অর্থ পাচার ঠেকাতে মাঠে নামছে বিএসইসি

bsec-bbশেয়ারবাজার রিপোর্ট: পুঁজিবাজার থেকে অর্থ পাচার ও সন্ত্রাসী অর্থায়ন ঠেকাতে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ এবং সন্ত্রাস দমন আইন কতটা পরিপালন করছে, তা যাচাই করতে মাঠপর্যায়ে তদন্তে নামছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। আর এ কাজে নেতৃত্ব দিবে বাংলাদেশ ব্যাংক।

একইভাবে ব্যাংকের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক, বীমা খাতে আইডিআরএ এবং ক্ষুদ্রঋণ খাতে এমআরএ এই তদন্ত করবে। কোনো ধরনের অনিয়ম পাওয়া গেলে প্রতিষ্ঠানকে জরিমানাও করবে সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থা। সম্প্রতি অর্থ পাচার ও সন্ত্রাসী অর্থায়ন শীর্ষক অনুষ্ঠিত সভায় আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সভাটির আয়োজন করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

বিএসইসি’র মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক মো: সাইফুর রহমান শেয়ারবাজারনিউজ ডটকমকে বলেন, পুঁজিবাজার থেকে অর্থ পাচার রোধে কমিশন সচেতন রয়েছে। আমাদের সার্ভেইল্যান্স বিভাগ সন্দেহজনক লেনদেন খতিয়ে দেখছে। অর্থ পাচার ও সন্ত্রাসী অর্থায়ন একটি বৈশ্বিক সমস্যা। তাই এধরণের অপকর্ম বন্ধে পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে কমিশন আর্থিক খাতের অন্য নিয়ন্ত্রকদের সাথে সমন্বয় করে কাজ করছে।

জানা যায়, এতদিন মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধ কার্যক্রম তদারকি করত বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টিলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। যার অধিকাংশই ছিল অফসাইট সুপারভিশন। কিন্তু এখন বিএফআইইউর পাশাপাশি নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর পরিদর্শক দল সরেজমিন তদন্ত করবে। আর অনিয়মের জন্য জরিমানা করার ক্ষমতা ছিল একমাত্র বিএফআইইউর।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ও বিএফআইইউ প্রধান আবু হেনা মো. রাজী হাসান শেয়ারবাজারনিউজ ডটকমকে বলেন, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ও সন্ত্রাস দমন আইন অনুযায়ী এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোকে সুপারভিশন ও মনিটর করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এজন্য বিধিও করা হয়েছে। বিএফআইইউর যে পরিধি, তাতে পুরো আর্থিক খাতে পরিদর্শন করা সংস্থাটির পক্ষে সম্ভব নয়। এজন্য আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো তাদের অধীন প্রতিষ্ঠানে পরিদর্শন করে আইন কতটা পরিপালন হচ্ছে তা দেখবে।

তিনি আরও বলেন, মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধ কার্যক্রম তদারকির প্রত্যেকটি নিয়ন্ত্রক সংস্থার আলাদা একটি বিভাগ থাকবে। এজন্য বিএফআইইউর বাইরে কেন্দ্রীয় ব্যাংকেও একটি আলাদা উইং গঠন করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়মিত পরিদর্শন বিভাগের অধীনেই এটি কাজ করবে। এই পরিদর্শকরা কীভাবে পরিদর্শন করবেন, তার একটি চেক লিস্টও তৈরি করা হয়েছে। একইভাবে সব নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে তাদের সাধারণ কার্যক্রমের আওতায় এই পরিদর্শন পরিচালনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, মাঠপর্যায়ে তদন্তে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর পরিদর্শক দল রিপোর্টযোগ্য নগদ লেনদেনকে (সিটিআর) রিপোর্ট ঠিকমতো দাখিল করা হচ্ছে কি-না এবং সিটিআরে ভুল তথ্য দেওয়া হচ্ছে কি-না তা দেখবে। আইন অনুযায়ী ১০ লাখ বা তার বেশি টাকা লেনদেন হলে ওই লেনদেনটি সিটিআর হিসেবে বিএফআইইউকে জানাতে হয়। এ ছাড়া ২০০২ সালের ৩০ এপ্রিলের পরে খোলা হিসাবে গ্রাহক পরিচিতির সঠিক ও পূর্ণাঙ্গ তথ্য (কেওয়াইসি) সংগ্রহ করা হয়েছে কি-না তা দেখা হবে। ২০০২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বরের আগের হিসাব সুপ্ত হিসাব হিসেবে দেখানো হয়েছে কি-না এবং এসব হিসাব থেকে কোনো গ্রাহককে অর্থ উত্তোলনের সুবিধা দেওয়া হয়েছে কি-না তা যাচাই করা হবে। সন্দেহজনক লেনদেন (এসটিআর) হয়ে থাকলে সেটি এসটিআর হিসেবে রিপোর্ট করা হয়েছে কি-না দেখা হবে।

প্রসঙ্গত, ২০০২ সালে প্রথম মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন করা হয়। ২০০৯ সালে করা হয় সন্ত্রাস দমন আইন। দুটো আইনই ২০১২ সালে সংশোধন করে আরও যুগোপযোগী করা হয়েছে। ওই আইনের আওতায় ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বীমা প্রতিষ্ঠান, ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠান, পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ও লেনদেনকারী প্রতিষ্ঠানসহ আরও বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে রিপোর্টিং এজেন্সি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধে বাংলাদেশ আগের তুলনায় উন্নতি করেছে। এশিয়া প্যাসিফিক গ্রুপ অব মানি লন্ডারিংয়ের (এপিজি) সর্বশেষ মূল্যায়নে মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধে বাংলাদেশ এক ধাপ এগিয়ে গ্রে লিস্ট থেকে হোয়াইট লিস্টে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। যদিও পানামা পেপারস ও সুইস ব্যাংকের প্রকাশিত প্রতিবেদনে বাংলাদেশ থেকে অর্থ পাচার হওয়ার তথ্য উঠে এসেছে।

শেয়ারবাজারনিউজ/আ

আপনার মন্তব্য

Top