তিতাসের প্রস্তাব নাকচ

titas-gasশেয়ারবাজার রিপোর্ট: গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (টিজিটিডিসিএল) প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) কারিগরি মূল্যায়ন কমিটি।

কমিটি তাদের মূল্যায়নে বলেছে, বর্তমান মূল্যহার অনুযায়ী কোম্পানি লাভজনক অবস্থানে রয়েছে। এ মূল্যহারে আগামী অর্থবছর কোম্পানি পরিচালনায় কোনো বাড়তি অর্থের প্রয়োজন নেই। বরং ২০১৬-১৭ অর্থবছর খরচ বাদ দিয়ে আরো ৩৫৯ কোটি ৬৩ লাখ টাকা বাড়তি থাকবে।
গতকাল রাজধানীর টিসিবি ভবন মিলনায়তনে গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে তিতাসের প্রস্তাবের ওপর গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এতে আবাসিকে দুই চুলার ক্ষেত্রে গ্যাসের দাম ৬৫০ থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ২০০ ও এক চুলায় ৬০০ থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ১০০ টাকা প্রস্তাব করা হয়। শিল্প-কারখানার ক্যাপটিভ পাওয়ারে প্রতি ঘনমিটার গ্যাসের দাম ৮ টাকা ৩৬ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ১৯ টাকা ২৬ পয়সা ও যানবাহনের সিএনজি ২৭ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪৯ টাকা ৫০ পয়সা প্রস্তাব করা হয়। এছাড়া বিদ্যুতে প্রতি ঘনমিটার গ্যাসের দাম ২ টাকা ৮২ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৪ টাকা ৬০ পয়সা ও সার কারখানায় ২ টাকা ৫৮ পয়সার স্থলে ৪ টাকা ৪১ পয়সা প্রস্তাব করে তিতাস।

প্রস্তাব মূল্যায়ন করে বিইআরসির কারিগরি মূল্যায়ন কমিটির (টিইসি) সুপারিশে বলা হয়, গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি লিমিটেডের (জিটিসিএল) প্রতি ঘনমিটারের সঞ্চালন মাশুল বাবদ দশমিক ২৯৫৬ টাকা খরচ মিটিয়ে পরিচালনার জন্য ২০১৬-১৭ অর্থবছরে তিতাসের প্রয়োজন হবে ৭১৭ কোটি ৭০ লাখ ৫০ হাজার টাকা। আর চলতি অর্থবছর পরিচালন বাবদ রাজস্ব আহরণ হবে ১ হাজার ৭৭ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। অর্থাত্ বর্তমান মূল্যহারে গ্যাস বিক্রি করেও কোম্পানির উদ্বৃত্ত রাজস্ব থাকবে ৩৫৯ কোটি ৬৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এ অবস্থায় তিতাস গ্যাসের বিতরণ মাশুল বাড়ানোর প্রয়োজন নেই।

বিইআরসির মূল্যায়নে বলা হয়, চলতি অর্থবছরে খরচ মিটিয়ে পরিচালনার জন্য তিতাস গ্যাস কোম্পানির রাজস্ব চাহিদা ঘনমিটারপ্রতি দশমিক ৪১৮৫ টাকা। এর বিপরীতে কোম্পানিটির বিদ্যমান আয় ঘনমিটারপ্রতি দশমিক ৬২৮৩ টাকা। এর মধ্যে ঘনমিটারপ্রতি দশমিক ২৩১৫ টাকা আসবে বিতরণ মাশুল থেকে। অবশিষ্ট দশমিক ৩৯৬৮ টাকা অর্জন হবে অন্যান্য আয় (পরিচালন আয়, বিবিধ আয়, সুদ আয়, গ্যাস সঞ্চালন মাশুল ও তাপনমূল্য) থেকে। ২০১৬-১৭ অর্থবছর রাজস্ব চাহিদা মেটাতে তিতাসের বিতরণ মাশুল প্রয়োজন ঘনমিটারপ্রতি দশমিক শূন্য ২১৮ টাকা। অথচ বর্তমান বিতরণ মাশুলই তার চেয়ে বেশি, দশমিক ২৩১৫ টাকা।

কমিশনের চেয়ারম্যান এ আর খানের পরিচালনায় শুনানিতে কমিশনের সদস্য মাকসুদুল হক ও রহমান মুর্শেদ উপস্থিত ছিলেন। শুনানিতে অংশ নেন কনজিউমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) উপদেষ্টা জ্বালানি বিশেষজ্ঞ এম শামসুল আলম, প্রকৌশলী অধ্যাপক ড. নুরুল ইসলাম, বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সভাপতি তপন চৌধুরী, রাজনীতিবিদ রুহিন হোসেন প্রিন্স, জোনায়েদ সাকি, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের ব্রোকার অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক মোস্তফা সাদেক।

নুরুল ইসলাম বলেন, গ্যাসের দাম বাড়ানো যেতে পারে। যারা গ্যাস পাচ্ছে না, যারা লাকড়ি দিয়ে রান্না করছে, তাদের মাসে খরচ হয় গড়ে ১ হাজার টাকা। সে হিসাবে গ্যাসের দাম ১ হাজার ২০০ টাকা করা যেতে পারে। ক্যাপটিভ বিদ্যুতের ক্ষেত্রে কো-জেনারেশন করা যেতে পারে। তবে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে গ্রিডের বিদ্যুৎ।

বিটিএমএ সভাপতি তপন চৌধুরী বলেন, তিতাসের অনিয়ম-দুর্নীতি ও সিস্টেম লসের তথ্য বিভিন্ন মাধ্যমে প্রকাশ হয়েছে। এখনো এটি বিদ্যমান। দুর্নীতি ও সিস্টেম লসের জন্য অন্য প্রতিষ্ঠানকে ভুক্তভোগী করার প্রয়োজন নেই।

শেয়ারবাজারনিউজ/আ

আপনার মন্তব্য

*

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Top