের ফায়দা লুটছে। কোম্পানিগুলোর শেয়ার বিক্রি করতে না পারায় বিনিয়োগকারীদের কোটি কোটি টাকা আটকে আছে এ মার্কেটে। তবে এ কোম্পানিগুলোর সর্বদা লেনদেনের জন্য ব্রোকারেজ হাউজকে দায়িত্ব দিলে ভাল হয়। কারণ লেনদেন হলে সকলের চোখে পরবে। এবং কোম্পানিগুলো তাদের ইচ্ছা মত আড়ালে থেকে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করতে পারবে না। ওটিসিতে অনেক কোম্পানি রয়েছে যার মধ্যে বেশ কিছু কোম্পানির কোন হদিস নেই। কোম্পানিগুলো বাজার এসে বিনিয়োগকারীদের টাকা নিয়ে চলে যাচ্ছে। এ ব্যাপারে বিনিয়োগকারীদের সার্থে বিএসইসি কি ভুমিকা পালন করছে ?
শেয়ারবাজার নিউজ: মিউচ্যুয়াল ফান্ড নিয়ে কিছু বলেন?
মো: মিজানুর রহমান: মিউচ্যুয়াল ফান্ডগুলোর অবস্থা এখন খুবই খারাপ। প্রায় বেশিরভাগেরই ইউনিট দর ফেস ভ্যালুর নিচে। ফান্ডের টাকা যে ভাবে ব্যবহার করা উচিত সে ভাবে ব্যবহার হচ্ছে না। তাই এ খাতে বিনিয়োগকারীদের তেমন আগ্রহ নেই বললেই চলে।
শেয়ারবাজার নিউজ: বাজারের মন্দা ভাব কাটাতে বিএসইসি করনীয় কি বলে মনে করেন?
মো: মিজানুর রহমান: নিয়ন্ত্রক সংস্থা তো সবই করতে পারে। বিএসইসির, ডিএসই এবং সিএসই এদের তো কোন লোকসান নেই। বাজারে লেনদেন হলে তাদের কমিশন তারা ঠিক পাচ্ছে। আমাদের মত বিনিয়োগকারীদের কথা তারা ভাবলে বাজার এতটা নিচে নামতে পারে না।
শেয়ারবাজার নিউজ: সব কিছু শেষ করেছেন এ বাজারে, তার পরও কিসের আশায় রয়েছেন?
মো: মিজানুর রহমান: সব কিছু শেষ করেছি। বাজার ছেড়ে অন্য কোথাও যাবার জায়গা নেই। যত দিন জীবিত আছি বাজারের শেষ অবস্থটা দেখতে চাই। বাজার এতটা নিচে নেমেছে আরও কতটা নামতে পারে সেটাও দেখতে চাই।
শেয়ারবাজার নিউজ: বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি বাজারে প্রভাব ফেলেছে কি?
মো: মিজানুর রহমান: রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে বাজরে বিনিয়োগ অনেকটা কমেছে। বাজার এতটা নিচে নেমেছে যা আমাদের কল্পনার মত নয়। তবে এ পরিস্থিতি পরিবর্তন হলে দু’দিনের মধ্যে বাজার ভালোর দিকে যাবে বলে আশা করি। দেশের সার্বিক অবস্থার কারণে বাজারে কিছুটা প্রভাব পড়েছে। যে সকল বিনিয়োগকারীর প্রধান কর্মস্থল বাজার কে ঘিরে তারা এ অবস্থার কারণে হাউজে এসে লেনদেন করতে পারছে না। তবে দেশের সার্বিক অবস্থা স্বাভাবিক হলে বাজার আবার চাঙ্গা হবে।
শেয়াবাজার নিউজ: বাজারের স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনতে করণী কি?
মো: মিজানুর রহমান: দেশের প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীর যদি একটু সুদৃষ্টি দেন তাহলে বাজার একটা ভাল স্থানে চলে আসবে।
শেয়ারবাজার নিউজ: নতুন বিনিয়োগকারীদের উদ্দ্যেশে কিছু বলুন?
মো: মিজানুর রহমান: বাজারের এখন যে অবস্থা বিরাজ করছে তাতে বেশি লোকসান হবার কোনো সম্ভবনা নেই। নতুনদের জন্য বলবো বাজারে আসেন, বিনিয়োগের এখনই সময়। কারণ এখন বাজার যে স্থানে রয়েছে তার থেকে নিচে নামবে না বলে আশা করি। এখনই বিনিয়োগের উত্তম সময়।
শেয়ারবাজার নিউজ: আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
মো্: মিজানুর রহমান: আপনাকেও ধন্যবাদ।
শেয়ারবাজারনিউজ/মু/ও

আপনার মন্তব্য

*

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Top