শেয়ারে রাষ্ট্রায়ত্ত্ব চার ব্যাংকের বিনিয়োগ প্রায় ২৪০০ কোটি টাকা

BANK1429448892শেয়ারবাজার রিপোর্ট: পুঁজিবাজারে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন চার ব্যাংকের মোট বিনিয়োগ ২ হাজার ৩৮৩ কোটি ১১ লাখ টাকা। সেকেন্ডারি মার্কেটে বাজারমূল্যে এ বিনিয়োগের পরিমাণ হয়েছে ২ হাজার ৩৪৭ কোটি ৮ লাখ ৭০ হাজার টাকা।

এর মধ্যে শেয়ারে বিনিয়োগ করে জনতা এবং রূপালী ব্যাংক মুনাফায় রয়েছে। তবে সোনালী এবং অগ্রণী ব্যাংক লোকসানে রয়েছে। এর জন্য ব্যাংক দুটিকে লোকসানের বিপরীতে ২০ শতাংশ করে সঞ্চিতি রাখতে হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

এদিকে, শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ ঝুঁকিপূর্ণ এমন স্লোগানে ব্যাংক কোম্পানি আইনে পুঁজিবাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগ সীমা পরিশোধীত মূলধন, রিটেইন আইর্নং ও সংবিধিবদ্ধ সঞ্চিতির ২৫ শতাংশ বেঁধে দেয়। এমন আইনের প্রেক্ষিতে ব্যাংকগুলোকে বিপুল পরিমাণ শেয়ার বিক্রি করতে হয়েছে। এতে পুঁজিবাজারে সূচকের পতন ঘটে। এমন অবস্থায় শেয়ারবাজারকে বাঁচাতে পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টদের দাবীর মুখে দেরিতে হলেও এ সঙ্কটের সমাধান করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এমন পরিস্থিতির মধ্যেও সোনালী ব্যাংক ২০১৫ বছরে ১১ কোটি ৩১ লাখ ১৬ হাজার টাকার শেয়ার কিনেছে। রূপালী ব্যাংক কোন শেয়ার বিক্রি করেনি। তবে অন্য দুটি ব্যাংক জনতা ব্যাংক ৪২ কোটি ৬ লাখ ৪৪ হাজার টাকা এবং অগ্রণী ব্যাংক ৬ কোটি ৮৮ লাখ ৮৮ হাজার টাকার শেয়ার বিক্রি করেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, সেকেন্ডারি মার্কেটে সোনালী ব্যাংক মোট ৪৭৮ কোটি ৭২ লাখ টাকার শেয়ার কিনেছে। বাজারমূল্যে এ বিনিয়োগের পরিমাণ হয়েছে ৩০২ কোটি ৭১ লাখ ৯৭ হাজার টাকা। দেখা যাচ্ছে, শেয়ারে বিনিয়োগ করে ব্যাংকটি ১৭৬ কোটি টাকা লোকসানে রয়েছে। এর ২০ শতাংশ টাকা তাকে সঞ্চিতিও রাখতে হয়েছে।

জনতা ব্যাংক মোট ৭৩৭ কোটি ৫২ লাখ ৫৪ হাজার টাকার শেয়ার কিনেছে। বাজারমূল্যে এ বিনিয়োগের পরিমাণ হয়েছে ৯৬৭ কোটি ৩ লাখ ৮৭ হাজার টাকা। দেখা যাচ্ছে, শেয়ারে বিনিয়োগ করে ব্যাংকটি ২২৯ কোটি ৫১ লাখ ৩৩ হাজার টাকা মুনাফায় রয়েছে।

অগ্রণী ব্যাংক মোট ৯৮৯ কোটি ৫০ লাখ ৭৪ হাজার টাকার শেয়ার কিনেছে। বাজারমূল্যে এ বিনিয়োগের পরিমাণ হয়েছে ৬৯২ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। দেখা যাচ্ছে, শেয়ারে বিনিয়োগ করে ব্যাংকটি ২৯৬ কোটি ৫৬ লাখ ৬৯ হাজার টাকা লোকসানে রয়েছে।

রূপালী ব্যাংক মোট ১৭৭ কোটি ৩৫ লাখ ৭৯ হাজার টাকার শেয়ার কিনেছে। বাজারমূল্যে এ বিনিয়োগের পরিমাণ হয়েছে ৩৮৪ কোটি ৩৮ লাখ ৮০ হাজার টাকা। দেখা যাচ্ছে, শেয়ারে বিনিয়োগ করে ব্যাংকটি ২০৭ কোটি টাকা মুনাফায় রয়েছে।

ব্যাংকগুলোর উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ২০১৫ বছরে শেয়ারবাজার অস্থিতিশীল ছিল। তাই সূচকে নেতিবাচক প্রভাব ছিল। এ জন্য বিনিয়োগে লোকসানের ঝুঁকি বেশি ছিল।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক উর্ধ্বতন কর্মকর্তা শেয়ারবাজারনিউজ ডটকমকে বলেন, ব্যাংকগুলো আমানতের টাকা বিনিয়োগ করে। আর শেয়ারবাজারে বিনিয়োগে লোকসানের ঝুঁকি রয়েছে। তাই আমরা শেয়ারবাজারে ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি।

শেয়ারবাজারনিউজ/আ

আপনার মন্তব্য

*

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Top