আইডিআরএ উন্নয়ন রেখে নিয়ন্ত্রণ বেশি করছেঃ অরুন কুমার সাহা

arun-kumar-saha-sbnews_1-520x326শেয়ারবাজার রিপোর্টঃ  আইডিআরএ মানে ইন্স্যুরেন্স ডেভেলপমেন্ট এন্ড রেগুলেটরি অথোরিটি হলেও প্রতিষ্ঠানটি বীমা খাতের উন্নয়নের জন্য বাস্তব কার্যক্রম গ্রহণের চেয়ে নিয়ন্ত্রণ করার প্রতি বেশি নজর দিচ্ছে। বীমা খাতের উন্নয়নের জন্য জনসাধারণ/বীমা গ্রাহকদের মধ্যে বীমা বিষয়ে সচেতন করার নিমিত্তে বীমার প্রয়োজনীয়তা, সুফল, কুফল, গ্রাহদের জন্য পালনিয় বিভিন্ন নিয়ম কানুন, রীতি নীতি ইত্যাদি সভা সমিতি, সংবাদ মাধ্যমে প্রচার করা হলে বীমা গ্রাহকসহ বীমা কোম্পানি উপকৃত হবে। কেননা বর্তমানে প্রতিযোগিতামূলক বাজারে বিভিন্ন বীমাকারী প্রয়োজনে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে ব্যবসা সংগ্রহ করে থাকে। ফলে প্রকৃত নিয়ম কানুন নিয়ে বীমা গ্রাহকের মধ্যে আস্থার অভাব দেখা যায়। তবে বীমা গ্রহীত অথোরেটির নিকট থেকে বীমার জ্ঞান নিয়ম, কানুন সম্পর্কে জানতে পারলে তারা সঠিক ধারণা লাভ করবে ও বীমা কোম্পানীর ওপর তাদের আস্থা বৃদ্ধি পাবে। যাহা কোম্পানির জন্যও সঠিক নিয়ম কানুন পালনে অত্যন্ত সহায়ক হবে বলে আমি মনেকরি। সম্প্রতি শেয়ারবাজার নিউজ ডটকমের স্টাফ রিপোর্টার রুহান আহমেদের কাছে দেয়া এক একান্ত সাক্ষাতকারে ইস্টল্যান্ড ইন্স্যুরেন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং সিইও অরুন কুমার সাহা এসব কথা বলেছেন। সাক্ষাতকারটির বিশেষ বিশেষ অংশগুলো পাঠকদের উদ্দেশ্যে নিম্নে তুলে ধরা হলো:

 শেয়ারবাজার নিউজঃ বর্তমান প্রেক্ষিতে দেশের বীমা খাতের অবস্থা কেমন?

অরুন কুমার সাহাঃ রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে দেশের গোটা অর্থনৈতিক ব্যবস্থাই বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। যার প্রভাব বীমা খাতের ওপরে পড়েছে। এ অবস্থায় আমদানি রপ্তানি কমে গেছে। তাই তেমন একটা এলসিও (লেটার অব ক্রেডিট) খোলা হচ্ছে না । অন্যদিকে রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে মোটর বীমা ক্লেইম সহ অন্যান্য ক্লেইম বেড়ে যাচ্ছে। এতে বীমা কোম্পানিগুলোর খরচ বাড়ছে এবং আয়ও কমে যাচ্ছে।

শেয়ারবাজার নিউজঃ এই সংকটাপন্ন পরিস্থিতিতে আপনাদের ঠিক কি পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে?

অরুন কুমার সাহাঃ এসময়ে বিশেষ করে বেশকিছু মোটর গাড়ির ক্লেইম আসছে। এর আগেও কয়েকটি দোকান পোড়ানোর ক্লেইম এসেছিল। এই পলিটিক্যাল টার্মওয়েকে কেন্দ্র করে আমাদের ক্লেইম একটু বেশিই লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

শেয়ারবাজার নিউজঃ একজন সিইও হিসেবে ইস্টল্যান্ড ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি সম্পর্কে কি বলবেন?

অরুন কুমার সাহাঃ ১৯৮৬ সালের ৫ই নভেম্বর এই কোম্পানির যাত্রা শুরু। কোম্পানির চেয়ারম্যান মহোদয় অত্যন্ত বিচক্ষণ, জ্ঞানী, গুনী এবং দেশে বিদেশে সমাদৃত। অভিজ্ঞ পরিচালক মন্ডলী নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করেন এবং সুশাসনে বিশ্বাসী। আমরা চেষ্টা করি নিয়ম কানুনের মধ্যেই চলার জন্য। আমরা সাধারণত এগ্রেসিভ ওয়েতে ব্যবসা করি না। আর ক্লেইমগুলো পলিসির আওতায় যত দ্রুত সম্ভব কাগজ পত্র সংগ্রহ করে সার্ভে করিয়ে রিপোর্টের ভিত্তিতে আমরা তা সেটেল করে ফেলি।

শেয়ারবাজার নিউজঃ আপনাদের ক্রেডিট রেটিং সম্পর্কে কিছু বলুন।

অরুন কুমার সাহাঃ আমাদের ক্রেডিট রেটিং ‘ডাবল এ’। যা বীমা কোম্পানী হিসেবে অত্যন্ত শক্তিশালী মৌল ভিত্তির পরিচয় দেয়।

শেয়ারবাজার নিউজঃ এ ধরণের একটি কোম্পানির এমন গুরুত্বপূর্ন দায়িত্ব পালন করার ব্যপারে আপনার অভিমত কি?

