৪ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগে যাচ্ছে ২৭ কোম্পানি

investigation-630x286 copyশেয়ারবাজার রিপোর্ট: পুঁজিবাজারে উৎপাদনশীল খাতের ২৭ কোম্পানি উৎপাদন ও ব্যবসা বাড়াতে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। নিজস্ব অর্থায়ন, ব্যাংক ঋণ, রাইট ইস্যু, করপোরেট বন্ড এবং প্রেফারেন্স শেয়ার বিক্রির মাধ্যমে এ অর্থ ব্যবসা ও উৎপাদন বাড়াতে বিনিয়োগ করা হচ্ছে। চলতি ২০১৬ হিসাব বছরের প্রথম অর্ধে এ ২৭ কোম্পানি ব্যবসা বাড়াতে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও কোম্পানি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র মতে, বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেয়া ২৭ কোম্পানি হলো : জাহিন স্পিনিং, ওয়াটা কেমিক্যাল, ইউনাইটেড এয়ার, ইউনিক হোটেল, স্কয়ার টেক্সটাইল, সাইফ পাওয়ারটেক, সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট, রহিম টেক্সটাইল, প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল, প্রিমিয়ার সিমেন্ট, অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ, মতিন স্পিনিং, মালেক স্পিনিং, ইফাদ অটোস, হা-ওয়েল টেক্সটাইল, জিপিএইচ ইস্পাত, গোল্ডেন সন,গোল্ডেন হার্ভেস্ট, ফু-ওয়াং সিরামিকস, ড্যাফোডিল কম্পিউটার, সিএমসি কামাল, বিডি থাই, বিডি সার্ভিস, বিডি ল্যাম্পস, আমান ফিড, এসিআই,  এবং অ্যাকটিভ ফাইন। 

কোম্পানিগুলোর উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে এ প্রসঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, দেশের অর্থনীতির আকার দিন দিন বাড়ছে। তার সাথে উৎপাদনশীল খাতের পণ্যের চাহিদাও বাড়ছে। তাই কোম্পানিগুলো ব্যবসা ও উৎপাদন বাড়াতে আরও বিনিয়োগ করছে। এতে কোম্পানিগুলোর ব্যবসার আকার বাড়ার পাশাপাশি মুনাফাও বাড়বে। আর মুনাফা বাড়লে শেয়ারহোল্ডাররা আকর্ষণীয় ডিভিডেন্ড পাবেন।

কোন কোন কোম্পানি কিভাবে বিনিয়োগ করছে:

জাহিন স্পিনিং: পুঁজিবাজারে ১০ টাকা অভিহিত মূল্যে ৫ কোটি ৫০ লাখ শেয়ার ইস্যু (Non-Convertible Preference shares) করবে কোম্পানিটি। যার মাধ্যমে মোট ৫৫ কোটি টাকা সংগ্রহ করবে জাহিন স্পিনিং। এই টাকা কোম্পানিটি মূলধন বাড়ানোর পাশাপাশি ব্যবসা সম্প্রসারণে ব্যয় করবে।

ওয়াটা কেমিক্যাল: ডিবেঞ্চার ছেড়ে ৩৫ কোটি টাকা উত্তোলন করবে কোম্পানিটি।

৬ বছর মেয়াদি এ ডিবেঞ্চারের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে রিডেমেবল, নন-কনভার্টেবল, নন-কমিউলেটিভ এবং নন-পার্টিসিপেটিভ। এক বছর গ্রেস পিরিয়ড সহ ডিবেঞ্চারটি ৭ বছরে সম্পূর্ণ রিডেম্পশন (অবলুপ্ত) হবে। শধুমাত্র ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি) প্রাইভেট প্লেসমেন্টের মাধ্যমে এই ডিবেঞ্চারটি অর্থায়ন করবে। ডিবেঞ্চারটির প্রতি ইউনিটের অভিহিত মূল্য ১০ টাকা এবং মোট ডিবেঞ্চার সংখ্যা ৩ কোটি ৫০ লাখ।

এই ডিবেঞ্চার ইস্যুর মাধ্যমে ওয়াটা ক্যামিকেল অর্থ উত্তোলন করে দেশি ও বিদেশি মেশিনারিজ ও যন্ত্রাংশ ক্রয় করবে।

ইউনাইটেড এয়ার: বন্ড ইস্যুর মাধ্যমে ২২৪ কোটি টাকা সংগ্রহ করবে প্রতিষ্ঠানটি। বন্ডটির মেয়াদ হবে ৬ বছর।

