ব্যবসা বাড়ায় উৎপাদন বাড়ছে সিমেন্ট খাতে

cementশেয়ারবাজার রিপোর্ট: দেশে আবাসন ব্যবসায় মন্দা সত্ত্বেও সিমেন্ট খাতে ব্যবসা বেড়েছে। এর জন্য সিমেন্ট উৎপাদন আরও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে উদ্যোক্তারা।

বাংলাদেশ সিমেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের একাধিক নেতা এ প্রসঙ্গে শেয়ারবাজারনিউজ ডটকমকে বলেন, মূলত বাড়তি গ্রামীণ চাহিদা ও সরকারের উন্নয়ন প্রকল্পে ভর করে সুদিন এসেছে দেশের সিমেন্ট খাতে। চাহিদা ভালো থাকায় সিমেন্ট খাতের বেশির ভাগ কারখানা এখন তাদের উৎপাদনক্ষমতার বড় অংশ ব্যবহার করতে পারছে। অন্যদিকে ভবিষ্যৎ বাজারকে মাথায় রেখে তারা বড় ধরনের সম্প্রসারণেও যাচ্ছে।

বর্তমান উৎপাদন প্রসঙ্গে তারা বলেন, এখন যে উৎপাদনক্ষমতা ব্যবহৃত হচ্ছে, তা-ই সর্বোচ্চ। গ্যাস-বিদ্যুতের অভাব, যন্ত্রপাতি পুরোনো হয়ে যাওয়াসহ নানা কারণে বাকি উৎপাদনক্ষমতা ব্যবহার করা সম্ভব নয়। ভবিষ্যতে বাড়তি চাহিদা পূরণে বেশির ভাগ কারখানা সম্প্রসারণে যাচ্ছে।

এ খাতের উদ্যোক্তারা জানান, উৎপাদনক্ষমতার সম্প্রসারণে যেসব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তার কাজ বছর দুয়েকের মধ্যে শেষ হবে। এতে নতুন বিনিয়োগ হবে প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকা। এর ফলে সিমেন্ট উৎপাদনক্ষমতা এখনকার চেয়ে প্রায় ৫০ শতাংশ বাড়বে।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বহুজাতিক কোম্পানি লাফার্জ সুরমা সিমেন্টের পরিচালক ও প্রধান অর্থ কর্মকর্তা মাসুদ খান শেয়ারবাজারনিউজ ডটকমকে এ প্রসঙ্গে বলেন, মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) বৃদ্ধির সঙ্গে সিমেন্টের চাহিদা বৃদ্ধির একটি সম্পর্ক রয়েছে। তাই জিডিপি প্রবৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে সিমেন্টের চাহিদাও বাড়বে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে সিমেন্টের যে ব্যবহার, তার ৬০ শতাংশই ব্যবহৃত হয় গ্রাম পর্যায়ে ব্যক্তিগত বাড়িঘর নির্মাণের কাজে। তবে ভবিষ্যতে দেশের বড় শহরে যোগাযোগ অবকাঠামো বাড়বে। তাই আগামী কয়েক বছরে সিমেন্টের চাহিদা বাড়ার বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে।

সিমেন্ট কোম্পানির বাজার সমীক্ষা থেকে থেকে জানা যায়, বর্তমান দেশের সিমেন্ট বাজারের সবচেয়ে বড় অংশ শাহ সিমেন্টের দখলে। তাদের দখলে বাজারের ১৩.৯৯ শতাংশ। এছাড়া পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর মধ্যে হাইডেলবার্গ ৭.০৫ শতাংশ, লাফার্জ সুরমা ৬.৮৭ শতাংশ, এম আই ৬.৫৮ শতাংশ, প্রিমিয়ার ৬.৫৯ শতাংশ। এছাড়া হোলসিম সিমেন্ট ৪.৮৫ শতাংশ বাজার দখল করে আছে।

এছাড়া সিমেন্ট বাজারে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত মেঘনা সিমেন্ট, আরামিট সিমেন্ট ও কনফিডেন্স সিমেন্টের অবদান সামান্য। তবে প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের ব্যবসা বাড়াতে উদ্যোগ গহণ করেছে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ সূত্রে জানা গেছে, এম আই এবং প্রিমিয়ার সিমেন্ট উৎপাদনক্ষমতা সম্প্রসারণ করছে। সিমেন্ট উৎপাদন সমিতি সূত্রে জানা যায়, দেশের বড় সিমেন্ট ফ্যাক্টরিগুলো উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য নতুন বিনিয়োগ করেছে।

এসব কারখানার মধ্যে কেউ কেউ ইতিমধ্যে উৎপাদনক্ষমতা বাড়িয়েছে। কেউ কেউ বাড়ানোর কাজ করছে। সব মিলিয়ে এসব আগামী দুই বছরের মধ্যে এখনকার চেয়ে উৎপাদনক্ষমতা ৫০ শতাংশ বাড়বে বলে জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা।

সিমেন্টের দর: সিমেন্ট ক্রেতাদের সুসময় গেছে গত দুই বছর। এ সময়ে দেশে সিমেন্টের দাম বাড়েনি, বরং কমেছে বলে দাবি উদ্যোক্তাদের। বর্তমানে বিভিন্ন কোম্পানির সিমেন্ট ৩৮০ থেকে ৪২০ টাকার মধ্যে মিলছে। তা দুই বছর আগে ৪৬০ টাকার আশপাশে ছিল। উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, বিশ্ববাজারে কাঁচামালের দাম কমায় আগের চেয়ে সিমেন্টের দাম এখন প্রায় ১০ শতাংশ কম।

সিমেন্ট উৎপাদকদের সমিতির তথ্যমতে, এখন বছরে প্রায় ২ কোটি ২০ লাখ টন সিমেন্ট উৎপাদিত হচ্ছে। এতে ব্যবহৃত হচ্ছে কারখানাগুলোর উৎপাদনক্ষমতার ৭৫ থেকে ৮০ শতাংশ।

চাহিদা বাড়লেও বাংলাদেশে এখনো সিমেন্টের মাথাপিছু ব্যবহার অনেক কম। কোম্পানিগুলোর তথ্যমতে, বাংলাদেশে এখন বছরে মাথাপিছু ১১৫ কেজি সিমেন্ট ব্যবহৃত হয়। চীনে তা ১ হাজার ৭০০ কেজি, মালয়েশিয়ায় ৭০০ কেজি ও ভারতে ২৩০ কেজি। উদ্যোক্তারা মনে করছেন, বাংলাদেশে যেহেতু সিমেন্টের ব্যবহার অনেক কম, সেহেতু এখানে বাজার সম্প্রসারণের অনেক সুযোগ আছে।

শেয়ারবাজারনিউজ/আ

আপনার মন্তব্য

Top