আরো লাভের আশায় মানসিক চাপ নিবেন না- ফিলিপ এ. ফিশার

fisher-1শেয়ারবাজার রিপোর্ট: একজন বিনিয়োগকারী সফল হওয়ার জন্য কোনটি বেশি দরকার? শিক্ষা, ধৈর্য না কি ভাগ্য- হতে পারে সবই। আর এর সবক’টি যদি আপনি চেষ্টা করতে পারেন তাহলে আপনিও বিনিয়োগ করে অর্থ উপার্জন করতে পারবেন। আর সফল বিনিয়োগকারী হিসেবে যারা আইকন হয়ে ওঠেছেন তাদের মধ্যেই অন্যতম উদাহরণ স্থাপন করেছেন ফিলিপ এ. ফিশার।

ফিশার ছিলেন সবচেয়ে প্রভাবশালী বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অন্যতম একজন। তাঁর বিনিয়োগ তত্ত্ব এখনো ব্যাপকভাবে চর্চা করা হয় এবং বিনিয়োগের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হয়। তাঁর “Common Stocks and Uncommon Profits” পেশাদার বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি সর্বোত্তম দিক নির্দেশনাস্বরূপ। এছাড়া এটিই ছিল বিনিয়োগের ওপর রচিত প্রথম বই যা নিউইয়র্ক টাইমসে সর্বাধিক বিক্রিত পুস্তকের তালিকায় ছিল।

স্টক মার্কেটে বিনিয়োগের প্রবৃদ্ধিতে গঠনমূলক চিন্তাবিদ, অগ্রগামী হিসেবে তিনি নাম করতে পেরেছিলেন। কারণ ফিশারই প্রথম পেশাদার বিনিয়োগকারী হিসেবে ১৯২৯ সালে শেয়ার মর্কেটের বড় ধরনের ধস প্রত্যক্ষভাবে পর্যবেক্ষণ করেছিলেন। তাঁর দীর্ঘ ৭৪ বছরের কর্মজীবনে তিনি স্টক মার্কেটের প্রবৃদ্ধির নানা বৈচিত্রময় দিক থেকে অনেক কিছুই অর্জন করেছিলেন। তিনিই প্রথম ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ও প্রাইভেট ইক্যুইটির বিষয়ে প্রধান নির্বাহী হিসেবে পরামর্শ দিয়েছিলেন। এ বিষয়ে তিনি লিখেছিলেন এবং শিক্ষা দিয়েছিলেন। একজন পরামর্শদাতা, আদর্শ ও অনুপ্রেরণাকারী  হিসেবে কয়েক দশক ধরেই তিনি বড় মানের বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ‘বাবা হিসেবে” আখ্যায়িত হয়ে আসছেন।

fisher-2

ব্যক্তিগত জীবনী:  ১৯০৭ সালে ক্যালিফোর্নিয়ার সান ফ্রান্সিসকোতে ফিলিপ অর্থুর ফিশার জন্মগ্রহন করেন।১৯২৮ সালে ফিলিপ এ. ফিশারের কর্মজীবন শুরু হয়। তখন তিনি নবগঠিত Stanford Business School ছেড়ে সান ফ্রান্সিসকোর অ্যাংলো-লন্ডন ব্যাংকে একটি সিকিউরিটিজ এনালিস্ট হিসেবে যোগদান করেছিলেন। ১৯৩১ সালে “Fisher & Company’ নামে তাঁর নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় প্রতিষ্ঠান চালু করেন। প্রতিষ্ঠানটি চালু করার আগে তিনি অল্প কিছুদিনের মধ্যেই একটি স্টক এক্সচেঞ্জ ফার্মের দায়িত্ব পালন করেন। ৯১ বছর বয়স পর্যন্ত অর্থাৎ ১৯৯৯ সালে অবসর গ্রহনের আগ পর্যন্ত তিনি কোম্পানির সমস্ত বিষয়াদি নিজেই দেখভাল করেছেন। এই সময়ের মধ্যে তিনি তাঁর ক্লায়েন্টদের বিনিয়োগ থেকে কিভাবে মুনাফা অর্জন করা যায় সে সম্পর্কে অসাধারণ অভিজ্ঞতা অর্জন করেন।

