শেয়ারবাজারে ১০ কোম্পানির বিনিয়োগ এক হাজার ৬৯৪ কোটি টাকা

dse-cse-new-logoশেয়ারবাজার রিপোর্ট: পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ১০ জীবন বীমা কোম্পানি সেকেন্ডারি মার্কেটে মোট এক হাজার ৬৯৩ কোটি ৩৭ লাখ ৭৭ হাজার টাকার শেয়ার কিনেছে। বর্তমান বাজার দরে যার মূল্য দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৭৮০ কোটি ৭৯ লাখ ৭৮ হাজার টাকা। অর্থাৎ শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করে এ ১০ কোম্পানি ৮৭ কোটি ৪২ লাখ টাকা লোকসানে রয়েছে।

তবে এ ১০ কোম্পানির মধ্যে মাত্র দুটি কোম্পানি ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্স এবং ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্স শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করে মুনাফায় রয়েছে।

কোম্পানিগুলোর প্রকাশিত ৩১ ডিসেম্বর, ২০১৫ হিসাব বছরের নিরীক্ষা প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

উল্লেখ্য, পুঁজিবাজারে ১২টি জীবন বীমা কোম্পানি তালিকাভুক্ত রয়েছে। এর মধ্যে দুটি কোম্পানি পদ্মা ইসলামি লাইফ ও প্রগ্রেসিভ লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি বীমা নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন না পাওয়ায় বার্ষিক হিসাব নিরীক্ষা করতে পারেনি। বাকী ১০ কোম্পানি বার্ষিক নিরীক্ষা প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

৩১ ডিসেম্বর, ২০১৫ শেষে এ ১০ কোম্পানির মোট লাইফ ফান্ডের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৬ হাজার ৫৬৭ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। আর শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করেছে এক হাজার ৬৯৩ কোটি ৩৭ লাখ ৭৭ হাজার টাকা। অর্থাৎ লাইফ ফান্ডের ১০.২২ শতাংশ শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করেছে এ ১০ জীবন বীমা কোম্পানি।

প্রসঙ্গত, আইডিআরএ’র প্রস্তাবিত বীমা বিনিয়োগ প্রবিধান অনুযায়ী, সাধারণ ও জীবন বীমা উভয় শ্রেণির কোম্পানি তাদের বিনিয়োগযোগ্য অর্থ সিকিউরিটিজ, মিউচ্যুয়াল ফান্ড এবং ঋণপত্র অথবা অন্য সিকিউরিটিজে ৩ শ্রেণিতে আলাদা আলাদাভাবে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করতে পারবে। এ ক্ষেত্রে উভয় শ্রেণির বীমা কোম্পানি বিনিয়োগযোগ্য অর্থের সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ শেয়ারে, ২০ শতাংশ মিউচ্যুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ করতে পারবে। আর ঋণপত্র কিংবা অন্য সিকিউরিটিজের ক্ষেত্রে জীবন বীমা কোম্পানি ১০ শতাংশ এবং সাধারণ বীমা কোম্পানি ১৫ শতাংশ পর্যন্ত বিনিয়োগ করতে পারবে। শেয়ারে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে যে কোনো বীমা কোম্পানি স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত কোম্পানির অগ্রাধিকার বা সাধারণ শেয়ারে বিনিয়োগ করতে পারবে। তবে একটি কোম্পানিতে বিনিয়োগযোগ্য অর্থের ৫ শতাংশ এবং সংশ্লিষ্ট কোম্পানির পরিশোধিত মূলধনের ১০ শতাংশের বেশি বিনিয়োগ করা যাবে না। আর শেয়ারে পুঞ্জীভূত বিনিয়োগের পরিমাণ হবে মোট বিনিয়োগযোগ্য অর্থের সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ। কিন্তু প্রবিধানটি এখনও চূড়ান্ত করতে পারেনি আইডিআরএ। তাই ১৯৩৮ সালের বীমা আইন অনুযায়ী বর্তমানে জীবন বীমা কোম্পানিগুলো বিনিয়োগ করছে। আইন অনুযায়ী, জীবন বীমা গ্রহীতার অংশের ৩০ শতাংশ বিনিয়োগ থাকতে হবে সরকারি বন্ডে। বাকি ৭০ শতাংশ অন্যান্য ঝুঁকিমুক্ত খাতে। আইনে বলা হয়েছে, এই ৭০ শতাংশ যেখানেই বিনিয়োগ হোক না কেন, বীমা গ্রহীতাদের আর্থিক নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।

জানা যায়, শেয়ারবাজারে সবচেয়ে বেশি বিনিয়োগ করেছে ডেল্টালাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি। তারা সেকেন্ডারি মার্কেট থেকে মোট ৬১৭ কোটি ৬৬ লাখ ২৫ হাজার টাকার শেয়ার কিনেছে। বাজারমূল্যে বিনিয়োগের পরিমাণ ৮৯৪ কোটি ২০ লাখ ৪২ হাজার টাকায় দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ কোম্পানিটি শেয়ারে বিনিয়োগ করে ২৭৬ কোটি ৫৪ লাখ ১৬ হাজার টাকা মুনাফায় রয়েছে। এদিকে ২০১৫ সালে অর্থাৎ এক বছরে কোম্পানিটি মোট ৩৯ কোটি ৭৩ লাখ ৮৯ হাজার টাকার শেয়ার কিনেছে। বাজারমূল্যে যার দর দাঁড়িয়েছে ৩৮ কোটি ৪০ লাখ ২৭ হাজার টাকা।

