শেয়ারবাজারের গতিপথ দেখে হাঁটুন- ডেভিড ড্রিম্যান

dreman 1শেয়ারবাজার রিপোর্ট:  শেয়ারবাজারনিউজ ডটকমের এই বিভাগে গত পর্বগুলোতে জন সি বোগলে এবং ওয়ারেন বাফেটকে নিয়ে লেখা প্রকাশিত হয়। শেয়ারবাজার লেজেন্ড বলে খ্যাত উল্লেখিত দুই ব্যক্তির সংক্ষিপ্ত জীবনী এবং বিনিয়োগের বিভিন্ন দিক নির্দেশনা তুলে ধরা হয়। এ পর্যায়ে শেয়ারবাজার লেজেন্ড বিভাগে কানাডার ডেভিড ড্রিম্যানের সংক্ষিপ্ত ও জীবনী ও তার বিনিয়োগের ধরণ তুলে ধরা হলো।

ডেভিড ড্রিম্যান কেন বিখ্যাত: ভ্যালু ম্যানেজমেন্ট এর প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান ‘ডেভিড ড্রিম্যান’ হচ্ছেন একজন বিখ্যাত বিনিয়োগকারী। সফল এই বিনিয়োগকারী তাঁর ‘সাইকোলজিক্যাল ইনভেস্টমেন্ট’ নামক ফর্মূলার জন্য আজীবন ‘চিরস্মরনীয়” হয়ে থাকবেন্। তিনিই সেই বিনিয়োগকারী যিনি কিনা প্রথমবারের মতো চিন্তা করেছিলেন যে, মানুষের চরিত্রে যদি একটা সাইকোলজি কিংবা মনস্তত্ত্ব থাকে তাহলে শেয়ারবাজারেরও একটি সাইকোলজি রয়েছে।

স্টক মার্কেটে সাফল্যের সর্বোত্তম বিনিয়োগের মনোবিদ্যা হিসেবে তিনি “Contrarian Investment Strategy” নামক প্রথম গ্রন্থ ১৯৮০ সালে প্রকাশিত হয়। তিনি আর্থিক বিশ্লেষণ, এর প্রকৃতি ও বিনিয়োগের কৌশল সম্পর্কে বহু সংখ্যক পান্ডিত্যপূর্ণ আর্টিক্যাল বিভিন্ন সংবাদপত্রে লিখেছেন। ‘ফোর্বস’ ম্যাগাজিনের কলামে তিনি “The Contrarian” লিখে তিনি সবচেয়ে বেশি আলোচিত হয়েছিলেন।

ব্যক্তিগত পরিচিতি: ১৯৩৬ সালে জন্মগ্রহন করা ড্রিম্যান ১৯৬৮ সালে কানাডার ম্যানিটোবা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।পড়াশোনা শেষ করেই তিনি রিসার্চ অফিসার এবং পরে সিনিয়র ইনভেস্ট অফিসার হিসেবে বেশ কয়েকটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালন করেন।১৯৭৭ সালে তিনি নিজেই ‘ড্রিম্যান ভ্যালু ইনভেস্টমেন্ট’ নামক একটি কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেন।

বিনিয়োগের ধরণ: শেয়ার মার্কেট নিয়ে ড্রিম্যানের গবেষণা ছিল এরকম যে, অন্যান্যরা লাভের আশায় যেসব শেয়ারের পেছনে ছুটতেন তিনি সেসব শেয়ার এড়িয়ে চলতেন। তিনি হাটঁতেন উল্টোদিকে। এর মধ্যে বাছাইকৃত যেসব ভালো শেয়ার কেউ কিনতেন না, তিনি সেগুলোই খুঁজে বের করতেন। আর এসব শেয়ারের দামও থাকতো কম। তিনি বিশ্বাস করতেন যে, আজ যা নিচে পড়ে আছে কাল তা উপরে ওঠবেই। তবে এসব শেয়ার ক্রয় করার আগে তিনি কিছু হিসেব-নিকেশ করতেন। যেমন Price-to-earnings, price-to-book এবং price-to-cash flow ইত্যাদি।  dreman 3

