বিনিয়োগে সফলতা আনতে জন বোগলে’র ৬ টিপস

Bogle_r900x493গত পর্বে আমরা মিউচ্যুয়াল ফান্ডের বিবেক বলে সারাবিশ্বে খ্যাত জন সি বোগলে’র জীবনীর কিছু অংশ তুলে ধরে ছিলাম। আজ জন সি বোগলের বেশকিছু পরামর্শ তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। যা একজন বিনিয়োগকারীকে সাফল্য এনে দেয়ার ক্ষেত্রে অনেকটাই কাজ করবে।

জন বোগলের ব্যাক্তিগত অভিজ্ঞতার আলোকে বিনিয়োগের দিক-নির্দেশনা হিসেবে ৬টি টিপস ফোকাস করেছেন।
সম্প্রতি সিএনবিসিতে গ্যালাপ পোল এর সাথে এক আলোচনায় ভ্যানগার্ড গ্রুপের কাল্পনিক প্রতিষ্ঠাতা, এবং ভ্যানগার্ড এর বোগলে ফাইন্যান্সিয়াল মার্কেটস রিসার্চ সেন্টারের সভাপতি জন সি “জ্যাক” বোগলে প্যাসিভ বিনিয়োগ সম্পর্কে ধারনা দিয়েছেন।

তার মতে, প্রত্যেক পিতা-মাতাই চান তার সন্তান সঠিকভাবে বিনিয়োগ করে জীবনে সফলতা অর্জন করুক। কিন্তু এক্ষেত্রে সঠিক কোনো দিক-নির্দেশনা না থাকায় অনেকেই তার কাঙ্খিত লক্ষ্যে অনুযায়ী তা পূরণে ব্যর্থ হয।শুধুমাত্র বিনিয়োগ করলেই যে তা থেকে মুনাফা আসবে এ ধারনা ভুল।যেকোনো বিনিয়োগেই ধৈর্য্য, সহনশীলতা, মেনে নেওয়ার ক্ষমতা, অত্যন্ত ঝুঁকি নেওয়ার প্রবনতাসহ এসব মানসিক বিষয়াদিরও পরিবর্তন আনতে হবে।

নিম্নের তার ধারণাগুলা উপস্থাপন করা হলো:

১. আপনি কিভাবে বিনিয়োগ করতে চান এবং এটা কিভাবে সম্ভব?
স্টক বিনিয়োগ নিয়ে সাম্প্রতিক একটি জরিপে দেখা গেছে যে, ২০০৯ সাল পর্যন্ত ৫২ শতাংশ আমেরিকানই তাদের অবসর জীবন কাটানোর জন্য স্টক মার্কেটে বিনিয়োগ করাটাকে বেছে নিয়ে থাকে। এক্ষেত্রে আত্নবিশ্বাস এবং জ্ঞাননির্ভর হয়ে বিনিয়োগ করাটা তাদের জন্য অত্যন্ত দুর্লভ বিষয় হয়ে পড়ে।সুতরাং ভয়কে জয় করে আত্নবিশ্বাসের সাথে এ লক্ষ্যে অভিষ্ট হতে হলে তাদেরকে প্যাসিভ বিনিয়োগের কৌশল অবলম্বন করতে হবে বলে তিনি মনে করেন।
“ভ্যানগার্ড গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে জন বোগলে মনে করেন, প্রত্যেক বছরই তিনি তার বিনিয়োগ থেকে ভালো কিছু মুনাফা করেছেন। সেক্ষেত্রে আপনিও বাজারে সুইং করতে পারেন তবে এজন্য আপনার বিনিয়োগ কতটা হবে এবং তা থেকে কেমন মুনাফা আসবে তার একটি ধারনা শুরুতেই আপনার রাখতে হবে।
গ্যালাপ পোলের সাথে আলোচনায় উদাহরণ টেনে বোগলে জানান, আমার ছয় সন্তান যখন কলেজ জীবনে পদার্পন করে তখনই আমি তাদের খরচের জন্য প্রত্যেকের অ্যাকাউন্টে কিছু উদ্বৃত্ত বিনিয়োগ করি যেন তারা তাদের প্রয়োজনে কাজে লাগাতে পারে। কিন্তু তাদের টাকা কলেজে প্রয়োজন না থাকায় তারা কেউ কেউ তাদের প্রথম বাড়ি কেনার জন্য এটা ব্যবহার করেছে। এক্ষেত্রে তারা তাদের টাকাটা যথাযথভাবে বিনিয়োগ করেছে বলে আমি মনে করি। যদিও এই বিনিয়োগের জন্য তারা তখনও উপযুক্ত হয়ে ওঠেনি। এরপরও আমি এটাকে স্বাগত জানিয়েছিলাম।
জন বোগলের এই উদাহরণ থেকেই সারমর্ম টেনে গ্যালাপ পোল বলেন যে, তার মানে বোগলে এটাই বোঝাতে চাচ্ছেন যে, বিনিয়োগ করার ক্ষেত্রে ভেবেচিন্তে অবশ্যই যথাযথ জায়গায় তা করতে হবে।