শেয়ারবাজারে বিনিয়োগে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি। তারা মোট ২৫০ কোটি ১৯ লাখ ৬৭ হাজার টাকার শেয়ার কিনেছে। বর্তমান বাজার দরে যার মূল্য দাঁড়িয়েছে ২২৪ কোটি ৯১ লাখ ২২ হাজার টাকা। অর্থাৎ শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করে কোম্পানিটি ২৫ কোটি ২৮ লাখ ৪৫ হাজার টাকা লোকসানে রয়েছে।

বিনিয়োগের দিকে এরপর রয়েছে ফারইস্ট ইসলামি লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি। তারা সেকেন্ডারি মার্কেট থেকে মোট ২৪২ কোটি ৫১ লাখ ৭২ হাজার টাকার শেয়ার কিনেছে। বর্তমান বাজারে যার দর হয়েছে ১৬৭ কোটি ৫৯ লাখ ৫৩ হাজার টাকা। অর্থাৎ কোম্পানিটি শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করে ৭৪ কোটি ৯২ লাখ ১৯ হাজার টাকা লোকসানে রয়েছে।

এদিকে, সন্ধানি লাইফ ইন্স্যুরেন্স সেকেন্ডারি মার্কেট থেকে মোট ১৬৮ কোটি ৫৩ লাখ টাকার শেয়ার কিনেছে। বাজারমূল্যে যার দর হয়েছে ১৫৭ কোটি ৪৬ লাখ ৪২ হাজার টাকা। অর্থাৎ শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করে কোম্পানিটি ১১ কোটি টাকা লোকসানে রয়েছে।

প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্স সেকেন্ডারি মার্কেট থেকে মোট ৭৫ কোটি ৮৩ লাখ ৫০ হাজার টাকার শেয়ার কিনেছে। বাজারমূল্যে যার দর হয়েছে ৩৪ কোটি ৮৩ লাখ ৮৮ হাজার টাকা। অর্থাৎ শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করে কোম্পানিটি ৪১ কোটি টাকা লোকসানে রয়েছে।

ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্স সেকেন্ডারি মার্কেট থেকে মোট ১৫৫ কোটি ৪৩ লাখ ২৭ হাজার টাকার শেয়ার কিনেছে। বাজারমূল্যে যার দর হয়েছে ১৫৬ কোটি ৯৪ লাখ ৬৩ হাজার টাকা। অর্থাৎ শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করে কোম্পানিটি এক কোটি ৫১ লাখ ৩৬ হাজার টাকা মুনাফায় রয়েছে।

রূপালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স সেকেন্ডারি মার্কেট থেকে মোট ১৩ কোটি ৩১ লাখ টাকার শেয়ার কিনেছে। বাজারমূল্যে যার দর হয়েছে ১২ কোটি ৩৮ লাখ ১১ হাজার টাকা। অর্থাৎ শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করে কোম্পানিটি ৯২ লাখ ৯৩ হাজার টাকা লোকসানে রয়েছে।

মেঘনা লাইফ ইন্স্যুরেন্স সেকেন্ডারি মার্কেট থেকে মোট ২৯ কোটি ১৯ লাখ ৪২ হাজার টাকার শেয়ার কিনেছে। বাজারমূল্যে যার দর হয়েছে ২৮ কোটি ৫৮ লাখ ৯৬ হাজার টাকা। অর্থাৎ শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করে কোম্পানিটি ৬০ লাখ ৪৬ হাজার টাকা লোকসানে রয়েছে।

সানলাইফ ইন্স্যুরেন্স সেকেন্ডারি মার্কেট থেকে মোট ২৩ কোটি ৭৩ লাখ ৬৭ হাজার টাকার শেয়ার কিনেছে। বাজারমূল্যে যার দর হয়েছে ১৪ কোটি ২৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা। অর্থাৎ শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করে কোম্পানিটি ৯ কোটি ৪৯ লাখ ২৭ হাজার টাকা লোকসানে রয়েছে।

প্রাইম ইসলামি লাইফ ইন্স্যুরেন্স সেকেন্ডারি মার্কেট থেকে মোট ১১৬ কোটি ৯৬ লাখ ১৪ হাজার টাকার শেয়ার কিনেছে। কিন্তু বর্তমান বাজারমূল্যে শেয়ার ব্যবসায় কোম্পানিটি লোকসানে থাকার কারণে বিনিয়োগের বিপরীতে ২৭ কোটি ৩৩ লাখ ৯৫ হাজার টাকা প্রভিশনিং রাখতে হয়েছে।

এমন লোকসানের পেছনে নিজেদের অদক্ষতাকে দায়ী না করে শেয়ারবাজারের মন্দাভাবকে দায়ী করেছেন একাধিক জীবন বীমা কোম্পানির প্রধান নির্বাহীরা।

এ প্রসঙ্গে ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের একাধিক সদস্য শেয়ারবাজারনিউজ ডটকমকে জানান, বীমা কোম্পানির পাশাপাশি আরও অনেক প্রতিষ্ঠান শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করে লোকসানে রয়েছে। এর জন্য শেয়ারবাজারের মন্দাভাবই দায়ী।

শেয়ারবাজারনিউজ/আ

 

আপনার মন্তব্য

Top