এই বন্ডটি ইস্যুর মাধ্যমে উত্তোলিত অর্থ বিমান কেনার জন্য ডাউনপেমেন্ট, ঋণ পরিশোধ, সিভিল অ্যাভিয়েশনের ফি ও অন্যান্য দেনা পরিশোধের জন্য ব্যয় করবে কোম্পানিটি।

ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ বিডি লিমিটেডের এই বন্ডের প্রতি ইউনিটের অভিহিত মূল্য ১ কোটি টাকা। সুদের হার ১২ দশমিক ৫০ শতাংশ।

ইউনিক হোটেল: কোম্পানিটি ব্যবসা বাড়াতে একটি প্রজেক্ট বাস্তবায়ন করছে। এর জন্য প্রতিষ্ঠানটি জমি কেনা শুরু করেছে।

প্রয়োজনীয় জমি কিনতে এখন পর্যন্ত মোট ৩২ কোটি ৮৭ লাখ ২৪ হাজার ৮৪০ টাকা ব্যয় করেছে কোম্পানিটি।

স্কয়ার টেক্সটাইল: ব্যবসা সম্প্রসারণে ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কোম্পানিটি।

কোম্পানিটি জানায়, ব্যবসা সম্প্রসারণ এবং জমি কেনার জন্য ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে কোম্পানিটির উৎপাদন ও আয় বাড়বে বলে জানিয়েছে কোম্পানিটি।

সাইফ পাওয়ারটেক: সেবা ও নির্মাণ খাতের কোম্পানিটি রাইট শেয়ারের মাধ্যমে সংগৃহিত ৩৬৬ কোটি টাকার মধ্যে ১৯৫ কোটি টাকা ব্যবসা সম্প্রসারণে এবং বাকি ১৬৫ কোটি টাকা গাজীপুরের পূবাইলে প্রকল্পের আকার বৃদ্ধি করতে ব্যয় করবে।

সাইফ পাওয়ারটেক লিমিটেড সাম্প্রতিক সময়ে জেনারেটর, বিদ্যুতের সাবস্টেশন, ইলেকট্রনিক যন্ত্রাংশ ও বিদ্যুৎসামগ্রী আমদানি করে সংযোজন করছে। একই সঙ্গে সোলার হোম, সোলার পাওয়ার গ্রিড, সোলার সলিউশন, আইপিএস, ইউপিএসসহ বিভিন্ন ধরনের বৈদ্যুতিক সরঞ্জামাদি সংযোজন করে গত বছরের তুলনায় মুনাফা বেশি করেছে।

এছাড়া সাইফ প্লাস্টিক অ্যান্ড পলিমার ইন্ডাস্ট্রিজ নামে সাইফ পাওয়ারের একটি অঙ্গপ্রতিষ্ঠান রয়েছে, যার ৮০ শতাংশ শেয়ারের মালিক এ কোম্পানি। মূল ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য গত বছর চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ, আশুগঞ্জ সার কারখানার মতো বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্প্রতি কয়েকটি চুক্তি সম্পন্ন করেছে কো্ম্পানি।

সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট: গত ১৮ জানুয়ারি জমি কেনা ও ঋণ পরিশোধের জন্য রাইট শেয়ার ছেড়ে মূলধন বাড়ানোর অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

কোম্পানিটি ৩ কোটি ৪৩ লাখ ৫২ হাজার ৪৬৬টি সাধারণ শেয়ারের বিপরীতে ১R:৫ অনুপাতে (৫টি সাধারণ শেয়ারের বিপরীতে ১টি) রাইট শেয়ার ছেড়ে ৫১ কোটি ৫২ লাখ ৮৬ হাজার ৯৯০ টাকা সংগ্রহ করেছে। সংগৃহীত অর্থে জমি ক্রয় এবং মেয়াদী ঋণ পরিশোধ করবে সামিট এল্যায়েন্স পোর্ট।

রহিম টেক্সটাইল: বার্ষিক উৎপাদ ক্ষমতা ২৬৫.২০ লাখ ইয়ার্ড থেকে ৪৯৯.২০ লাখ ইয়ার্ডে উন্নীত করবে কোম্পানিটি।

কোম্পানিটি আধুনিকায়ন, পুন:বিন্যাস, সংস্কার ও সম্প্রসারণে (বিএমআরই) নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এর আগে গত ২০১০ সালের ৮ নভেম্বর অনুষ্ঠিত কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের সভায় যে বিএমআরই’র যে পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছিল সেটি বাতিল করে নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে কোম্পানিটি।

