অভিন্ন ফেসভ্যালু: একটি ঘোষণায় স্বচ্ছতার আরেক ধাপ এগিয়ে যাবে পুঁজিবাজার

Editorialপুঁজিবাজার শতভাগ অভিন্ন ফেসভ্যালুর উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল আরো ৫ বছর আগে। উদ্দেশ্য ছিল ফেসভ্যালু ইস্যুতে যেনো কোনো কারসাজির ঘটনা না ঘটে। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) বেঁধে দেয়া সময়ের মধ্যে সবগুলো কোম্পানি অভিন্ন ফেসভ্যালুতে আসলেও আইসিবি, জনতা ইন্স্যুরেন্স ও বিএসসি তাদের শেয়ারের ফেসভ্যালু ১০ টাকা করতে পারেনি।
যদিও পরবর্তীতে নানা জটিলতার অবসান ঘটিয়ে আইসিবি এবং জনতা ইন্স্যুরেন্স স্প্লিট করে তাদের শেয়ারের ফেসভ্যালু ১০০ টাকা থেকে নামিয়ে ১০ টাকায় এনেছে। কিন্তু বিএসসি’র শেয়ারের ফেসভ্যালু ১০০ টাকাতেই রয়ে গেছে। তবে সম্প্রতি বিএসসি’র শেয়ার স্প্লিট করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এখন শুধুমাত্র কোম্পানির পক্ষ থেকে একটি ঘোষণা দিয়ে রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করলেই শতভাগ স্প্লিটের আওতায় পুঁজিবাজার চলে আসবে। এতে স্বচ্ছতার দিক দিয়ে পুঁজিবাজার আরো এক ধাপ এগিয়ে যাবে।

ফেসভ্যালু ইস্যুতে কারসাজি রোধ করতে ২০১১ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর তালিকাভুক্ত প্রতিটি কোম্পানিকে অভিন্ন ফেসভ্যালু (১০ টাকা) করার নির্দেশ দেয় বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এক্ষেত্রে ডেডলাইন হিসেবে ৩০ নভেম্বর ২০১১ পর্যন্ত বেঁধে দেয়া হয়। সে সময় তালিকাভুক্ত মূল মার্কেটের সব কোম্পানি এমনকি ওভার দ্য কাউন্টার (ওটিসি) মার্কেটের বেশকিছু কোম্পানি ঐ সময়ের স্প্লিট সম্পন্ন করে। কিন্তু আইসিবি,বিএসসি ও জনতা ইন্স্যুরেন্স বেঁধে দেয়া সময়ের মধ্যে স্প্লিট করতে পারেনি। অথচ কোম্পানিগুলোর স্প্লিট করার ঘোষণা দিয়েছিল। ২০১১ সালের ১৬ অক্টোবর আইসিবি ফেসভ্যালু ১০০ টাকা থেকে ১০ টাকা ও মার্কেট লট ৫০টি থেকে ৫০০টি করার ঘোষণা দেয়। এ সংক্রান্ত বিশেষ সাধারণ সভা (ইজিএম) ১৭ নভেম্বর নির্ধারণ করা হয়। আইসিবির মতো বিএসসি ও জনতা ইন্স্যুরেন্সও একইভাবে ঘোষণা দেয়। পরবর্তীতে প্রতিটি কোম্পানির অভিন্ন ফেসভ্যালু হওয়ার পর ১ ডিসেম্বর ২০১১ তারিখে কোম্পানিগুলো স্প্লিট করতে পারেনি বলে জানিয়ে দেয়।
অথচ এই ফেসভ্যালু পরিবর্তনের ঘোষণাকে কেন্দ্র করে কারসাজি করে অর্থ হাতিয়ে নেয়া হয়েছিল বলে বহুল আলোচিত তদন্ত প্রতিবেদনেও উল্লেখ করা হয়। উল্লেখিত তিন কোম্পানির ফেসভ্যালু পরিবর্তনের ঘোষণায়ও শেয়ার দরে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ঘটে।
পুঁজিবাজারের ইতিহাসে যতরকম কারসাজি করে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কষ্টার্জিত টাকা লুটপাট করা হয়েছে তারমধ্যে অন্যতম হলো ফেসভ্যালু পরিবর্তনকে ইস্যূ করে। ফেসভ্যালু পরিবর্তনের সুযোগ নিয়ে কৃত্রিমভাবে শেয়ারের দর বাড়ানো হয়েছে। শেয়ার মূল্য বিভাজনের কারণে কোনো কোনো ট্রেডার নিজেদের মধ্যে বাল্ক ট্রানজেকশনের মাধ্যমে অতি সহজেই কৃত্রিমভাবে মূল্য বৃদ্ধি করেন। ফলে শেয়ারের বাজার মূল্য বেড়ে যায় এবং সে সুযোগে কারসাজির হোতারা শেয়ার বিক্রি করে বেরিয়ে আসেন। এক্ষেত্রে কোম্পানির পরিচালকদের সঙ্গে সিন্ডিকেট করে ১০০ টাকার শেয়ার ১০ টাকায় নামিয়ে এনে দর বাড়ানো হয়। ১০০ টাকার শেয়ার ২ হাজার টাকা হলে অতিমূল্যায়িত মনে হয়। কিন্তু ওই শেয়ার ১০ টাকায় নামিয়ে আনলে ২০০ টাকা হলে অতিমূল্যায়ন মনে হয় না। এভাবে সিন্ডিকেট করে দর বাড়িয়ে শেয়ার বিক্রি করা হয়েছে। এ কারণে প্রতিটি কোম্পানির ফেসভ্যালু অভিন্ন করার নির্দেশ দিয়েছিল নিয়ন্ত্রক সংস্থা। কিন্তু সে নির্দেশ দেয়ার দুই বছর পর আইসিবি ও জনতা ইন্স্যুরেন্স তাদের শেয়ার স্প্লিট করে। কিন্তু এখনো পুঁজিবাজারে শতভাগ স্প্লিটের পথে বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বিএসসি’র শেয়ার। সম্প্রতি এ কোম্পানির শেয়ার স্প্লিট করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আর স্প্লিটের ঘোষণা পুঁজিবাজারে দেয়ার পাশাপাশি কোম্পানিটি একটি রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করবে। আর এর মাধ্যমেই পুঁজিবাজারে শতভাগ অভিন্ন ফেসভ্যালুর পরিবেশ সৃষ্টি হবে।

আপনার মন্তব্য

*

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Top