অরুন কুমার সাহাঃ এ ব্যাপারে বলব দায়িত্ব আমার একার না। আমরা সার্বিক ভাবে দায়িত্ব পালন করে থাকি। মূলত আমাদের কাজগুলো টিম ওয়ার্কের মাধ্যমে করি। জটিল বিষয়ে আমাদের টপ টু বটম সকলের সাথে আলোচনার মাধ্যমেই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

শেয়ারবাজার নিউজঃ বর্তমান পরিস্থিতিতে বীমা খাত কতটুকু ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে?

অরুন কুমার সাহাঃ বীমা করা হয় সাধারণত দুর্ঘটনা জনিত ক্ষতি পূরণের জন্য। যদিও হারানো সম্পদ কেউ ফিরিয়ে দিতে পারেনা। কিন্তু আমরা চেষ্টা করি ক্ষতিগ্রস্ত সম্পদের আর্থিক ক্ষতি পুষিয়ে দিতে। আর বর্তমান পরিস্থিতিতে স্বাভাবিক ক্ষতির সাথে আরো কিছু ক্ষতি যোগ হচ্ছে। যেমন রাস্তায় গাড়ি চললে ‍দুর্ঘটনা জনিত ক্ষতি হতেই পারে। আর এখন এর বাইরেও আরো কিছু ঘটনা ঘটছে। যার ফলে বীমা খাতে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি ক্ষতি হচ্ছে।

শেয়ারবাজার নিউজঃ বীমার উন্নয়নে আপনার কি পরামর্শ থাকবে?

অরুন কুমার সাহাঃ সাধারণত বীমার লক্ষ্য, উদ্দেশ্য, গুরুত্ব এবং ব্যবহার সম্পর্কে আমাদের দেশের বেশিরভাগ মানুষ তেমন একটা সচেতন না। বেশির ভাগ সময় যখন একজন গ্রাহক একটি বীমা করে তখন ঐ বীমা বিষয়ে তিনি নিজেই জানেন না তার কি ধরণের, কতটুকু বীমা দরকার এবং কি পরিমাণ তথ্য উপাত্য বীমাকারীকে সরবরাহ করা প্রয়োজন। এর ফলে বীমার নিয়ম সঠিকভাবে অনেকেই পালন করতে পারছেন না। এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থার মাধ্যমে কোন উদ্যোগ নেয়া গেলে মনে হয় ভাল হতো।

শেয়ারবাজার নিউজঃ আমাদের দেশে চাহিদার তুলনায় বীমা কোম্পানির হার কেমন?

অরুন কুমার সাহাঃ আমাদের ছোট্ট এই দেশটিতে চাহিদার তুলনায় বীমা কোম্পানির সংখ্যা অনেক বেশি। এতে কোম্পানিগুলো ঝুঁকির মানের দিক বিবেচনা না করে ব্যবসায়িক দিককে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে, ফলে কোম্পানিগুলো মানগতভাবে ভালো করতে পারছেনা। কারণ শুধু প্রিমিয়াম আয়ের মাধ্যমেই খাতের উন্নয়ন হতে পারে না। পরবর্তী জেনারেশনের জন্যও একটা শিক্ষামূলক ফাউন্ডেশন রাখা দরকার।

শেয়ারবাজার নিউজঃ এই ক্ষেত্রে ইউনিভার্সিটি বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো কি ভূমিকা রাখতে পারে?

অরুন কুমার সাহাঃ আমরা মনে করি ইউনিভার্সিটি বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে বীমা বিষয়ক কারিকুলাম থাকা উচিত। কেননা, বীমা টেকনিক্যাল সূদুরপ্রসারী একটি বিষয়। দেশের আর্থিক উন্নয়নে ইহার ভূমিকা অপরিহার্য। এমন কোন ক্ষেত্র নাই যেখানে বীমার ভূমিকা নাই। প্রতি মুহূর্তে আমাদের দুর্ঘটনা জনিত ঝুঁকির নিরাপত্তার প্রয়োজন। কিন্তু আমরা সেভাবে চিন্তা করি না। ফলে জিডিপিতে আমাদের দেশের বীমার অংশগ্রহণ ন্যূনতম। যা কোন পার্সেন্টেজে আসে না। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তাদের পাঠ্যপুস্তকে বীমার বিষয় অন্তর্ভূক্ত করে এ খাতের উন্নয়নে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে পারে।

শেয়ারবাজার নিউজঃ এ ব্যাপারে নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইডিআরএ’র পক্ষ থেকে কতটুকু সহায়তা পাচ্ছেন?