জানা যায়, এর আগে কোম্পানিটি ৩৫ কোটি টাকার বিএমআরই পরিকল্পনা গ্রহণ করে এবং এ বাবদ ১৬ কোটি ৮ লাখ টাকা ব্যয়ও করেছে। তবে অর্ধেক টাকা ব্যয় হওয়ার পর মাঝপথেই তা বাতিল করে নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ।

এদিকে নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ি কোম্পানিটি জমি ক্রয়, নতুন বিল্ডিং নির্মাণ, নতুন মেশিনারি ও যন্ত্রপাতি ফ্যাক্টরিতে স্থাপন করবে। আর এতে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৫৭ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। নতুন প্রকল্প বাস্তবায়নে কোম্পানিটি নিজস্ব তহবিল এবং ব্যাংক থেকে ঋণ গ্রহণের মাধ্যমে অর্থের যোগান দিবে। নতুন এ পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে উৎপাদিত পণ্যের গুণগত মান, কোম্পানির উৎপাদন ক্ষমতা বাড়বে বলে কোম্পানির পক্ষ থেকে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে। এরফলে কোম্পানির উৎপাদন ক্ষমতা ২৬৫.২০ লাখ ইয়ার্ড থেকে ৪৯৯.২০ লাখ ইয়ার্ডে উন্নীত হবে।

এদিকে আগের বিএমআরই বাস্তবায়নে ৫৯ লাখ ৩৮ হাজার মূল্যের পরিত্যক্ত পুরাতন প্ল্যান্ট ও মেশিনারি ধ্বংস করার প্রস্তাবও কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের সভায় গৃহীত হয়েছে।

প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল: বায়ো-রাসায়নিক বর্জ্য শোধনাগার থেকে জৈবিক বর্জ্য শোধনাগারে রূপান্তরের জন্য ইউরোপিয়ান কমিউনিটি থেকে ডিসচার্জ উইথ লামেলা প্যাকেজ ক্লালাফিয়ার নামে এ মেশিন আমদানি করবে কোম্পানিটি। যার মূল্য হবে ৪ লাখ ৪৫ হাজার ইউরো।

আর এ মেশিনারি ক্রয়ের জন্য পূবালী ব্যাংকের কাছ ঋণ নেয়া হচ্ছে বলে কোম্পানির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

এছাড়া ইলেক্ট্রিক্যাল লো ভোল্টেজ প্যানেল এন্ড বুসবার ট্রাংকিং সিস্টেম নামে এ মেশিন আমদানি করবে কোম্পানিটি। যার মূল্য হবে ৩ লাখ ২৭ হাজার মার্কিন ডলার। ব্যাংক ঋণ ও নিজস্ব অর্থে ব্যয় নির্বাহ করবে কোম্পানিটি।

কোম্পানিটি পূবালী ব্যাংক থেকে মেয়াদী ঋণ নিয়ে মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি করবে। আর নতুন যন্ত্রপাতির মাধ্যমে কোম্পানিটি ফেব্রিক প্রিন্টিংয়ের কাজ শুরু করবে। এর মাধ্যমে কোম্পানিটির বিদ্যামান উৎপাদন ক্ষমতা ও ব্যবসা সম্প্রসারণ হবে।

এই মেশিনের নাম রোটারি স্ক্রিন প্রিন্টিং অ্যান্ড স্যাম্পল প্রিন্টিং মেশিন। এটা অস্ট্রিয়ার তৈরী। এই মেশিন কিনতে ৭ লাখ ২১ হাজার ৪০ ইউরো ব্যয় হবে।

প্রিমিয়ার সিমেন্ট: সিমেন্ট খাতের এ কোম্পানিটি উৎপাদনক্ষমতা দ্বিগুণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

প্রিমিয়ার সিমেন্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রায় ৪০০ কোটি টাকা ব্যয়ে বড় ধরনের এ সম্প্রসারণ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে কোম্পানিটির দৈনিক উৎপাদনক্ষমতা আট হাজার মেট্রিক টন। সম্প্রসারণের পর এ উৎপাদনক্ষমতা বেড়ে দাঁড়াবে দৈনিক ১৬ হাজার মেট্রিক টন।

