ডিএসইকে সতর্ক করলো বিএসইসি

DSE_BSECশেয়ারবাজার রিপোর্ট: আইন পরিপালনে আবারও ব্যর্থতার দায় নিল দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। আর এ ব্যর্থতার কারণে প্রতিষ্ঠানটিকে সম্প্রতি সতর্ক করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

গত ১৭ সেপ্টেম্বর তারিখে ডিএসই’র চিফ রেগুলেটরি অফিসার-কে (সিআরও) সতর্ক করে চিঠি দিয়েছে বিএসইসি।

বিএসইসি’র সার্ভেইল্যান্স বিভাগের উপ-পরিচালক মুসতারি জাহান স্বাক্ষরিত সতর্ক পত্রে বলা হয়েছে, লিস্টিং রেগুলেশন অমান্য করে নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে কিছু না জানিয়ে ডিএসই ২০১৪ সালে তালিকাভুক্ত ঔষধ ও রসায়ন খাতের ফার্মা এইড কোম্পানির কারখানা ও অফিস আকষ্মিক তদন্তের উদ্যোগ নিয়েছিল। পাশাপাশি কারসাজির অভিযোগে কোম্পানিটির শেয়ার লেনদেনও স্থগিত করা হয়েছিল। অথচ লিস্টিং রেগুলেশনের পুরাতন আইনে ডিএসই-কে এ ক্ষমতা দেওয়া হয়নি।

এর আগে গত ২৯ জুন, ২০১৬ তারিখে এ প্রসঙ্গে ডিএসই-কে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছিল কমিশন। তবে ডিএসই’র দেওয়া জবাবে সন্তুষ্ট হতে পারেনি কমিশন।

এ বিষয়ে কমিশনের এক উর্ধ্বতন কর্মকর্তা শেয়ারবাজারনিউজ ডটকমকে বলেন, পুরাতন লিস্টিং রেগুলেশন অনুযায়ী কমিশনের অনুমতি ছাড়া স্টক এক্সচেঞ্জ তালিকাভুক্ত কোন কোম্পানিতে পরিদর্শন করতে পারবে না। অথচ ডিএসই কমিশনকে না জানিয়ে ফার্মা এইডে আকষ্মিক পরিদর্শন করেছে।

এদিকে ডিএসই সূত্রে জানা যায়, ২০১৪ সালে ডিএসই বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তদন্তে ফার্মা এইডের কারখানা ও অফিস পরিদর্শনের জন্য আকষ্মিকভাবে একটি পরিদর্শক দল পাঠায়। এর জন্য বিএসইসি’র কোন অনুমোদন নেওয়া হয়নি। পাশাপাশি কোম্পানিকেও এ বিষয়ে আগে থেকে কিছু জানানো হয়নি। তাই ডিএসই’র পরিদর্শক দলকে কারখানায় ঢুকতে দেয়নি কোম্পানি কর্তৃপক্ষ।

এর জের ধরে গত ৫ ফেব্রুয়ারি তারিখে কোম্পানিটির শেয়ার লেনদেন পরবর্তী নোটিশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত করেছিল ডিএসই। কোম্পানিটি অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনে অস্বাভাবিকভাবে আয় বাড়িয়ে দেখিয়েছে এমন অভিযোগে লেনদেন স্থগিত করা হয়েছিল। যদিও ১১ মে, ২০১৪ তারিখে স্থগিতাদেশ তুলে নিয়ে ফার্মা এইডের লেনদেন পুনরায় চালু করা হয়েছিল।

অস্বাভাবিক আয়ের বিষয়ে জানা যায়, ৩০ জানুয়ারি, ২০১৪ তারিখে ডিএসই-তে জমা হওয়া অর্ধবার্ষিক (জুলাই’১৩-ডিসেম্বর’১৩) অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনে কোম্পানিটির মুনাফা হয়েছিল ৬৬ লাখ ৩০ হাজার টাকা। যা এর আগের বছর একই সময়ে ছিল ৪৯ লাখ ৯০ হাজার টাকা। তবে অর্ধবার্ষিকের শেষ তিন মাসে অর্থাৎ অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর, ২০১৩ পর্যন্ত কোম্পানিটি সবচেয়ে বেশি ৩৮ লাখ ৯০ হাজার টাকা মুনাফা করেছিল।

যদিও কোম্পানিটির আর্থিক প্রতিবেদন নিয়ে ডিএসই’র অভিযোগ তদন্ত করেনি নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি।

উল্লেখ্য, ১৯৮৭ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ফার্মা এইডের পরিশোধিত মূলধন ৩ কোটি ১২ লাখ টাকা। প্রতিষ্ঠানটি ২০১৪ ও ২০১৫ সালে শেয়ারহোল্ডারদের ২৫ শতাংশ করে ক্যাশ ডিভিডেন্ড দিয়েছিল।

শেয়ারবাজারনিউজ/আ

আপনার মন্তব্য

*

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Top