ড্রিম্যান এর মতে, যেসব শেয়ার মার্কেটে অবমূল্যায়িত অথচ যাদের Growth ভাল তাদেরকে খুঁজে বের করতে হবে।। এক্ষেত্রে খরগোশ আর কচ্ছপের গল্পটা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ধীরে ধীরে এগিয়ে যাওয়া মানেই কিন্তু হেরে যাওয়া নয়। কিছু কোম্পানি আছে যারা তাদের ব্যবসায়িক ধারাবাহিকতা ধরে রয়েছে। ম্যানেজমেন্টে যারা আছেন তারাও ভাল লোক। বাজারে যে পন্য তারা বিক্রি করছে সেটাও রাতারাতি ধনী হওয়ার জন্য নয়। আর এথেকে এটাই বোঝা যায় যে, এরা দীর্ঘমেয়াদে ব্যবসা করার জন্য বাজারে এসেছে। ড্রিম্যানের টার্গেটে ছিল ঠিক এই রকম কোম্পানীগুলোই। যখনই তাঁর কাছে মনে হত কোন কোম্পানীর শেয়ারের দাম অতিমূল্যায়িত হয়ে গেছে,তখনই তিনি সেই শেয়ার বিক্রি করে দিতেন।

যদি বলা হয় তাঁর জীবনে সেরা বিনিয়োগ কোনটি। তাহলে বলতে হবে Phillip Morris এবং R.J. Reynolds এর কথা। এই দুটি টোব্যাকো কোম্পানির শেয়ার তার কাছে রাখা ছিল অনেক দিন। ২০০০ সালের শুরুর দিকে এক মামলায় হেরে যায় ফিলিপ মরিস কোম্পানী। ড্রিম্যান বলেন, ‘মামলায় হেরে গেলেও আমরা খুব সতর্ক ভাবে লক্ষ্য রাখছিলাম এই দুটি কোম্পানীর উপর এবং বিশ্বাস ছিল এক সময় না এক সময় তারা ঘুরে দাঁড়াবেই’।

অবশেষে সুপ্রিম কোর্টের রায়ে আবারো ফিলিপ মরিস নতুনভাবে যাত্রা শুরু করে। এখানেই চলে আসে ড্রিম্যানের “Contrarian Investment Strategy” বইটির কথা।যা কিনা বিনিয়োগের ইতিহাসে অন্যতম এক ক্ল্যাসিক। এখানেই তিনি বলেছেন, বাজার নিয়ে শুধু পড়াশোনা না করে বাজারের সাইকোলজি বা মনস্তত্ব বোঝার চেষ্টা করতে হবে। যেমন, Contrarian শব্দটার মানেই হল প্রচলিত নিয়মের বাইরে। একারনেই শেয়ার বাজারে আর সবাই কি করলো সেই চিন্তা না করে, বাজারের ভবিষ্যত গতিপথ কোনদিকে যেতে পারে সেইদিকে হাঁটা উচিৎ।

তাঁর কথায়, ‘বাজার সাইকোলজি, শেয়ার বাজারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন জিনিস। যদিও এ ব্যাপারটাকে আমরা সবচেয়ে কম গুরুত্ব দেই’।

প্রকাশনা: “Contrarian Investment Strategy: The Psychology of Stock Market Success” by David Dreman (1980) “The New Contrarian Investment Strategy” by David Dreman (1982) “Contrarian Investment Strategies: The Next Generation by David Dreman (1998)

বানী:  ০১.মনোবিদ্যা বাজারের জন্য থুবই গুরুত্বপূর্ণ উপাদান- এবং অন্যতম এজন্য যে, যা থেকে কমপক্ষে কিছু উপলব্ধি করা যায়।

০২. শেয়ার দর তলানিতে থাকা মানেই কেনার উপযুক্ত সময়।

০৩.প্রবৃদ্ধির বিনিয়োগের বড় একটি সমস্যা হচ্ছে এই যে, আমরা অনুমান করে খুব একটা ভালো আয় করতে পারি না। সত্যিই আমি প্রবৃদ্ধি                      দেখে শেয়ার কিনেছি।যখনি আমি বিনিয়োগ করেছি তখনই এর পিছনের আয়ের দিকে খেয়াল রেখেছি।

০৪.যদি আপনি আসলেই জেনে থাকেন যে, আপনি ভালো শেয়ারে বিনিয়োগ করেছেন, তাহলে আপনি তিন বছর বা তার চেয়ে কিছুটা বেশি                      সময় ধৈর্য ধারণ করলে তা থেকে ভালো টাকা উপার্জন করতে পারবেন।

 

শেয়ারবাজারনিউজ/মা/ম.সা

আপনার মন্তব্য

*

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Top