প্রকল্প ব্যয় সম্পর্কে বলা হয়েছে, ৪০০ কোটি টাকার মধ্যে ২০৮ কোটি ৭০ লাখ টাকা ব্যয় হবে মেশিনারিজ কেনার জন্য এবং বাকী ১৯১ কোটি ৩০ লাখ টাকা ব্যয় হবে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণে।

উৎপাদন সক্ষমতা দ্বিগুণ করা ও নতুন সম্প্রসারণের উদ্যোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে কোম্পানিটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আমিরুল হক বলেন, নতুন সম্প্রসারণ প্রকল্পটি হবে বিদ্যুৎসাশ্রয়ী আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ও পরিবেশবান্ধব। ২০১৮ সাল নাগাদ এ সম্প্রসারণ প্রকল্প শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে ব্যয় হবে ৪০০ কোটি টাকা। ব্যাংকঋণ ও নিজস্ব অর্থায়নে প্রকল্প ব্যয় নির্বাহ করা হবে।

সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে তিনি বলেন, গত বছর সিমেন্টের অভ্যন্তরীণ বাজার প্রবৃদ্ধি ছিল ২২ শতাংশ। এ প্রবৃদ্ধি ভবিষ্যতে আরও বাড়বে। দেশের ক্রমবর্ধমান এ বাজারে নিজেদের শক্ত ভিত তৈরির লক্ষ্যে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন প্রকল্পে যে প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে তাতে উৎপাদন খরচও কমবে।

অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ: উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত খাদ্য ও আনুষাঙ্গিক খাতের কোম্পানি অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদ। এ লক্ষ্যে বিস্কুটের নতুন লাইন স্থাপন করবে কোম্পানিটি। এর জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ১৩ কোটি ৩০ লাখ টাকা।

আর নতুন লাইন স্থাপনের মাধ্যমে বছরে ৭ হাজার ২০০ মেট্রিক টন উৎপাদন ক্ষমতা বাড়বে বলে কোম্পানির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

মতিন স্পিনিং: উৎপাদন ক্ষমতা বাড়াবে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বস্ত্র খাতের মতিন স্পিনিং মিলস লি:। এর জন্য প্রতিষ্ঠানটির ১৫১ কোটি ৮৮ লাখ টাকা ব্যয় হবে।

কোম্পানিটি জানায়, সিনথেটিক ইয়ার্ন ইউনিটের উৎপাদন প্রতিদিন ৭ টন থেকে ১৬ টন পর্যন্ত বাড়ানো হবে। এর জন্য কোম্পানিটির মোট ব্যয় হবে ১৫১ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। এর মধ্যে ৮৬ কোটি টাকা বা ১১.২০ মিলিয়ন ডলার এইচএসবিসি ব্যাংক থেকে ঋণ হিসেবে নেয়া হবে। বাকী ৬৫ কোটি ৮৮ লাখ টাকা কোম্পানির নিজস্ব অর্থায়ন থেকে আসবে।

এ প্রসঙ্গে কোম্পানি সচিব শাহ আলম মিয়া শেয়ারবাজারনিউজ ডটকমকে জানান, কোম্পানির উৎপাদন বাড়ানোর জন্য একটি প্রজেক্টের অনুমোদন হয়েছে। এর জন্য ১৫১ কোটি ৮৮ লাখ টাকা ব্যয় হবে। আর এ প্রজেক্ট বাস্তবায়ন হলে কোম্পানির আয় বাড়বে।

মালেক স্পিনিং: সাবসিডিয়ারি কোম্পানির সম্প্রসারণের লক্ষ্যে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কোম্পানিটি। পাশাপাশি বিএসআরই নং-১/২০১৬ বাস্তবায়ন করবে কোম্পানিটি। আর এ জন্য সর্বমোট ১৭৭ কোটি ৩৩ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে বিনিয়োগ করবে কোম্পানিটি।

কোম্পানিটি জানায়, পুনরায় স্ট্রাকচারিং সংস্কার, পুনর্গঠন, প্রতিস্থাপন, নতুন যন্ত্রপাতি ও উন্নত উৎপাদন সরঞ্জাম ইনস্টলেশন করবে মালেক স্পিনিং। আর এ লক্ষ্যে ৩২ কোটি ৭৫ লাখ টাকা বিনিয়োগ করবে কোম্পানিটি।

