শেয়ার বিজনেসের লেজেন্ড জন সি বোগলে

john 3শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন ব্যবসায়ী সফল হয়েছেন। তাদের সফলতার গল্প নিয়ে আমরা শেয়ারবাজারনিউজ ডটকম পাঠকদের জন্য নতুন কিছু নিয়ে এসেছি। এই বিভাগে শেয়ার ব্যবসায়ের লেজেন্ডদের গল্প তুলে ধরা হবে। যা আমাদের বিনিয়োগকারীরা কিছুটা হলেও বিনিয়োগে বিভিন্ন দিক নির্দেশনা পাবেন বলে আশা করি। আজকের আমাদের আয়োজন জন সি বোগলে’কে নিয়ে। 

 

জন জ্যাক বোগলে পরিচিতি: আন্তর্জাতিক শেয়ারবাজারে জন বোগলে এক অনন্য নাম। বিখ্যাত এই মনিষী ১৯২৯ সালের ৮ই মে মন্টক্লেয়ারের নিউজার্সিতে জন্ম গ্রহন করেন।বর্তমানে তিনি তার স্ত্রী ও ছয় সন্তান নিয়ে পেনসিলভানিয়ায় বসবাস করছেন। জন সি বোগলে ১৯৭৪ সালে সর্বপ্রথম ভ্যানগার্ড মিউচ্যুয়াল ফান্ড সংস্থা প্রতিষ্ঠা করেন যা বর্তমান বৃহৎ মিউচ্যুয়াল ফান্ড হিসেবে সারা বিশ্বে পরিচিত। বর্তমানে এটি প্রায় ১৭০টি মিউচ্যুয়াল ফান্ড নিয়ে গঠিত যার মোট সম্পদের পরিমান ২ ট্রিলিয়নেরও বেশি। এই সংস্থাটির সদর দপ্তর মেলবার্নের পেনসালভানিয়ায় অবস্থিত।এই সংস্থাটির মধ্যে ভ্যানগার্ড ৫০০ ইনডেক্স ফান্ড, সর্ববৃহৎ ফান্ড, যা ১৯৭৫ সালে বোগলে নিজেই প্রতিষ্ঠা করছিলেন, যা ছিল বিশ্বের প্রথম ইনডেক্স মিউচ্যুয়াল ফান্ড।

ফরচুন ম্যাগাজিনের, ১৯৯৯ সালের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বিংশ শতাব্দীর মধ্যে চারজন শ্রেষ্ঠ বিনিয়োগকারীর মধ্যে জন বোগলে অন্যতম একজন। ভ্যানগার্ড সংস্থার এই প্রতিষ্ঠাতা বোগলে ফাইন্যান্সিয়াল মার্কেটস রিসার্চ সেন্টারের সভাপতি।১৯৭৪ সালে ভ্যানগার্ড মিউচ্যুয়াল ফান্ড সংস্থাটি প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত তিনি এই সংস্থার চেয়ারম্যান, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা (সিএফও)হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন। এরপর ২০০০ সাল পর্যন্ত এই প্রতিষ্ঠানের সিনিয়র চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। john 1

ব্যক্তিগত জীবনী: জন সি বোগলে ১৯৫১ সালে অর্থনীতিতে প্রিন্সটন ইউনিভার্সিটি থেকে স্নাতক ডিগ্রী লাভ করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরতকালে তিনি মিউচ্যুয়াল ফান্ড নিয়ে গভীরভাবে চর্চা করেন। যা পরবর্তীতে অর্থনীতি নিয়ে থিসিস করার সময় ইনডেক্স মিউচ্যুয়াল ফান্ড গঠনের ধারণাতে সম্যকভাবে সহায়ক হয়েছিল। ১৯৫১ সাল থেকে ১৯৭৪ সাল পর্যন্ত ওয়েলিংটন ব্যবস্থাপনায় আর্থিক উপদেষ্টা হিসেবে নিযুক্ত থেকে তিনি বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনা ব্যবসা সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করেন। যা ভ্যানগার্ড প্রতিষ্ঠার অনুপ্রেরণা হিসেবে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছিল। বোগলে ফাইন্যান্সিয়াল মার্কেটস রিসার্চ সেন্টারের সভাপতি হওয়ার কারনে বিনিয়োগের ইস্যু নিয়ে নিয়মিত বক্তৃতা প্রদান ও লেখালেখির কারণে বর্তমানে তিনি মিউচ্যুয়াল ফান্ড শিল্পের “বিবেক” বলে সারা বিশ্বে ব্যাপকভাবে সমাদৃত।

বোগলের বিনিয়োগের ধরন: সহজ ভাষায় বলতে গেলে জন বোগলে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে এই শাস্ত্র সমর্থন করে যে, ইনডেক্স মিউচ্যুয়াল ফান্ড থেকে বিনিয়োগকারীরা সহজেই কম খরচে, কম লোড নিয়েও বেশ কিছু মুনাফা করতে পারে। যা বাজারকেও সহজে নিয়ন্ত্রণ করেও তার পরিস্থিতি ধরে রাখা সম্ভব হবে।

তার মতে, এক্ষেত্রে একজন স্বতন্ত্র বিনিয়োগকারীকে নিম্নলিখিত বিষয়গুলো অনুসরন করতে হবে-

১. প্রথমত, বিনিয়োগে স্বাভাবিক মানষিক প্রস্তুতি গ্রহন।

২.বিনিয়োগ সংক্রান্ত খরচ ও ব্যয় কমানো।

৩.দীর্ঘমেয়া্দী বিনিযোগ করতে হবে যা উৎপাদনশীল অর্থনীতির দিগন্ত উন্মোচন করবে।

৪.সার্বজনীন সূচক বিনিয়োগের ক্ষেত্রে উপযুক্ত কৌশল অবলম্বন করতে হবে। john 2

“অভিজ্ঞ স্টক ব্যবসায়ী জিম ক্রেমার (TheStreet.com সিএনবিসি এর “ম্যাড মানি”) এর মতে, বোগলের বিনিয়োগের ধরণ সত্যিকার অর্থেই প্রশংসার দাবিদার। আর বিনিয়োগের ক্ষেত্রে তার এই যুক্তিকে আমি গ্রহনযোগ্য বলিয়া স্বীকৃতি জানাচ্ছি।আর এ কারণে বোগলের সৃষ্টি ইনডেক্স ফান্ডের ক্ষেত্রে কোনো বিতর্কের সৃষ্টি না করে বরং তার এই ফান্ডের চিন্তাধারা সমর্থন করে এর সাথে যোগদানের জন্য চেষ্টা করছি।”

জন বোগলের উক্তি:  ০১. “সময়ই আপনার বন্ধু…আবেগটাই শত্রু”।

০২. “আপনার শেয়ার বাজারের বিনিয়োগ যদি ২০ শতাংশ দর হারায় তাহলে সেই স্টকস থেকে বেরিয়ে যাওয়া উত্তম”।

০৩. “ যত মুনাফা..তত ঝুঁকি”।

শেয়ারবাজারনিউজ/মা/ম.সা

আপনার মন্তব্য

*

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Top