সামিটের বুধবারের লেনদেন বাতিল: একজনকে ওএসডি

summit-power-limited_সামিটশেয়ারবাজার রিপোর্ট: একীভূত পরবর্তী সামিট পাওয়ারের লেনদেন নিয়ে তুলকালাম কান্ড। নিয়ন্ত্রক সংস্থার অভিযোগ উচ্চ আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী শেয়ার যথাযথভাবে জমা না করেই সামিট পূর্বাঞ্চলকে তালিকাচ্যুত করে এবং একীভূত পরবর্তী সামিট পাওয়ারের লেনদেন শুরু করেছে ডিএসই এবং সিএসই। আর এতেই ঘটে বিপত্তি। এর জের ধরেই ডিএসই বন্ধের দিন জরুরি পর্ষদ সভা করে তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করে। পাশাপাশি বুধবার (২৪ আগস্ট) হওয়া সামিটের লেনদেনের সেটেলমেন্ট স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ডিএসই পর্ষদ। অপরদিকে দায়িত্ব পালনে অবহেলার কারণে একজন কর্মকর্তাকে ওএসডি করা হয়েছে।

আজ শনিবার ডিএসইর পরিচালনা পর্ষদের সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ডিএসই সূত্র জানায়, ডিএসইর প্রধান অর্থ কর্মকর্তা আব্দুল মতিন পাটোয়ারীকে প্রধান করে ৩ সদস্যের কমিটি করা হয়েছে। বাকী দুই সদস্য হলেন সিটিও জিয়াউল করিম ও ওয়াহিদুজ্জামন। এ কমিটিকে আগামী ৩ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। অন্যদিকে বিএসইসি’র করা কমিটিকে সব ধরণের সহযোগিতার জন্য নির্দেশ দিয়েছে ডিএসইর পরিচালনা পর্ষদ।

এ প্রসঙ্গে ডিএসই’র পরিচালক রকিবুর রহমান শেয়ারবাজারনিউজ ডটকমকে বলেন, সামিট ইস্যুতে ডিএসই’র ম্যানেজমেন্টে কোন অনিয়ম হয়েছে কিনা খতিয়ে দেখার জন্য তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি আগামী ৩ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিবে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে এরই মধ্যে দায়িত্ব অবহেলার কারণে একজন কর্মকর্তাকে ওএসডি করা হয়েছে।

বুধবার সামিটের লেনদেন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সামিট পূর্বাঞ্চলকে তালিকাচ্যুত ও একীভূত পরবর্তী বুধবার সামিটের লেনদেন নিয়ে অভিযোগ রয়েছে। তাই বুধবারের লেনদেন পরবর্তী সিদ্ধান্ত না নেওয়া পর্যন্ত আনসেটেলমেন্ট অবস্থায় রাখা হয়েছে।

উল্লেখ্য, বুধবার ডিএসইতে পাঁচ লাখ ৬১ হাজার ৩৭৫টি শেয়ার কেনাবেচা হয় এক কোটি ৮১ লাখ টাকায়। আর সিএসইতে ১৪ হাজার ২৮৫টি শেয়ার কেনাবেচা হয়।

এর আগে সামিট ইস্যুতে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি এবং সিএসই চার সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। বিএসইসি কমিটিকে আগামী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। এদিকে বিএসইসি ডিএসই এবং সিএসই’কে সামিটের লেনদেন বন্ধ রাখার জন্য নির্দেশ দিয়েছে।

এ প্রসঙ্গে রকিবুর রহমান বলেন, বিএসইসি’র নির্দেশনা স্বাপেক্ষে সামিটের লেনদেন সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, ব্যবস্থাপনা ও কর ব্যয় কমিয়ে আরও বেশি মুনাফার সুযোগ তৈরি করতে গ্রুপের অন্য তিন বিদ্যুৎ কোম্পানিকে একীভূত করেছে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠান সামিট পাওয়ার। সামিট গ্রুপের কোম্পানি সামিট পাওয়ারের সঙ্গে সামিট পূর্বাঞ্চল পাওয়ার কোম্পানি, সামিট উত্তরাঞ্চল পাওয়ার কোম্পানি এবং সামিট নারায়ণগঞ্জ পাওয়ার একীভূত হয়েছে। এর মধ্যে সামিট পাওয়ার ও সামিট পূর্বাঞ্চল পুঁজিবাজারে তালিকাভূক্ত। বুধবার থেকে দেশের উভয় পুঁজিবাজারে সামিট পূর্বাঞ্চল পাওয়ারকে তালিকাচ্যুত করা হয়েছে। সামিট উত্তরাঞ্চল পাওয়ার ও সামিট নারায়ণগঞ্জ পাওয়ার তালিকাভুক্ত নয়।

১৯৯৪ সালের কোম্পানি আইনের ২২৮ ও ২২৯ ধারা অনুসারে উচ্চ আদালতে তিন কোম্পানিকে সামিট পাওয়ারের সঙ্গে একীভূতকরণের অনুমোদন চাওয়া হলে শর্তসাপেক্ষে গত ১৪ জুলাই সামিট গ্রুপের তিন কোম্পানির একীভূতকরণের চূড়ান্ত অনুমতি দেন হাইকোর্টের বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমদের বেঞ্চ। এর আগে বিধি মোতাবেক বিশেষ সাধারণ সভায় (ইজিএম) শেয়ারহোল্ডার ও নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসিরও অনুমোদন নেয় সামিট পাওয়ার।

সামিট পূর্বাঞ্চলের একটি শেয়ারের বিপরীতে সামিট পাওয়ারের ১.৩০৯টি শেয়ার পাবেন শেয়ারহোল্ডাররা। সামিট উত্তরাঞ্চল পাওয়ার কোম্পানির একটি শেয়ারের বিপরীতে সামিট পাওয়ারের ১.৬৬৮টি এবং সামিট নারায়ণগঞ্জ পাওয়ারের একটি শেয়ারের বিপরীতে সামিট পাওয়ারের ১.৪৭৫টি শেয়ার দেওয়া হয়।

শেয়ারবাজারনিউজ/আ

আপনার মন্তব্য

Top