এদিকে সাবসিডিয়ারি কোম্পানি ছালেক টেক্সটাইল লিমিটেডের ফেব্রিক্স ইউনিটের সম্প্রসারণে ১৪৪ কোটি ৫৮ লাখ টাকা বিনিয়োগ করবে মালেক স্পিনিং। আর এসব টাকা ব্যাংক ও অন্যান্য উৎস থেকে ঋণ গ্রহণ করা হবে। তবে মালেক স্পিনিংয়ের নিজস্ব তহবিল থেকে কোন টাকা খরচ হবে না বলে জানানো হয়েছে।

ইফাদ অটোস: কৃষি যন্ত্র প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান এসকর্টস লিমিটেডের সোল ডিস্ট্রিবিউটর হিসেবে কাজ করার চুক্তি সই করেছে ইফাদ অটোস লিমিটেড।

কোম্পানিটি জানায়, দেশের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিটি এখন থেকে এসকর্টসের ট্রাক্টর সহ কৃষি যন্ত্রপাতি বাজারজাত করবে। এতে ইফাদ অটোস প্রথম বছরে প্রায় ২৫ কোটি টাকা আয় করবে। যা থেকে কোম্পানিটির আড়াই কোটি টাকা মুনাফা থাকবে। এছাড়া দ্বিতীয় বছরে কোম্পানিটির আয় ৬০ কোটি টাকায় দাড়াবে। যা থেকে আরো ৬ কোটি মুনাফা করবে ইফাদ অটোস।

এছাড়া প্রতিষ্ঠানটি আশোক লেল্যান্ডের গাড়ী অ্যাসেম্বলিং এর জন্য ধামরাইয়ে কারখানা নির্মাণ করছে। আগামী অক্টোবরের দিকে কাজ শেষ হবে। এতে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসা বাড়ার পাশাপাশি বার্ষিক মুনাফাও বৃদ্ধি পাবে বলে জানিয়েছেন কোম্পানিটির চেয়ারম্যান।

হা-ওয়েল টেক্সটাইল: কোম্পানিটি ব্যবসা সম্প্রসারণের প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এর জন্য জমিও কেনা শুরু করেছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে এখন পর্যন্ত কোম্পানিটি প্রায় দেড় কোটি টাকা ব্যয় করেছে।

জিপিএইচ ইস্পাত: রাইট ইস্যুর মাধ্যমে পুঁজিবাজার থেকে ২৬১ কোটি ৯৫ লাখ ৪০ হাজার টাকা সংগ্রহ করেছে। আর  উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধিতে এ অর্থ ব্যয় করা হবে কোম্পানির পক্ষ থেকে জানানো হয়ছে।

এ প্রসঙ্গে কোম্পানিটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক জানান, জিপিএইচ ইস্পাতে আমরা বিশ্বের সর্বোচ্চ প্রযুক্তি ব্যবহার করবো। আধুনিক প্রযুক্তি স্থাপনে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য প্রাইমেটালস টেকনোলজিসের সঙ্গে আমাদের চুক্তি হয়েছে। এই পদ্ধতি ব্যবহার করার ফলে আমাদের গ্যাস ও বিদ্যুৎ উভয়ই সাশ্রয়ী হবে। কর্মসংস্থান হবে প্রায় ৯ হাজার লোকের।

তিনি আরও জানান, আমাদের উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর এই প্রকল্পটির মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৭০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা দেশি-বিদেশি ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়া হবে; এর সুদের হার ৫-৬ শতাংশের মধ্যে থাকবে। আর বাকি অর্থ কোম্পানির নিজস্ব তহবিল, রাইট শেয়ারের মাধ্যমে এবং কোম্পানির উদ্যোক্তা পরিচালকদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা হচ্ছে।

কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, এই নতুন প্রকল্পে উৎপাদন শুরু হলে প্রতি বছর প্রায় ২৫০ কোটি টাকা সরকারি তহবিলে জমা দিতে পারবো। এর মধ্যে কর্পোরেট ট্যাক্স ৪০ কোটি টাকা, মূল্য সংযোজন কর বাবদ ৬০ কোটি টাকা, কাস্টমস ডিউটি ১৪০ কোটি টাকা এবং বাকি ১০ কোটি টাকা বিভিন্ন পোর্টের চার্জ হিসেবে দেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, আমাদের নতুন প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে এমএস বিলেটের বার্ষিক উৎপাদন ৮ লাখ ৪০ হাজার মেট্রিক টন বেড়ে ১০ লাখ ৮ হাজার মেট্রিক টনে দাঁড়াবে। একইসঙ্গে এমএস রডের বার্ষিক উৎপাদন ৬ লাখ ৪০ হাজার মেট্রিক টন বেড়ে ৭ লাখ ৬০ হাজার মেট্রিক টন উৎপাদন সম্ভব হবে। অর্থাৎ কোম্পানির বার্ষিক উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ৫ গুণ বাড়বে।

