একদিনের লেনদেন গিয়ে ঠেকেছে ৭ দিনে!

Editorialসময়টা ২০১০ সালের ২১ অক্টোবর। যেদিন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) একদিনের লেনদেন ২ হাজার কোটি টাকা অতিক্রম করেছিল। সেইদিন থেকে ৭ ডিসেম্বর ২০১০ পর্যন্ত টানা দৈনিক গড় লেনদেন ছিল আড়াই হাজার কোটি টাকা। এমনও দিন অতিবাহিত হয়েছে যেদিন(৫ ডিসেম্বর,২০১০)  পুঁজিবাজারে লেনদেনে রেকর্ড হয়েছিল ৩ হাজার ২৪৯ কোটি টাকা। তারপর থেকে পুঁজিবাজারে যেন রাহুর দশা পড়েছে।

সেই একদিনের লেনদেন এখন ৭ দিন মিলিয়েও হচ্ছে না। ডিএসইর প্রকাশিত গত ৬ মাসের প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, চলতি বছরের প্রথম ৬ মাসে অর্থাৎ ৩০ জুন ২০১৬ সমাপ্ত অর্থ বছরে বাজারে সর্বমোট ২ হাজার ৮৯৫ কোটি ৮০ লাখ শেয়ার, ইউনিট এবং বন্ড লেনদেন হয়েছে। যার বাজার মূল্য ১ লাখ ৭ হাজার ২৪৬ কোটি ১০ লাখ টাকা। এ সময়ে ২৪৭টি কার্যদিবসে গড়ে ১১ কোটি ৭২ লাখ ৪০ হাজার শেয়ার লেনদেন হয়। যার বাজার মূল্য দাঁড়িয়েছে ৪৩৪ কোটি ১৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা। অর্থাৎ এখন দৈনিক গড় লেনদেন হচ্ছে ৪’শ কোটির ঘরে। যা একসময় ছিল আড়াই হাজার কোটিরও ওপরে।

এই সময়ের মধ্যে পুঁজিবাজারে অনেক কোম্পানি এসেছে। সংশোধন করা হয়েছে বিভিন্ন আইন, নেয়া হয়েছে বহু পদক্ষেপ। কিন্তু সাধারণ বিনিয়োগকারীদের চিড়ে ধরা আস্থা ফেরানো সম্ভব হয়নি। ইতিমধ্যে মার্জিন ঋণের একঝোঁক বিনিয়োগকারী শেষ হয়ে গেছে। নতুন করে আসা বিনিয়োগকারীরাও পথে বসতে চলেছে। বেকার হতে হয়েছে অনেক সিকিউরিটিজ হাউজের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের। এখন যারা রয়েছেন তাদের বেশিরভাগই কোম্পানি নিউজের ওপর ব্যবসা করে চলেছেন। বিশ্লেষণধর্মী বিনিয়োগে এখন আর লাভ নাই-এমনটাই যেন বিনিয়োগকারীদের মনে দানা বেঁধেছে।

রাজনৈতিক ময়দানে সকল পেশাজীবীরা আলাদা থাকলেও এই পুঁজিবাজারে এসে সব এক হয়ে যায়। বাজারে একটি সূচকের পতন হওয়া মানেই প্রত্যেকের বুকে যেন একটি করে আঁচড় কাটা। চলতি বছরের প্রথম ৬ মাসে  ডিএসই মূল্য সূচক কমেছে ৭৫.৫৩ পয়েন্ট বা ১.৬৫ শতাংশ।  প্রতি ৬ মাস অন্তর অন্তর বা এক বছরের হিসাবেই সূচকের পতন হচ্ছে। আমাদের নিয়ন্ত্রক সংস্থা পুঁজিবাজারে উন্নয়নে বদ্ধ পরিকর এবং কাজও সেভাবে করছে। দেশের উভয় স্টক এক্সচেঞ্জ কিছুদিন পর পর নিত্য নতুন আইটেম নিয়ে এসে পুঁজিবাজারকে উন্নত করে যাচ্ছে। কিন্তু পুঁজিবাজারের প্রাণ বিনিয়োগকারীরাই দিন দিন শেষ হয়ে যাচ্ছে। চলতি বছরের ৩০ জুন তারিখ পর্যন্ত ২ লাখ ১৭ হাজার ২২৮টি বিও অ্যাকাউন্ট ঝড়ে পড়েছে।

অর্থাৎ পুঁজিবাজার উন্নয়নে যেসব উদ্যোগ বা পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে তা বিনিয়োগকারীদের ফিরিয়ে আনতে পারছে না। বরং দিন দিন অনাস্থা বেড়ে চলেছে। তাই, যাই কিছুই করেন না কেন বিনিয়োগকারীদের বাঁচান। তাদের ব্যবসা করার সুযোগ করে দিন। আমরা আগের মতো পুঁজিবাজারে হইহুল্লোড় দেখতে চাই। হারিয়ে যাওয়া আনন্দের মূহুর্ত্বগুলো  সারা মতিঝিল পাড়ায় আবার ফিরে পেতে চাই।

 

আপনার মন্তব্য

*

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Top