অরুন কুমার সাহাঃ আইডিআরএ বীমা খাতের ডেভেলপমেন্টের চেয়ে বীমা কোম্পানীকে রেগুলেট করার দিকেই বেশি নজর দিচ্ছেন। এ খাতের ডেভেলপমেন্টের জন্য ব্যপকভাবে সভা, সেমিনার, বিভিন্ন প্রচার মাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মাধ্যমে বীমা গ্রাহকের/জনসাধারণকে বীমার নিয়ম কানুন, প্রয়োজনীয়তাসহ তদুপরি পাঠ্যপুস্তকে বীমা বিষয়কে অন্তর্ভূক্ত করার জন্য সংশ্লিষ্ট মহলের সাথে কার্যকর ভূমিকা গ্রহণ করতে পারে। যা বীমা শিল্প তথা দেশের আর্থিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকাসহ কোম্পানির জন্য অত্যন্ত সহায়ক হবে।

শেয়ারবাজার নিউজঃ এতে বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স এসোসিয়েশনের (বিআইএ) পক্ষ থেকে কেমন সহায়তা পাচ্ছেন।

অরুন কুমার সাহাঃ বিআইএ রুটিন অনুযায়ী তাদের একাডেমিতে ট্রেনিংয়ের আয়োজন করে থাকে। প্রত্যেকটা সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানেই বীমার প্রয়োজন আছে। তাই প্রত্যেকটি সংস্থার কর্মকর্তাদের বীমা বিষয়ে জ্ঞান দানের জন্য প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে।

শেয়ারবাজার নিউজঃ অনেক সময় শোনা যায় যে বীমা গ্রহীতা তার প্রাপ্য বুঝে পাচ্ছেন না। এই বিষয়ে কি বলবেন?

অরুন কুমার সাহাঃ আমরা শুধুমাত্র বীমা পত্রের অধীনে দুর্ঘটনাজনিত ক্ষতিপূরণ দিয়ে থাকি এর বাইরে যদি কোন ক্লেইম আসে তখন সেগুলোকে বিবেচনার সুযোগ থাকে না। এছাড়া ক্ষয়ক্ষতির জন্য দায়ী তৃতীয় পক্ষের নিকট থেকে দাবী আদায়ের ক্ষেত্রে ভূমিকা গ্রহণে শৈথিল্য প্রদর্শন করে থাকে। ক্ষয়ক্ষতি সংঘটিত হলে বীমাগ্রহীতা সাধারণত বীমাপত্রের আওতা ও শর্তাবলী বিবেচনায় না রেখে বেশী অংকের দাবী পেশ করে থাকেন কিন্তু বীমা পত্রের অধীনে ক্ষয়ক্ষতি নিরুপনের ক্ষেত্রে বীমাকৃত সম্পদের বাজার মূল্য বীমাকৃত মূল্য বীমা পত্রের শর্তের আওতায় ডিডাকটেবল ইত্যাদি বিষয়ের প্রয়োগ করে ক্ষতি নিরুপন করার ক্ষেত্রে বীমা গ্রহীতার পেশকৃত অংকের সাথে ভিন্নতা দেখা দিতে পারে। কারণ বীমা গ্রাহকগণ প্রায়ই এই সকল বিষয় বিবেচনা না করেই দাবীর অংক পেশ করে থাকেন।

শেয়ারবাজার নিউজঃ বীমায় মানব সম্পদ তৈরীতে আপনারা কি করছেন?

অরুন কুমার সাহাঃ শিক্ষাগত যোগ্যতার আলোকে নিয়োগ প্রাপ্ত কর্মকর্তাদের ইনইন্ডিজ ট্রেনিং দেয়া হয় এবং বিআইএ-সহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে ট্রেনিং এর জন্য পাঠানো হয়। যাতে তারা এ বিষয়ে ভালভাবে জ্ঞান অর্জন করতে পারে।

শেয়ারবাজার নিউজঃ সামাজিক দায়বদ্ধতার দিক থেকে কি করছেন?

অরুন কুমার সাহাঃ ইস্টল্যান্ড ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি তার কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) সম্পর্কে খুবই সচেতন। কোম্পানি শীতের সময়ে দূর্গতদের মধ্যে কম্বল বিতরণ, উপযুক্ত শিক্ষার্থীদের বাৎসরিক ভিত্তিতে বৃত্তি প্রদানের নিমিত্তে আইবিএ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ, বিভিন্ন দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের চিকিৎসা সহায়তা প্রদানের জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদানসহ বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করা হচ্ছে।

শেয়ারবাজার/রু/সা

 

আপনার মন্তব্য

*

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Top