কারসাজির উৎস গ্রুপ অব ইন্ডাষ্ট্রিজ

dse-cseশেয়ারবাজার রিপোর্ট: পুঁজিবাজারে কারসাজি করে বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেয়ার অন্যতম উৎস হচ্ছে গ্রুপ অব ইন্ডাষ্ট্রিজ। গ্রুপ অব ইন্ডাষ্ট্রিজের বিভিন্ন কোম্পানিকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত করে বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে ইতিমধ্যে হাতিয়ে নেয়া হয়েছে কয়েক হাজার কোটি টাকা। এ গ্রুপ অব ইন্ডাষ্ট্রিজের সবচেয়ে ভালো একটি কোম্পানি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত করার পর পরবর্তীতে তালিকাভুক্ত করা হচ্ছে অপেক্ষাকৃত দুর্বল কোম্পানি।

আর এ দুর্বল কোম্পানিগুলোকে ব্যবহার করে বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেয়া হয়েছে। এসকল গ্রুপ অব ইন্ডাষ্ট্রিজের কোম্পানিগুলোর কিছু মূল মার্কেটে এবং অধিকাংশ রয়েছে ওভার দ্য কাউন্টার (ওটিসি) মার্কেটে। শেয়ারবাজারনিউজ ডট কমের অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে এসকল তথ্য।

তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, এসকল গ্রুপ অব ইন্ডাষ্ট্রিজের কোম্পানিগুলোর পরিশোধিত মূলধন অপেক্ষাকৃত কম। মূল মার্কেটে যেসকল কোম্পানি রয়েছে অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ার দর বর্তমানে অতিমূল্যায়িত। জানা গেছে, পুঁজিবাজারে মুন্নু গ্রুপ অব ইন্ডাষ্ট্রিজ লিমিটেডের ৪ কোম্পানি তালিকাভুক্ত হয়। এগুলো হলো: মুন্নু সিরামিক, মুন্নু জুটেক্স, মুন্নু জুট স্ট্যালারলস ও মুন্নু ফেব্রিক্স। এগুলোর মধ্যে মুন্নু ফেব্রিক্স বর্তমানে ওটিসিতে অবস্থান করছে। বাকি কোম্পানিগুলোর মধ্যে মুন্নু জুটেক্স একীভূত হয় যায়। পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়া এ গ্রুপের দ্বিতীয় কোম্পানি মুন্নু জুট স্টাফলারসের পরিশোধিত মূলধন মাত্র ৪০ লাখ টাকা। এটি তালিকাভুক্ত হয় ১৯৮২ সালে। এর শেয়ার সংখ্যা মাত্র ৪ লাখ । সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে ৩০.৬৭ শতাংশ বা  ১ লাখ ২২ হাজার ৬৮০টি শেয়ার। অথচ তালিকাভুক্তির ২৯ বছর অতিবাহিত হলেও এ পর্যন্ত নেয়া হয়নি পরিশোধিত মূলধন বৃদ্ধির কোন পদক্ষেপ। ফলে মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছে এ কোম্পানির শেয়ার দর। বর্তমানে এ কোম্পানির শেয়ার দর ৫১৯.৫০ টাকা।

এদিকে মুন্নু গ্রুপের অন্য প্রতিষ্ঠানগুলো ঠিকঠাকমতো চললেও দেড় বছর উৎপাদন বন্ধ রয়েছে ১১৫ কোটি টাকার পরিশোধিত মূলধনি কোম্পানির মুন্নু ফেব্রিক্স। নেয়া হচ্ছে না উৎপাদনে ফেরার কোন পদক্ষেপ। ফলে এ কোম্পানি পড়ে আছে ওটিসি মার্কেটে। সাধারণ বিনিয়োগকারীদের আটকে রয়েছে কয়েক কোটি টাকা।

পুঁজিবাজার থেকে অর্থ হাতিয়ে নেয়া আরেকটি গ্রুপ হচ্ছে কাশেম গ্রুপ। এ গ্রুপের দুটি কোম্পানি কাশেম টেক্সটাইল ও কাশেম সিল্ক। দীর্ঘদিন উৎপাদনে না থাকায় এ দুই কোম্পানির বর্তমান অবস্থা আশঙ্কাজনক। সাধারণ বিনিয়োগকারীদের অর্থ লোপাট করে এগুলো বর্তমানে নামেমাত্র ওটিসিতে অবস্থান করছে। পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ম্যাক পেপার ও ম্যাক এন্টারপ্রাইজ ম্যাক গ্রুপের দুটি অঙ্গ প্রতিষ্ঠান। এগুলোর কাশেম গ্রুপের মতো বেহাল দশা।

এদিকে পুঁজিবাজারের ইতিহাসে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ করেছে দোয়েল গ্রুপ। এ গ্রুপের ৪ কোম্পানি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত রয়েছে। এগুলো হলো: বাংলাদেশ কেমিক্যাল, বাংলাদেশ ডাইং, বাংলাদেশ জিপার ও বাংলাদেশ লাগেজ। বিভিন্ন অনিয়ম আর কারসাজির কারণে সবগুলো কোম্পানিই ওটিসিতে অবস্থান করছে। এ কোম্পানিগুলোকে বিনিয়োগকারীদের আটকে রয়েছে হাজার কোটি টাকার মতো। বাংলাদেশ ডেভেলমেন্ট গ্রুপের দুই অঙ্গ প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ মনোস্পুল পেপার ম্যানুফ্যাকচারিং লিমিটেড ও পেপার প্রসেসিং অ্যান্ড প্যাকেজিং লিমিটেড। দীর্ঘদিন ধরে অনুৎপাদনে রয়েছে এসকল কোম্পানি। বর্তমানে এগুলো ওটিসিতে অবস্থান করছে। পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত অন্যান্য গ্রুপের প্রতিষ্ঠানগুলো হলো: খালেক গ্রুপের (বর্তমানে কেয়া গ্রুপ) কেয়া কসমেটিকস। অন্য আরেকটি প্রতিষ্ঠান কেয়া কটন পুঁজিবাজারে আসার প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। বেক্সিমকো গ্রুপের কোম্পানিগুলো হলো: বেক্সিমকো, বেক্সিমকো ফার্মা, বেক্সিমকো সিনথেটিকস ও শাইনপুকুর সিরামিকস। ইতিমধ্যে এ গ্রুপের আরেকটি কোম্পানি বেক্সটেক্স বেক্সিমকোর সঙ্গে একীভূত হয়।

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পুঁজিবাজারে যেসকল গ্রুপ অব ইন্ডাষ্ট্রিজ রয়েছে সবগুলো গ্রুপ অব ইন্ডাষ্ট্রিজের কোম্পানিগুলোর জন্য পৃথক পৃথক মনিটরিং ব্যবস্থা করা দরকার। সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ক্ষতি করে যেসকল গ্রুপ অব ইন্ডাষ্ট্রিজের কোম্পানিগুলো নির্দ্বিধায় ওটিসিতে রয়েছে, সেগুলোর জন্য কার্যকারী ব্যবস্থা গ্রহণ করা এবং মূল মার্কেটে যেসকল গ্রুপ অব ইন্ডাষ্ট্রিজের কোম্পানি রয়েছে সেগুলোর দিকে ভালো করে নজরদারি বাড়ানো দরকার বলে মনে করেন তারা।

শেয়ারবাজারনিউজ/ম.সা

আপনার মন্তব্য

Top