এদিকে ব্যবসা বাড়াতে স্থানীয় প্রস্তুতকারকদের কাছ থেকে অতিরিক্তি এমএস রড বিক্রয় করার সিদ্ধান্তও নিয়েছে কোম্পানিটি।

কোম্পানিটি জানায়, কোম্পানিটি বছরে ৬০ হাজার মেট্রিক টন তথা ৩০০ কোটি টাকার রড বিক্রির টার্গেট নির্ধারণ করেছে। আর এই বাড়তি বিক্রয় কোম্পানির নিজস্ব উৎপাদনের সাথে যোগ করা হবে।

আর এ বিক্রয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কর পরিশোধের পর বছরে প্রায় ৬ কোটি টাকার মুনাফা বাড়বে বলে কোম্পানির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

গোল্ডেন সন:  সহযোগী প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কোম্পানিটি। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সহযোগী প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৪ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে।

কোম্পানিটি জানায়, সহযোগী প্রতিষ্ঠান গোল্ডেন ইনফিনিটি লিমিটেডের ৩৯ লাখ ৯৯ হাজার ৬০০ শেয়ার ক্রয় করবে গোল্ডেন সন। যার প্রতিটি শেয়ারের অভিহিত মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ টাকা।

আর এ উল্লেখিত পরিমাণ শেয়ার ক্রয়ে মোট ৩ কোটি ৯৯ লাখ ৯৬ হাজার টাকা ব্যয় হবে বলে কোম্পানির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

গোল্ডেন হার্ভেস্ট: প্রতিষ্ঠানটি ব্যবসা বাড়াবে। এর জন্য পুঁজিবাজার থেকে অর্থ সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটি জানায়, নন-কনভার্টেবল সাবঅর্ডিনেটেড করপোরেট বন্ড ছেড়ে ৫০ কোটি টাকা সংগ্রহ করবে। এর জন্য বিশেষ সাধারন সভায় শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদনও নেওয়া হয়েছে। বিএসইসি’র অনুমোদন পেলেই অর্থ উত্তোলনের কার্যক্রম শুরু করবে কোম্পানিটি।

ফু-ওয়াং সিরামিকস: নতুন হাইড্রেলিক প্রেস আমদানি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত সিরামিকস খাতের কোম্পানি ফু-ওয়াং সিরামিকসের পরিচালনা পর্ষদ। এ লক্ষ্যে ফোসান হেংলিথাই মেশিনারি কোম্পানির সাথে চুক্তি সই করেছে কোম্পানিটি।

জানা যায়, চায়নাভিত্তিক মেশিনারি সরবরাহকারী কোম্পানি ফোসান হেংলিথাইয়ের কাছ থেকে নতুন হাইড্রেলিক প্রেস আমদানি করবে ফু-ওয়াং সিরামিকস। আর এ মেশিন আমদানি করতে ৩ লাখ ৫৬ হাজার ৯২০ মার্কিন ডলার খরচ হবে। নতুন আমদানি করা যন্ত্রপাতি গাজীপুরের কারখানাতে স্থাপন করবে কোম্পানিটি।

নতুন যন্ত্রপাতির মাধ্যমে ফু-ওয়াং সিরামিকসের প্রতিদিন প্রায় ৭ হাজার ৫০০ বর্গফুট টাইলস উৎপাদন বাড়বে বলে জানানো হয়েছে।

ড্যাফোডিল কম্পিউটার: বাংলাদেশের বাজারে আন্তর্জাতিক মোবাইল ব্যান্ড লিফোন বিক্রি করবে কোম্পানিটি।

জানা যায়, বাংলাদেশে লিফোনের পরিবেশক হিসেবে কাজ করবে ড্যাফোডিল কম্পিউটার্স। এ জন্য ২০১৬ সালে মোট ২ লাখ ২২ হাজার ৫০০টি মোবাইল বা ৪৩ কোটি ৭৫ লাখ ২৪ হাজার টাকা টার্গের পূরণ করতে হবে কোম্পানিটিকে।

এ টার্গেট পূরণ হলে ড্যাফোডিল কম্পিউটার্সের ৩ কোটি ২৮ লাখ ১৪ হাজার ৩০০টাকা মুনাফা হবে বলে জানানো হয়েছে।

