মূলধনের ঘাটতি পূরণ করতে বন্ড ছাড়তে চায় বেসিক ব্যাংক

basic-bank-logoশেয়ারবাজার রিপোর্ট: মূলধনের ঘাটতি পূরণ করতে সরকারের কাছে দুই হাজার ৬০০ কোটি টাকার বন্ড ইস্যু করতে চায় বেসিক ব্যাংক।  বিদ্যমান আর্থিক সংকট থেকে মুক্ত হওয়ার উপায় হিসেবে অর্থ মন্ত্রণালয়ে সম্প্রতি এক আবেদনে ব্যাংকটি এমন দাবি করেছে।

এদিকে, সরকার বন্ডের বিপরীতে ব্যাংকটিকে কোন প্রকার টাকা দেবে না বলে জানিয়েছে। বরং ব্যাংকটিকে বন্ডের সমপরিমাণ শেয়ার সরকারকে দিতে বলেছেন তারা।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে আবেদনে বেসিক ব্যাংক বলেছে, বর্তমানে ব্যাংকটির মূলধন ঘাটতি রয়েছে ২ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। যা বন্ডের মাধ্যমে পূরণ করা যাবে। আর এ বন্ড হতে পারে ২৬টি এবং প্রতিটি বন্ডের মূল্যমান হতে পারে ১০০ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংক নিজেই এ পথ বের করে দিয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যাংকের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা।

এমনকি বেসিক ব্যাংকের বন্ড ছাড়া নিয়ে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনও (বিএসইসি) এ ব্যাপারে আপত্তি করবে না বলে জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে বেসিক ব্যাংকের চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন এ মজিদ বলেন, ‘মূলধন ঘাটতি থাকায় আমরা এখন ব্যবসা করতে পারছি না। সরকার শুধু কাগজের বন্ড দিলে আমরাও খাতাপত্রে দেখাতে পারব যে আমাদের মূলধন ঘাটতি নেই। তখন ব্যবসা করতে পারব এবং ব্যাংকটিকে আগের জায়গায় নিয়ে যাওয়া শুধু সময়ের ব্যাপার।’

তিনি আরো বলেন, যদি বন্ড না দেয় তাহলে ব্যাংকটিকে বন্ধ করে দিতে হবে অথবা ব্যাংক পরিচালনার বন্দোবস্ত করতে হবে। ব্যাংকটিকে ভালোভাবে পরিচালনার জন্যই আমরা ২ হাজার ৬০০ কোটি টাকার বন্ড চেয়েছি।’

অন্যদিকে অর্থমন্ত্রনালয় সূত্রে জানা গেছে, অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত যুক্তরাষ্ট্র থেকে আগামী সপ্তাহে দেশে ফেরার পর এ ব্যাপারে তাঁর কাছে একটি সারসংক্ষেপ উপস্থাপন করা হবে।

জ্বালানি তেল কেনার জন্য বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনকে (বিপিসি) সরকার আগে যে গ্যারান্টি দিত, বেসিক ব্যাংককে ২ হাজার ৬০০ কোটি টাকার বন্ড দেওয়ার বিষয়টিও সে রকম হবে। আর টাকা দিতে হবে না বলেই বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করছে অর্থ মন্ত্রণালয়।

এদিকে ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, গত আগস্টে বেসিক ব্যাংকের পর্ষদে তিনটি বন্ডের প্রস্তাব করা হবে বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার কোটি টাকার একটি এবং ৮০০ কোটি টাকার সমমূল্যের দুটি বন্ড।

উল্লেখ্য, বেসিক ব্যাংক বরাবরই একটি লাভজনক ও ভালো ব্যাংক হিসেবে পরিচিত ছিল। কিন্তু ২০০৯ সালে আবদুল হাই বাচ্চুকে চেয়ারম্যান নিয়োগ দেওয়ার পর থেকেই এ ব্যাংকের অবস্থা খারাপ হতে থাকে। নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে ঋণের নামে ব্যাংকটি থেকে আবদুল হাই বাচ্চুর সময়কালে (২০০৯-১৪) প্রায় ৪ হাজার ২০০ কোটি টাকা বের করে নেওয়া হয়। এরপর মূলধন ঘাটতি পূরণে ব্যাংকটিকে কয়েক দফায় ২ হাজার ৩০০ কোটি দিয়েছে সরকার।

গত জুন পর্যন্ত বেসিক ব্যাংকে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়ায় ৬ হাজার ৭৫০ কোটি টাকা, যা মোট বিতরণ করা ঋণের অর্ধেকেরও বেশি।

এদিকে, গত বছরের ৭ জুলাই সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘ব্যাংকটিতে হরিলুট হয়েছে। আর এর পেছনে ছিল ব্যাংকটির সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল হাই বাচ্চু। এখন তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আর কোনো সমস্যা হবে না।’

তবে এখন পর্যন্ত আবদুল হাই বাচ্চুর বিরুদ্ধে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার কথা শোনা যায়নি।
শেয়ারবাজারনিউজ/এম.আর

আপনার মন্তব্য

Top