প্রকল্প এক কোম্পানির, দর বাড়ছে অন্য তিন কোম্পানির

sugarশেয়ারজার রিপোর্ট: লোকসানের ভারে ন্যুজ, আলোচনার বাইরে থাকা চিনিকলগুলো হঠাৎ করেই যেন জেগে উঠেছে। চলতি বছরের ১৮ জুলাই থেকে কোম্পানিগুলোর শেয়ারদরে হঠাৎ করেই আগুন লেগেছে। একনেকে ঠাকুরগাঁও চিনিকলের উৎপাদন বাড়ানোর প্রকল্প অনুমোদন হলেও দর বাড়ছে শ্যামপুর সুগার মিলস, ঝিল-বাংলা সুগার মিলস ও রেনউইক যজ্ঞেশ্বরের। বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের পুঁজিবাজারে চিনিকলগুলোর দর বাড়ার কারণ গুজব।

সম্প্রতি জাতীয় অর্থনৈতিক নির্বাহী কমিটি (একনেক) ঠাকুরগাঁও সুগার মিলসের উৎপাদন বাড়ানোর ও নর্থ-বেঙ্গল সুগার মিলসের কো-জেনারেশন পদ্ধতিতে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সুগার রিফাইনারি স্থাপন শীর্ষক প্রকল্পটি অনুমোদন করে। পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোনো চিনি সংশ্লিষ্ট কোম্পানির এ ধরনের কোনো প্রকল্প না থাকলেও টানা দর বাড়ছে কোম্পানিগুলোর শেয়ারের। এ প্রসঙ্গে ঝিল বাংলা সুগার মিলসের কোম্পানি সচিব আফরোজা ইসলাম শেয়ারবাজারনিউজ ডট কমকে বলেন, ‘একনেকে ঝিল বাংলা সুগারের কোনো প্রকল্প অনুমোদন হয়নি। এমনকি এমন কোনো প্রস্তাবনা একনেকে অতি শিগগিরই উঠবে এমন কোনো তথ্যও আমার কাছে নেই। অথচ কারণ ছাড়াই কোম্পানির শেয়ারদর বাড়ছে। বিনিয়োগকারীদের এ ব্যাপারে আরো নিশ্চিত হয়ে বিনিয়োগ করা উচিৎ’। এদিকে চিনি শিল্প কর্পোরেশনের কোম্পানি সচিব জিবান নাহার বলেন, ‘ঠাকুরগাঁওয়ের সম্প্রসারণ প্রকল্পটিকে টেস্ট ট্রায়াল হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এ প্রকল্পটি সফল হলে পরবর্তিতে লোকসানে থাকা চিনিকলগুলোকে একইভাবে আধুনিকায়ন করে মুনাফায় নিয়ে আসার ব্যাপারটি বিবেচনা করা হবে। কিন্তু এখন পর্যন্ত এমন কোনো প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়নি’। 

সংশ্লিষ্টসূত্রে জানা যায়, ২২ আগষ্টের একনেক সভায় উৎপাদন বহুমুখীকরণের মাধ্যমে ঠাকুরগাঁও চিনিকলটিকে লাভজনক করতে চিনিকলের সাথে কো-জেনারেশন, সুগার রিফাইনারী, ডিস্টিলারী, বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট এবং বায়োকম্পোষ্ট প্ল্যান্ট স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। পুরাতন যন্ত্রপাতি প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে ঠাকুরগাঁও চিনিকলের আধুনিকায়ন ও সুষমকরণ,চিনিকলের আখ মাড়াই ও চিনি উৎপাদন ক্ষমতা কাঙ্খিত পর্যায়ে বহাল রাখা,সুগার রিফাইনারী স্থাপন করে আমদানীতব্য ‘র’ সুগার থেকে হোয়াইট সুগার উৎপাদন করা,সুগার বিট থেকে পরীক্ষামূলকভাবে চিনি উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সংযোজন করা,ডিস্টিলারী স্থাপনপূর্বক মোলাসেস হতে বিভিন্ন প্রকার এলকোহল উৎপাদন করা এবং কো-জেনারেশন পদ্ধতিতে ৬ মে:ও: বিদ্যুৎ উৎপাদনপূর্বক মিলের নিজস্ব প্রয়োজনে ৩ মে:ও: ব্যবহার করে অতিরিক্ত ৩ মে:ও: বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রীডে সরবরাহ করা।

যন্ত্রপাতির আধুনিকায়নের প্রশ্নে একমাত্র প্রকৌশল সংশ্লিষ্ট রেনউইক যজ্ঞেশ্বরের ব্যবসা সম্প্রসারিত হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। যেটাকেও নিশ্চিত নয় বলে মন্তব্য করছেন সংশ্লিষ্টরা। অন্য দুটি কোম্পানির ব্যবসা পরিবর্তন হওয়ার কোনো সম্ভবনা নেই বললেই চলে। এমনকি নতুন যন্ত্রপাতির অধিকাংশই রেনউইক যজ্ঞেশ্বরও আমদানী করে না। ফলে কোনো কারণ ছাড়াই তিন চিনি কোম্পানির টানা দর বাড়ছে বলে মনে করছেন চিনিখাত ও পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরা।

নতুন কোনো প্রস্তবনা দেওয়া হচ্ছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে ঝিল বাংলা সুগার মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো: আল আমীন বলেন, ‘শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ঝিলবাংলা এবং শ্যামপুর সুগারের ভাগ্য পরিবর্তনে কোন সিদ্ধান্ত আসেনি। আমার জানামতে, সার্বিক উন্নয়নের স্বার্থে বিভিন্ন খাতে ব্যায়ের জন্য ঠাকুরগাঁও সুগার মিলসকে সরকার ৪১১ কোটি ১০ লাখ টাকা বরাদ্ধ দিয়েছে। পরবর্তি সময়ে অন্য প্রকল্পগুলোতেও এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে। তবে এ প্রসঙ্গতি নিশ্চিত নয়’। তিনি বলেন, ‘এরই ধারাবাহিকতায় আমাদের ঝিল বাংলাকে লোকসানী থেকে লাভজনক করতে এবং অর্থ বরাদ্ধ পেতে আমরা আবেদন প্রস্তুতির কাজ করছি।

গত ১৮ জুলাই থেকে এ পর্যন্ত শ্যামপুর সুগারের শেয়ারদর বেড়েছে ৬.৫০ টাকা বা ৯৫.৫৯ শতাংশ। একই ভাবে ঝিল বাংলার দর বেড়েছে ৯.১০ টাকা বা ১০১ শতাংশ এবং রেনউইক যজ্ঞেশ্বরের ৪৪৯.৯০ টাকা ও ১৫৩.২৪ শতাংশ। উল্লেখ্য, দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত ১৫টি চিনিকলের সবগুলোই রয়েছে লোকসানে। শুধু ২০১৩-১৪ অর্থবছরেই এই চিনিকলগুলো লোকসান দিয়েছে ৫২৮ কোটি ২৭ লাখ ৩৩ হাজার টাকা। বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের আওতাধীন এই ১৫টি চিনিকলের অধিকাংশের অর্থনৈতিক আয়ুষ্কালও শেষ হয়েছে অনেক আগেই।

শেয়ারবাজারনিউজ/রু/ওহ

আপনার মন্তব্য

Top