সিএমসি কামাল: বন্ড ইস্যুর মাধ্যমে ৪০০ কোটি টাকা সংগ্রহ করবে কোম্পানিটি।

সিএমসি কামাল প্রাইভেট-প্লেসমেন্টের মাধ্যমে বিএমআরই প্রকল্পের জন্য বন্ড ইস্যু করবে।

বিডি থাই: রাইট শেয়ার ইস্যুর মাধ্যমে কোম্পানিটি ৫২ কোটি ৩৩ লাখ ৫০ হাজার ২৮০ টাকা সংগ্রহ করবে।

উত্তোলিত টাকা দিয়ে কোম্পানিটি উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি ও আংশিক ঋণ পরিশোধে ব্যয় করবে।

বিডি সার্ভিস: প্রতিষ্ঠানটি পাঁচ তারকা রূপসী বাংলা হোটেল পুনর্গঠনের কাজ করছে। আগামী ডিসেম্বর নাগাদ কাজ শেষ হবে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। ২০১৭ সাল থেকে হোটেলটি ‘ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকা’ নামে যাত্রা শুরু করবে বলে আশা করছেন প্রতিষ্ঠানটির উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ।

বিডি ল্যাম্পস: এলইডি লাইট উৎপাদনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কোম্পানিটি।

কোম্পানিটি জানায়, রাজধানীর মহাখালিতে অবস্থিত কোম্পানির ফ্যাক্টরিতে এলইডি লাইট তৈরী করা হবে। লাইট তৈরীতে ব্যবহৃত বিভিন্ন যন্ত্রাংশ সন্নিবেশের মাধ্যমে কোম্পানি এটি তৈরী করা হবে। ইতোমধ্যে এলইডি লাইট উৎপাদন শুরু করেছে কোম্পানিটি। লাইট তৈরীর ফলে বার্ষিক বিক্রির পরিমাণ ৪ শতাংশ বাড়বে বলে কোম্পানির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

নতুন এ প্রোডাকশন লাইন তৈরীতে ব্যয় হয়েছে ১ কোটি ২০ লাখ টাকা। কোম্পানির নিজস্ব তহবিল এবং ব্যাংক ঋণের মাধ্যমে এ ব্যয় মেটানো হয়েছে।

আমান ফিড: সহযোগী প্রতিষ্ঠান একিন ফিড লিমিটেডে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কোম্পানিটি।

কোম্পানিটি জানায়, আমান ফিডের সাবসিডিয়ারি একিন ফিডে ২ কোটি ৪৫ লাখ টাকা বিনিয়োগ করবে আমান ফিড। এ লক্ষ্যে একিন ফিডের ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের ২৪ লাখ ৫০ হাজার শেয়ার ক্রয় করবে কোম্পানিটি। এর ফলে একিন ফিড লিমিটেড উদ্যোক্তা শেয়ারহোল্ডার হিসেবে আমান ফিডের ৪৯ শতাংশ শেয়ারের মালিক হবে।

এদিকে, আকিন ফিড লিমিটেড একটি পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি। এই কোম্পানির প্রধান ব্যবসা মাছের খাদ্য উৎপাদন। আর প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদন ব্যয় ধরা হয়েছে ৯০ কোটি টাকা। এতে প্রতি বছর কোম্পানিটির ৬০ হাজার মেট্রিক টন উৎপাদন হবে বলে জানানো হয়েছে।

আমান ফিড খাবারের বাড়তি চাহিদা পূরণে বেঙ্গল ফিড অ্যান্ড ফিশারিজ মিলকে কাঁচামাল প্রাদন করবে। এছাড়া বিক্রয়যোগ্য পন্য প্রদান করবে ব্যাঙ্গল ফিড। এ লক্ষ্যে বেঙ্গল ফিড অ্যান্ড ফিশারিজ লিমিটেডের সাথে চুক্তি করেছে আমান ফিড।

বেঙ্গল ফিড প্রতি মাসে সর্বোচ্চ ৭০০ মেট্রিক টন পণ্য সরবরাহ করবে। এতে আমান ফিডের পণ্য বিক্রির টার্নওভার ৮ হাজার ৪০০ মেট্রিক টনে উন্নীত হবে এবং বিক্রয় বৃদ্ধি পাবে প্রায় ৩৫ কোটি টাকা। এতে আমান ফিডের প্রায় ২ কোটি ৮০ লাখ টাকা মুনাফা হবে। এক বছর মেয়াদের এ চুক্তির কার্যক্রম গত ১১ মার্চ থেকে শুরু হয়েছে।