২. বিনিয়োগ অবশ্যই স্বস্তিকর হতে হবে: বোগলে জানান, তার বড় ছেলে যে কিনা একটি হেজ (hedge) ফান্ডের ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, কিন্তু তার সন্তানরা কখনোই বিনিয়োগে আগ্রহ প্রদর্শন করেননি। আর এ বিষয় নিয়ে বোগলে কখনোই তাদের সঙ্গে কোনো আলোচনা কিংবা জোর প্রদান করেননি। এক্ষেত্রে তিনি চেয়েছিলেন যে, তারা নিজেরাই তাদের নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী পেশা নির্বাচন করুক। যা কিনা তাদেরকে তাদের সঠিক লক্ষ্যে পৌঁছে দিতে সহায়তা করবে।

৩. সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নেয়া: যুগোপযোগী সিদ্ধান্ত নেয়াটা বিনিয়োগের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এক্ষেত্রে আরেকটি বিষয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, কেউ যদি তার প্রথম বিনিয়োগ থেকে মাত্র ৭ শতাংশ পর্যন্ত মুনাফা করে থাকেন তবে এ আয় তার বিনিয়োগে জাদুকরী প্রভাব ফেলে। এক্ষেত্রে তার পরবর্তী বিনিয়োগের ধাপ আরও সুগম হয় যা তাকে নতুন বিনিয়োগে আগ্রহী করে তোলে। আর যুগোপযোগী এ সিদ্ধান্ততে মাত্র ১০ থেকে ১১ বছরে সে দ্বিগুন পরিমান লাভবান হতে পারবেন। এ ধারাবাহিকতায় মাত্র ৩০ বছরে সে ৭৫ শতাংশের ও বেশি মুনাফা করতে পারবে।পাশপাশি তার ক্রমান্বয়ে বিনিয়োগের আয়ও এর সাথে যোগ হবে। ফলে লাভের পরিমান প্রায় ৯০ শতাংশ বৃদ্ধি যা তাকে সফলতার দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাবে।

৪. একটি ইনডেক্স ফান্ড হচ্ছে শিক্ষনীয় স্কুল: এ্কটি ইনডেক্স ফান্ডে শেয়ার কিনতে যখনই কেউ বিনিয়োগ করলো প্রথমত তার কিছু অর্থ সঞ্চয় হয়ে গেলো।ইনডেক্স ফান্ডের এটি একটি ভালো দিক যে, এটা কারো সঞ্চয়ের একটা দিক নির্দেশনা দিলো। যখনই একটি ছেলে কিংবা মেয়ে কলেজে জীবন চলাকালীন সময়ে তারা বিনিয়োগে আগ্রহী হয়ে ওঠে তখন তারা জীবনকে বিভিন্নভাবে উপলব্ধি করতে শেখে। কারন শেয়ার কেনা বেচায় লাভ- লোকসান কিংবা ঝুঁকি সম্পর্কে ধারনা তারা এখান থেকেই শিক্ষা পেয়ে থাকে। আর উপযুক্ত সময়কে কাজে লাগানোর জন্য কিছুটা হলেও ফলাফল ও তারা পেয়ে থাকে।

৫.চিন্তাধারাতে কৌশল পরিবর্তন যা বিনিয়োগ প্রক্রিয়ার অংশ : ভ্যানগার্ড ফান্ডের জন্মদাতা বোগলে জানান, ২০০৮-২০০৯ সালে যখন শেয়ার শুধু বিক্রির চাপ পড়ে তখন আমি মনে করি সেটা আবার কেউ কেউ ক্রয়ও করছে। সুতরাং এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। তবে এতে আমি সন্দিহান হয়ে পড়ি যে, এতে করে আমি ভুল বিনিয়োগ করছি কিনা? যা আমার চিন্তাধারাকে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করার দিকনির্দেশনা দিয়েছিল। আর এর ফলেই আমি এটা ভাবতে সক্ষম হয়েছিলাম যে, প্রতি বছরই আমার বিনিয়োগ থেকে আমার ভালো কিছু অর্জন করতে হবে।
৬.প্রত্যাশা অনুযায়ী জীবনযাপন : ইনডেক্স ফান্ডে বিনিয়োগ যদিও আপনার আর্থিক জীবনের এটা বৃহত্তর অংশ এর মধ্যেও আপনাকে আয় এবং ব্যয়ের মধ্যে সামঞ্জস্যতা থাকতে হবে। আপনি যদি মিতব্যয়ী হউন তাহলে তা আপনার জীবনকে উপভোগ থেকে ছিটকে সরিয়ে নেবে। আর যদি আপনি ব্যয়ে হিসাব না করেন তাও আপনার জন্য বিপজ্জনক্।
আর এজন্য বোগলের পরামর্শ হচ্ছে, যদি আপনি স্মার্ট হতে চান তবে এক্ষেত্রে আপনাকে অবশ্যই পর্যবেক্ষনশীল হতে হবে। এক্ষেত্রে প্রয়োজনীয়তাকেই প্রাধান্য দেয়াটাই শ্রেয়।

শেয়ারবাজারনিউজ/ম/ম.সা

আপনার মন্তব্য

Top