আইপিও শেয়ার: পুঁজিবাজারের এই দুর্দশা কি কখনও কাটবে না?

Editorialএকটু লক্ষ্য করুন সেই সঙ্গে চিন্তা করুন, বর্তমানে পুঁজিবাজারে কি ধরনের কোম্পানি তালিকা ভুক্ত হচ্ছে। লক্ষ্য করলেই দেখতে পাবেনঃ

⇨ পলিথিন কোম্পানি ⇨ প্রিন্টিং কোম্পানি  ⇨ জুতার কোম্পানি ⇨পেপার মিল ইত্যাদি।

আমরা সবাই জানি বাজারে নুতন নুতন শেয়ার আসলে বাজারের গভীরতা বাড়ে। নুতন নুতন টাকা ঢুকে। কিন্তু একটু ঠাণ্ডা মাথায় চিন্তা করে দেখেন তো উপরে বর্ণিত কোম্পানিগুলো কি আদৌ বাজারের গভীরতা বাড়িয়েছে নাকি বাজারের ভীতকে আরও দুর্বল করে দিয়েছে। বিষয়টি অনেকটাই এমন যে রক্ত চুষা বাদুরের মতন। কোম্পানির সব কিছু চুষে খাওয়ার পর যে ছাল টুকু থাকে তা বিনিয়োগকারীদের ধরিয়ে দেয়ার জন্য পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তি হয়েছে।

২০১১ সাল থেকে চলতি বছরের ৬ এপ্রিল পর্যন্ত নির্দিষ্ট মূল্য পদ্ধতির (ফিক্সড প্রাইস মেথড) আইপিও প্রক্রিয়ায় মোট ৬১ কোম্পানি দেশের দুই শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৩৪ কোম্পানির শেয়ার লেনদেনের প্রথম দিনে সর্বোচ্চ যে দরে কেনাবেচা হয়েছিল, পরে কখনোই ওই দরে ফিরে যায়নি। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) থেকে প্রাপ্ত তথ্য পর্যালোচনায় এমন তথ্য মিলেছে।

এ ছাড়া গত পাঁচ বছরে আইপিওতে আসা অন্তত ২০ কোম্পানির শেয়ার বর্তমানে আইপিও ইস্যু মূল্যের তুলনায়ও কম দরে কেনাবেচা হচ্ছে। যা একটি পুঁজিবাজারের জন্য বেশ ভয়ংকর বিষয়। অনেক সময় এটাও শোনা যায় যে, এ সকল অপরিচিত কোম্পানি তালিকাভুক্ত হওয়ার জন্য বেশ বড় ধরনের তদবিরও করে থাকে। সে যাই হোক না কেন বিশেষজ্ঞরা আইপিও অনুমোদনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনকে (বিএসইসি) আরও সংবেদনশীল এবং সচেতন হতে হবে বলে মনে করেন। পুঁজিবাজারে যদি তালিকাভুক্ত করতে হয় তবে ভালো ভালো কোম্পানি তালিকাভুক্ত করার চেষ্টা করা উচিত। যেমনঃ- ⇨ বাংলালিংক ⇨ রবি ⇨এয়ারটেল ⇨ ইউনিলিভার বাংলাদেশ ⇨ মেটলাইফ ⇨ স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক ইত্যাদি। উল্লেখিত কোম্পানি ছাড়াও আরও অনেক কোম্পানি এই দেশে আছে যে গুলোর নাম শুনলেই বিনিয়োগকারীরা চিনতে পারে, এই ধরনের কোম্পানিগুলোকে বাজারে তালিকাভুক্ত করা উচিত। যা বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের গভীরতা বাড়িয়ে তুলার জন্য অপরিহার্য। এতে বাংলাদেশের বিনিয়োগকারীদের পাশাপাশি বিদেশী বিনিয়োগকারীরাও এই দেশের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের জন্য আগ্রহী হয়ে উঠবে। আর বাংলাদেশের পুঁজিবাজার এক নুতন উচ্চতায় গিয়ে দাঁড়াবে।

আপনার মন্তব্য

২ Comments

  1. selim ahmed said:

    therefore, we want more fundamental and multinational company in the IPO market for greater interest of looser/affected investors.

  2. sadek said:

    ধন্যবাদ , দারুন কিছু লিখেছেন, আবুল তাবুল কোম্পানির অনুমুদন দিয়ে শেয়ার বাজারকে লইট্ঠা মাছের বাজার বানিয়ে ফেলছে।

*

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Top