মাছের ভাসমান খাদ্য উৎপাদন ও সরবরাহে তামিম এগ্রো লিমিটেডের সঙ্গেও চুক্তির করেছে কোম্পানিটি। আমান ফিড মাছের খাদ্য উৎপাদনে ব্যবহৃত কাঁচামাল সরবরাহ করবে এবং তামিম এগ্রো লিমিটেড খাদ্য উৎপাদন করে আমান ফিডকে সরবরাহ করবে। আর আমান ফিড তাদের বিপণন চ্যানেল ব্যবহার করে বাংলাদেশজুড়ে এ খাদ্য বিক্রি করবে। গত ১ মার্চ থেকে আমান ফিডের নিকট উৎপাদিত খাদ্য সরবরাহ করছে তামিম এগ্রো। প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৮০০ মেট্রিকটন খাবার উৎপাদন করবে এবং টানা ৯ মাস তা সরবরাহ করবে তামিম এগ্রো।

এসিআই: দেশে প্রখ্যাত মোটরবাইক ব্র্যান্ড ইয়ামাহা বিক্রির দায়িত্ব পেয়েছে তালিকাভুক্ত এসিআই লিমিটেডের সাবসিডিয়ারি কোম্পানি এসিআই মোটরস। তিন বছরের চুক্তিতে ভারতের ইয়ামাহা মোটরসের সাথে এসিআই মোটরসের এ চুক্তি হয়েছে।

এসিআই লিমিটেড, এসিআই মোটরসের ৬৬.৫০ শতাংশ শেয়ারের মালিকানায় রয়েছে।

চুক্তি অনুযায়ী, বাংলাদেশে আগামী তিন বছর ইয়ামাহা ব্র্যান্ডের সব ধরনের মোটরসাইকেল ও পার্টস সামগ্রি বিক্রির দায়িত্ব থাকবে এসিআই মোটরসের। প্রাথমিকভাবে এ চুক্তি তিন বছরের হলেও পরবর্তিতে মেয়াদ বাড়তে পারে বলে জানা গেছে।

বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি দেশব্যাপি মটরসাইকেল এবং এর খুচরা যন্ত্রাংশ আমদানি এবং সরবরাহের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো প্রস্তুত করছে। পাশাপাশি আগস্ট, ২০১৬ হতে ব্যবসায়িক কর্মকান্ড শুরুর লক্ষ দিয়ে ক্রেতা পর্যায়ে সরবরাহ পরবর্তী সার্ভিস সেবা প্রদানের জন্য অবকাঠামো তৈরি করেছে।

দেশের বিভিন্ন জেলায় ডিলার এবং বিক্রয়কেন্দ্র স্থাপন ছাড়াও এসিআই মটরস লিমিটেড ক্রেতা পর্যায়ে সহজে ইয়ামাহা সার্ভিস ও জেনুইন স্পেয়ার পার্টস সহজলভ্য করার লক্ষে দেশের বিভিন্ন স্থানে সেবাকেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।

দেশে ১০০ সিসি হতে ১৫৫ সিসি পর্যন্ত সকল শ্রেনীর মটরসাইকেল বিপনন করার পরিকল্পনা রয়েছে কোম্পানিটির।

অ্যাকটিভ ফাইন: ক্যান্সারবিরোধী ওষুধ উৎপাদনে ফরমুলেশন্স প্লান্ট স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কোম্পানিটি। এছাড়া কোম্পানিটি সেফালোসপরিন এন্টিবায়োটিক ও তৎসম্পর্কিত কেমিক্যাল উৎপাদন করবে।

জানা যায়, খুলনার বটিয়াঘাটার কৈয়া বাজার উত্তর শৈলমারিতে ৯০ কোটি টাকা ব্যয়ে ক্যান্সারবিরোধী ফরমুলেশন্স প্লান্ট স্থাপন করা হবে। কোম্পানির নিজস্ব তহবিল এবং ব্যাংক লোনের মাধ্যমে এ প্লান্ট স্থাপন করা হবে। প্লান্ট স্থাপনের ফলে কোম্পানির বার্ষিক টার্নওভার ৬ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ৮ কোটি টাকায় উন্নীত হবে।

শেয়ারবাজারনিউজ/আ/ম.সা

আপনার মন্তব্য

*

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Top