সরকারি কোম্পানির শেয়ার অফলোড: ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে অগ্রগতি জানাতে নির্দেশ

governmentশেয়ারবাজার রিপোর্ট: নানা জটিলতার পাশাপাশি শীর্ষ কর্মকর্তাদের অনীহার কারণে জোর উদ্যোগ নেয়ার প্রায় আট বছর পেরিয়ে গেলেও সরকারি কোম্পানিগুলো পুঁজিবাজারে তাদের শেয়ার অফলোডে ব্যর্থ হয়েছে। এ অবস্থায় নতুন করে মতামত দেয়ার জন্য চলতি বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছে মন্ত্রণালয়।

৪ সেপ্টেম্বর রোববার অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব ইউনুসুর রহমানের সভাপতিত্বে সরকারি বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ার অফলোড-সংক্রান্ত এক আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে এমন নির্দেশ দেয়া হয়।

সভায় বিদ্যুৎ-জ্বালানি, শিল্প, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি, বাংলাদশে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমশিনের (বিএসইসি) কমিশনার অধ্যাপক স্বপন কুমার বালার পাশাপাশি রাষ্ট্রায়ত্ত বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক সূত্রে জানা যায়, শেয়ারবাজারে সরকারি কোম্পানির শেয়ার অফলোডের ব্যাপারে বিভিন্ন কোম্পানির মতামত ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সুপারিশ জমা দেয়ার জন্য গত ৩০ জুন পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছিল। তবে বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে বিদ্যুৎ বিভাগ ছাড়া কেউই এ বিষয়ে মতামত ও সুপারিশ উপস্থাপন করতে পারেনি।

অর্থমন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে বিদ্যুৎ বিভাগের প্রতিনিধি জানিয়েছেন, আশুগঞ্জ পাওয়ারের ১ হাজার কোটি টাকার বন্ড ইস্যুর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। চলতি বছরেই ৬০০ কোটি টাকার বন্ড ইস্যু করা হবে। আগামী বছর অবশিষ্ট ৪০০ কোটি টাকার বন্ড ইস্যু করা হবে। বন্ডটি স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত হবে।

এদিকে সরকারের আরেক জ্বালানি কোম্পানি লিকুইফাইড পেট্রোলিয়াম গ্যাস লিমিটেড (এলপিজিএল) তাদের মতামতে জানিয়েছে, পরিচালন লোকসানের কারণে তারা আপাতত শেয়ার অফলোড করতে পারছে না। গত আট বছর নানা জটিলতার মধ্যে শেয়ার অফলোডের প্রক্রিয়া শুরু করলেও এখন বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে কোম্পানির পরিচালন লোকসান। এর আগে গত ৮ জুন অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকেও অবিলম্বে এলপিজিএলের ২৫ শতাংশ শেয়ার অফলোড করার নির্দেশ দেয়া হয়।

২০১২ সালে ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ থেকেও সরাসরি তালিকাভুক্তির অনুমোদন পাওয়ার পরও নানা জটিলতায় রাষ্ট্রায়ত্ত আরেক কোম্পানি অ্যাসেনসিয়াল ড্রাগস শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তি হতে পারেনি। লাভজনক হলেও কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের সমন্বয়হীনতা, ধীরগতি, সম্পদ পুনর্মূল্যায়নে কালক্ষেপণ, নির্দিষ্ট পরিমাণের চেয়েও কম শেয়ার ছাড়ার প্রস্তাব, স্টক এক্সচেঞ্জে সরাসরি তালিকাভুক্তির অনুমোদনের পর নতুন করে মূলধন বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন কারণে অ্যাসেনসিয়াল ড্রাগসের শেয়ার ছাড়ার প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে যায়। একই পরিস্থিতি সরকারি অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেও দেখা গেছে। এর আগে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান জনতা ব্যাংক অস্বাভাবিক প্রিমিয়াম দাবি করে শেয়ার ছাড়ার আবেদন জানিয়েও পরবর্তীতে পিছিয়ে যায়। এসব কারণেই সরকারের নীতিনির্ধারকরা বারবার ঘোষণা দিলেও প্রায় সব প্রতিষ্ঠানই নির্ধারিত সময়ে শেয়ার ছাড়তে ব্যর্থ হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার দায়িত্বে আসার পর শেয়ারবাজারে সরকারি বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ার অফলোডের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির জন্য সে সময় প্রথমে ২৪টি সরকারি কোম্পানির তালিকা তৈরি হয়। পরবর্তীতে এ সংখ্যা ৩২-এ উন্নীত করা হয়।

২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ নেতৃত্ত্বাধীন মহাজোট সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও এ বিষয়ে একাধিকবার নির্দেশনা দিয়েছেন। এমনকি অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ও শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হতে ব্যর্থ সংশ্লিষ্ট সরকারি কোম্পানির শীর্ষ কর্মকর্তাদের পদত্যাগে বাধ্য করার হুমকিও দেন। এতদসত্বেও কোম্পানিগুলো শেয়ার অফলোড করতে ব্যর্থ হয়েছে।

শেয়ারবাজারনিউজ/আ

আপনার মন্তব্য

*

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Top