“সিলিকন ভ্যালী” হিসেবে তাঁর নাম পরিচিতি লাভ করার পূর্বে দীর্ঘ পঞ্চাশ বছর কিছু উদ্ভাবনী কোম্পানির উন্নয়ন নিয়ে তিনি গবেষণা চালিয়েছিলেন। সে সময়ে তিনি দীর্ঘ-মেয়াদী বিনিয়োগ নিয়ে চর্চা করার পাশাপাশি যুক্তিসঙ্গত দামে কিভাবে বড় কোম্পানির শেয়ার কেনা যায় তাও আয়ত্ব করেছিলেন। তিনি একজন ব্যাক্তিত্বপূর্ন ব্যাক্তি ছিলেন। ক্লায়েন্ট নির্বাচনে তিনি যথেষ্ট সচেতন ছিলেন। ১৯৫৮ সালে তাঁর প্রথম বই পকাশ হওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি জনসাধারনের কাছে তেমন একটা সুপরিচিত ছিলেন না।

বিনিয়োগের ধরন: ফিশার ৭০ বছরেরও বেশি সময়ের পর তাঁর অর্থ ব্যবস্থাপনা ব্যবসায় চমৎকার রেকর্ড অর্জন করেছিলেন।দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগের পাশাপাশি কোম্পানিগুলোর উচ্চমানের প্রবৃদ্ধিসহ সুদক্ষ ব্যবস্থাপনার কারণেই এটা সম্ভব হয়েছিল বলে তিনি মনে করেন। উদাহরনস্বরূপ বলা যায় যে, তিনি ১৯৫৫ সালে তিনি মটরোলা বাইক কোম্পানির শেয়ার কিনেছিলেন এবং ২০০৪ সালে তাঁর মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি এটা বিক্রি করেননি।

তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ “fifteen points to look for in a common stock” ব্যবস্থাপনা গুনাবলী ও ব্যবসায়ের ধরন এ দুটি ক্যাটাগরিতে বিভক্ত করা হয়েছিল। তার দৃষ্টিতে,  ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে রক্ষণশীল হিসাব-নিকাশ ও সততা হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এতে দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ, আর্থিক নিয়ন্ত্রণ ও কর্মীদের নীতিগুলিকে সুসংগঠিত করার পাশাপাশি তাদের দৃষ্টিভঙ্গিরও পরিবর্তন ঘটানো যাবে বলে মনে করেন তিনি।

fisher-5

ফিলিপ ফিশার একটি কোম্পানির তথ্যের জন্য অনেক অনুসন্ধান করতেন। আপাতদৃষ্টিতে যাকে বলা হয় “scuttlebutt” অথবা “business grapevine” যেটা তাঁর পছন্দমতো একটা কৌশল ছিল।

তিনি “Common Stocks And Uncommon Profits” গ্রন্থে এই বিষয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে তাঁর দৃষ্টিকোণ থেকে  বর্ননা করেছেন যে, চমৎকার নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা ও সকল পরিচিতিই একটি কোম্পানিকে তথ্যবহুল করে তোলে। তিনি মনে করেন যে, গবেষণা পদ্ধতির কারনেই একটি কোম্পানির মূল্যায়ন আরো বেড়ে যায়।

 

প্রকাশনাসমূহ:

  • “Common Stocks And Uncommon Profits” by Phillip A. Fisher(1958)
  • “Conservative Investors Sleep Well” by Phillip A. Fisher (1975)
  • “Developing An Investment Philosophy” by Philip A. Fisher (1980)

বানী: ১. প্রচারমূলক কোম্পানিতে বিনিয়োগ করবেন না।

২. একটি ভালো শেয়ারকে অগ্রাহ্য করোনা কারন যেকোনো সময় এর থেকে মুনাফা আসবে।

৩. ত্রৈমাসিক প্রতিবেদন দেখেই বিনিয়োগের ঝুঁকি নিবেন না।

৪.যার বার্ষিক প্রতিবেদন আপনার কাছে ভালো লাগবেনা সেই শেয়ারে বিনিয়োগ করা ঠিক নয়।

৫. শেয়ারের দর প্রত্যাশিতহারে বাড়লে তা বিক্রি করে ফেলুন। যদিও আরও বাড়বে এমন ইঙ্গিত বহন করলেও তা ধরে রাখাটা বোকামি।

৬. আরো লাভের আশায় মানসিক চাপ নিবেন না।

৭. জনসাধারনের ছড়ানো গুজবে আতঙ্তিক হয়ে শেয়ার ক্রেয় করা যাবে না।

৮. প্রায়ই যে কোম্পানি বিনিয়োগকারীদের দৃষ্টি আকর্ষনের জন্য আর্থিক প্রতিবেদনে অসঙ্গতি করে থাকে সেই কোম্পানিতে বিনিয়োগ করা যাবে               না।

৯. একটি ভালো গ্রোথের শেয়ারে বিনিয়োগ করতে সময় নষ্ট করো না।

১০. অন্যকে অনুসরন করো না।

 

শেয়ারবাজারনিউজ/মা/ম.সা

আপনার মন্তব্য

Top