তসরিফা ইন্ডাষ্ট্রিজ: ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে যাওয়ার আশঙ্কা

tosrifa copyশেয়ারবাজার রিপোর্ট: সম্প্রতি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির অনুমোদন পেয়েছে বস্ত্রখাতের কোম্পানি তসরিফা ইন্ডাষ্ট্রিজ লিমিটেড। কোম্পানিটি প্রতিটি শেয়ারের বিপরীতে ফেসভ্যালু ১০ টাকার সঙ্গে ১৬ টাকা প্রিমিয়ামসহ মোট ২৬ টাকা ইস্যুমূল্য নির্ধারণ করেছে। বছরে মাত্র সাড়ে ৮ কোটি টাকা মুনাফা করা কোম্পানি পুঁজিবাজার থেকে ৬৩ কোটি ৮৭ লাখ টাকা উত্তোলন করবে। পারিবারিক আধিপত্যে পরিচালিত সুশাসনহীন, স্বল্প মুনাফা, ফ্যাক্টরীতে নিজস্ব পাওয়ার প্লান্ট না থাকা, প্রশ্নবিদ্ধ পরিশোধিত মূলধন বৃদ্ধি ইত্যাদি বিষয় বিবেচনায় এ কোম্পানির বর্তমান ও ভবিষ্যত কি হতে পারে এবং কোম্পনিটির দেড়গুনের বেশি প্রিমিয়াম নেয়া কতটুকু যুক্তিযুক্ত এমন প্রশ্ন বাজার সংশ্লিষ্টদের। এরই ধারাবাহিকতায় শেয়ারবাজার নিউজ ডটকম এ কোম্পানির বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যত নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদনের আয়োজন করেছে। যার প্রথম পর্ব আজ প্রকাশিত হলো :

তালিকাভুক্তির পরপরই জেড ক্যাটাগরিতে যাওয়ার আশঙ্কা

তসরিফা ইন্ডাষ্ট্রিজ লিমিটেড পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির পরপরই ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কারণ বর্তমানে এ কোম্পানির ৩ কোটি ৪৪ লাখ ৬৯ হাজার ৮০০ শেয়ার রয়েছে। ২০১৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ কোম্পানির শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) ২.৪৯ টাকা দেখানো হয়েছে।

অন্যদিকে প্রতিটি শেয়ারের ইস্যুমূল্য ২৬ টাকা নির্ধারিত হয়েছে। সে হিসেবে এ কোম্পানির প্রাইস আর্নিং (পিই) রেশিও হবে ১০.৪৪। আইপিওর মাধ্যমে কোম্পানিটি ২ কোটি ৪৫ লাখ ৬৬ হাজার ২০০টি শেয়ার ছাড়বে। এতে কোম্পানির মোট শেয়ার সংখ্যার পরিমাণ দাঁড়াবে ৫ কোটি ৯০ লাখ ৩৬ হাজার। অন্যদিকে ২০১২ সাল থেকে কোম্পানিটি কর পরিশোধের পর মুনাফা ৮ কোটি টাকার ওপরে দেখিয়ে আসছে। এতো অল্প পরিমাণ মুনাফায় কোম্পানির ডিলিউটেড ইপিএস তখন অনেক কমে যাবে। বেড়ে যাবে পিই রেশিও।

এদিকে কোম্পানিটির ২০১৪ সমাপ্ত অর্থবছরের আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশের সময় চলে এসেছে। অন্যদিকে কোম্পানিটি শিগগিরই পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হতে যাচ্ছে।  এখন সর্বমোট ৫ কোটি ৯০ লাখ ৩৬ হাজার শেয়ারের ওপর হিসেব করে কোম্পানিকে ডিভিডেন্ড ঘোষণা করতে হবে। মাত্র ৮ কোটি টাকা মুনাফার কোম্পানি কিভাবে এতো বিপুল পরিমাণ শেয়ারের ওপর ডিভিডেন্ড ঘোষণা করবে সেটাই এখন প্রশ্ন। যদি ডিভিডেন্ড ঘোষণা না করতে পারে সেক্ষেত্রে কোম্পানির অবস্থান হবে ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে। বিনিয়োগকারীরা এ কোম্পানির শেয়ার বিনিয়োগে কোনো মার্জিন লোন সুবিধা পাবেন না। কোম্পানিটি বিবেচিত হবে দুর্বল মৌলভিত্তি কোম্পানি হিসেবে।

এ ব্যাপারে কোম্পানির সহকারি ম্যানেজার ইফতেখারুল আলম শেয়ারবাজার নিউজ ডটকমকে জানান, আসলে এই বিষয়টি কোম্পানির ম্যানেজমেন্টের ওপর নির্ভর করছে। ম্যানেজমেন্ট পলিসি অনুযায়ী যে সিদ্ধান্ত নেবে সেটাই কার্যকর হবে বলে জানান তিনি।

শেয়ারবাজার/সা/মু/রা

আপনার মন্তব্য

Top