আজ: সোমবার, ১০ মে ২০২১ইং, ২৭শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২৬শে রমজান, ১৪৪২ হিজরি

সর্বশেষ আপডেট:

১৪ মার্চ ২০১৫, শনিবার |


ঘাড় বা পিঠে ব্যাথার সমাধান

imagesশেয়ারবাজার ডেস্ক : আমাদের প্রায়শই ঘাড় বা পিঠে ব্যাথা হয়ে থাকে। সারভিকাল স্পন্ডাইলোসিস (cervical spondylosis) হলে ঘাড়ে যেমন ব্যথা হয় তেমনি মাথার নিম্নাংশেও ব্যথা হয়ে থাকে। মাঝে মাঝে এই ব্যথা দুই কাধ, বাহু, হাত এমন কি আঙ্গুলেও ছড়িয়ে পরতে পারে। কারো কারো আবার মাথা ব্যথা/ পিঠের পিছনে ব্যথা, হাত/বাহু দুর্বল বা অবশ হয়ে আসা বা চিনচিনে ব্যথা করা এসব উপসর্গ ও দেখা দিতে পারে।

এই ঘাড়ে ব্যাথার জন্য কয়েকটি ব্যায়ামই যথেষ্ট। তবে কশেরুকার মাংশপেশীতে টান পড়া, হাড় ক্ষয়ে যাওয়া বা বৃদ্ধি পাওয়া, অস্থিসন্ধিতে (joint) রোগ হওয়া, লিগামেন্ট এ টান পরা ইত্যাদি নানাবিধ কারনে ঘাড় ব্যাথা হতে পারে। এক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া উচিত।

এবার আসুন এসব ব্যাথা দূর করার ব্যায়ামগুলো জেনে নেই।

প্রথম ধাপ- ব্যথার জায়গাটি চিহ্নিত করুন। ডান দিকে বা পিঠের ওপরের দিকে ব্যথা হলে নিজের ডান হাত সেখানে রাখুন। বাম দিকে ব্যথা হলে, হাত রাখুন সে দিকেই।

দ্বিতীয় ধাপ- ব্যথার জায়গায় আঙুল দিয়ে চাপ দিন। মনে রাখবেন, চাপ দেওয়ার সময়ে ব্যথা হতে পারে, তবে সেটি এমন ব্যথা যা আপনি সহ্য করতে পারবেন। কিন্তু হাত পৌঁছতে পারে না, এমন কোনও জায়গায় ব্যথা হলে টেনিস বল বা এ ধরনের অন্য কোনও বস্তু সেই কাজ করে দিতে পারে। সে ক্ষেত্রে দেওয়ালে পিঠ ঠেকিয়ে দাঁড়ান। ব্যথায় জায়গায় সেই টেনিস বলটি রাখুন।

তৃতীয় ধাপ- টানের বিপরীতে আড়াআড়ি ভাবে ঘাড় বাঁকান, যেন থুতনি নিজের বাহুমূলের সঙ্গে মেশাতে চাইছেন।

চতুর্থ ধাপ- এই তিনটি স্টেপই ২০ বার করুন। এর পর নিজের ঘাড় এবং পিঠকে স্ট্রেচ করুন। এখনই ঘুম থেকে উঠলেন গোছের স্ট্রেচ করতে হবে। এতেই আপনার পেশির টান ছেড়ে যাবে।

নিশ্চয়ই মনে প্রশ্ন আসে কেন এমন ব্যথা হয়? আপনার ঘাড়খানা কষ্টকরে যেই হাড়গুলো শক্ত করে রাখে তারা হলো কশেরুকা (cervical vertebra)এবং তাদের মাংশপেশী। আর এই কশেরুকাদের মাঝের স্বাভাবিক ফাক গুলো যখন কমে আসে তখন ই শুরু হয় ঘাড়ে ব্যথা। কারণ এই ফাকগুলোদিয়ে বের হয় আপনার স্নায়ু (nerve), আর হাড়ের ফাক কমেগেলে এই নার্ভের উপড় চাপ পরে এবং এইসকল নার্ভ যেসকল জায়গায় অনুভুতি বহন করে তারা সকলে বেদনার্ত হয়ে উঠে।

পুরুষের তুলনায় মহিলারা এই রোগে অনেক বেশী আক্রান্ত হয়। যে সকল পেশায় দীর্ঘক্ষন মাথা নীচু করে কাজকরতে হয় (স্বর্ণকার, ড্রাইভার, কম্পিউটার বিশেষজ্ঞ, সেলাইকারি ইত্যাদি) বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে তারাই এই রোগের ভুক্তভোগী।

এ রোগ হলে অবশ্যই চিকিৎসকের স্মরণাপন্ন হওয়া উচিত। তিনি পরীক্ষা করে সহজেই এই রোগটি নিশ্চিত করতে পারেন। তবে রোগের বিস্তৃতি এবং কারণ নির্ণয়ে ঘাড়ের এক্সরে এবং অনেক সময় এম,আর,আই (MRI) পরীক্ষা করার প্রয়োজন দেখা দিতে পারে। ঘাড়ের বিশ্রাম নেয়া এ রোগের প্রধান চিকিৎসা, সেই সাথে ব্যথার অসুধ (NSAID) সেবন, গরম সেক নেয়া, কখনো কখনো গলায় শক্ত কলার (cervical collar) ব্যাবহার এবং সেই সাথে ফিজিওথেরাপি (physiotherapy)নিলে এ রোগ থেকে নিস্তার মেলে। তবে অনেক সময় ব্যথার তীব্রতা বেশি হলে এবং অসুধে তা নিয়ন্ত্রন করা না গেলে সার্জারি বা অপারেশন ই এর একমাত্র চিকিৎসা হয়ে দাঁড়ায়।এ জন্য শুরুতেই এ রোগের চিকিৎসা করিয়ে নেয়া উত্তম। যেহেতু নির্দিষ্ট পেশাজীবিদের মাঝে এ রোগের প্রকোপ অনেক বেশী তাই এ রোগের ঝুকিতে (repetitive strain injury) থাকা পেশাজী্বিদের অবশ্যই কাজের ফাকে ফাকে ঘাড়ের বিশ্রাম নেয়া উচিৎ এবং ধীরে ধীরে ঘাড় চারপাশে ঘুড়িয়ে দৈনিক নিয়মিত ব্যায়াম করা উচিত।

শেয়ারবাজার/সা

আপনার মতামত দিন

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.